FASHON
  • ই-শপ I বাংলার গঞ্জি

    প্রচলিত উক্তিখচিত টি-শার্ট। ইতিহাসের কথা, স্মরণীয় বাণীও বাদ থাকছে না। নগরতারুণ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে এই পরিধেয়। কেবল অনলাইন শপেই এটি পাওয়া যায়

    ‘মুখের ভাষা বুকের ভাষা’ এমনটাই স্লোগান ‘বাংলার গঞ্জি’র। অনলাইন টি-শার্ট শপ। যেখানে মেলে সমকালীন জীবনে প্রচলিত নানান উক্তির টি-শার্ট। নগরতারুণ্যের মুখের ভাষাই এগুলোর প্রতিপাদ্য। ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী প্রজন্ম এগুলোর প্রধান ক্রেতা। তবে ১৬ থেকে ৬০ বয়সীদের শরীরেও শোভা পায় বাংলার গঞ্জি।
    মোহাম্মদ ইয়ারুজ্জামান ও স্যাম জাহান এর উদ্যোক্তা। আনিসুল হক নামের একজনও যুক্ত ছিলেন কিছুদিন। বর্তমানে কানাডাপ্রবাসী ইয়ারুজ্জামান পেশায় গ্রাফি

    ক ডিজাইনার। বাংলা টাইপোগ্রাফি নিয়ে কাজ করতেন। ২০১৫ সালের শুরুর দিকের কথা, একদিন তার কাছে আসেন স্যাম। সাংবাদিক। প্রথমে অদ্ভুত কিছু টি-শার্ট বানাতে বললেন বাংলা টাইপোগ্রাফি দিয়ে। এর প্রথম ডিজাইন ‘আগে লেবেলে আয় তারপর ফাঁপর ল’। স্যাম জাহানের এই অদ্ভুত ডায়ালগ দিয়ে টাইপোগ্রাফি ও ডিজাইন করা হয়। তারপর কয়েকটি টি-শার্ট তৈরিও করা হয়। বাণিজ্যের ভাবনা নয়, স্রেফ আনন্দের জন্য। লক্ষ্য, নিজেদের ভাবনা, ভাষা শরীরে নিয়ে ঘুরে বেড়ানো। একটি টি-শার্ট উপহার দেয়া হয় অর্থহীন ব্যান্ডের সুমনকে। তিনি পরলেন আর বললেন- ‘চলো, লেবেলে আসা উপলক্ষে একটা ছবি তুলি।’ তিনজন মিলে ছবি তুললেন, তারপর সেটি আপলোড করলেন ফেসবুকে। ফলে দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়লো। অনেকেই নক করতে লাগলেন। ইয়ারুজ্জামানের ভাষায়, ‘একপর্যায়ে বেশ ভালোই প্রেশারে রূপ নেয়। সবার এই টি-শার্ট চাই। তখন স্যামও বললো কিছু টি-শার্ট বাল্ক আকারে বানিয়ে সেল করতে। আমি চ্যালেঞ্জ নিলাম।’
    ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল বাংলার গঞ্জির যাত্রা হলো ৪টি ডিজাইনের টি-শার্ট নিয়ে- ‘মনু ডাইলে লবণ দেছ?’, ‘ইউ হ্যাভ টু বুঝতে হবে’, ‘আগে লেবেলে আয় তারপর ফাঁপর ল’, ‘মাইরালা আম্রে মাইরালা।’
    উদ্যোক্তারা শুরুতেই সিদ্ধান্ত নেন ফিজিক্যাল শপে নয়, বিক্রি হবে ফেসবুকের মাধ্যমে। কিন্তু ক্রেতার চাপ সামলাতে কিছুদিনেই সে পথ বন্ধ হয়। খোলা হয় ওয়েবসাইট www.banglargonji.com। ২০১৫ সালের শেষের দিকে। এখনো ই-কমার্সেই আছে প্রতিষ্ঠানটি।
    শুধু অনলাইনে বিকিকিনি কতটা চ্যালেঞ্জিং? ইয়ারুজ্জামান বললেন, ‘সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ, বাংলাদেশের মানুষ প্রডাক্ট না দেখে কিনতে অভ্যস্ত না। অনলাইন শপিংয়ে তাদের ভয়াবহ অ্যালার্জি। কিন্তু আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত থেকে একচুলও সরে আসিনি। বাংলার গঞ্জি কেনার একমাত্র উপায় অনলাইনে অর্ডার। আজও তাই মেইনটেইন করা হচ্ছে। প্রডাক্ট কোয়ালিটি কেমন, হাতে ধরে দেখলাম না! এই চ্যালেঞ্জও আজ উতরে গেছি। কখনো নিম্নমানের প্রডাক্ট দেয়ার চেষ্টা করিনি। আজ আর কাউকে বলতে হয় না বাংলার গঞ্জির প্রডাক্ট কেমন। মনে হয় এটাই আমাদের বিশাল একটা অর্জন।’
    ডিজাইনের মাধ্যম হিসেবে কেন ডায়ালগ? ইয়ারুজ্জামানের কথা, ‘বাংলাদেশের মানুষ তাদের জীবনযাত্রায় সব সময় একটা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যায়। আমি দেখেছি তাদের জীবনের একটা বড় অংশই কাটে ডিপ্রেসড কন্ডিশনের মধ্য দিয়ে। তারা এই স্ট্রেস রিলিজ করে চারপাশের নানা অসংগতি নিয়ে, বিদ্রূপ ঠাট্টা-তামাশা করে। প্রকাশের এই ধরনটা খুবই শক্তিশালী। আপনি একে উপেক্ষা করতে পারবেন না। এই ব্যাপারটা বোধ হয় বাংলাদেশেই ইউনিক।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই আর জয় বাংলা- এই দুটি স্লোগান দিয়েই একটা রাষ্ট্র স্বাধীন হয়েছে। আপনি ভাবতে পারেন, এই ভাষার এক্সপ্রেশন কতোটা শক্তিশালী! আমরা এই এক্সপ্রেশনকেই বেছে নিয়েছি টি-শার্টের জন্য। এ দেশের আপামর মানুষও হয়তো এমন কিছুই খুঁজছিল। আগে মুখে ছিল, এখন তারা সেটা তাদের বুকেও খুঁজে পেয়েছে। এ জন্যই আমাদের স্লোগান- মুখের ভাষাই বুকের ভাষা।’
    শুরুটা কেবল ডায়ালগ-নির্ভর টি-শার্ট নিয়ে হলেও কালে কালে এতে যোগ হচ্ছে বাংলার ইতিহাস, উপলব্ধি, অর্জন, ভালো লাগা ইত্যাদি। জয় বাংলা, বাংলাদেশ, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, মেহেরপুর (স্বাধীন বাংলার প্রথম সরকার গঠিত হয় এই শহরে) ইত্যাদি টি-শার্টগুলো ইতিহাসভিত্তিক। তবে প্রাধান্য পায় হিমোরাস, চটুল, হাস্যরসাত্মক, অন্তর্নিহিত বাণীসংবলিত কিংবা একেবারেই সিম্পল বাংলা টাইপোগ্রাফির টি-শার্ট। কালার ভেরিয়েশন নিয়ে শুরুতে কাজ হলেও বাংলাদেশের মানুষ টি-শার্টে ডার্ক কালার পছন্দ করে। তাই ক্রেতার পছন্দের ডার্ক কালারই এখন প্রাধান্য পাচ্ছে। নিয়মিত নতুন ডিজাইনের টি-শার্ট নিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ৪০টির মতো ডিজাইনের টি-শার্ট রয়েছে। ঈদের আগে যোগ হবে আরও কিছু। পাশাপাশি টি-শার্ট, হুডি ও ক্যাপের সঙ্গে এর প্রডাক্ট লাইনে যোগ হচ্ছে পোস্টার ও নানান স্যুভেনির আইটেম। প্রতিষ্ঠানটি স্মল, মিডিয়াম, লার্জ, এক্সেল, ডাবল এক্সেল ও ট্রিপল এক্সেল- এই ছয় সাইজের টি-শার্ট সরবরাহ করে থাকে। দামও নাগাল পেরোনো নয়: ক্যাপ ২৮০ টাকা, টি-শার্ট ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ও হুডি ৫৮০ টাকা।
    ভবিষ্যৎ নিয়ে আগাম পরিকল্পনা নেই বাংলার গঞ্জির। তবে কীভাবে ভোক্তাকে না ঠকিয়ে নিয়মিত ভালো পণ্য সরবরাহ করা যায়, সেই চেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানান উদ্যোক্তারা। স্যাম জাহান বলেন, ‘মানুষ যত দিন আমাদের সহ্য করতে পারবে, তত দিন আমরা থাকবো। বাংলার গঞ্জি আমাদের রুটিরুজির কোনো বিষয় নয়। একদিন মজা করে যে বিষয়টার শুরু করেছিলাম, সেটা আজ বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে গেছে। অদ্ভুত একটা দায়ে জড়িয়ে গেছি।’

     ফ্যাশন ডেস্ক
    মডেল: কায়জার
    মেকওভার: পারসোনা
    ওয়্যারড্রোব: বাংলার গঞ্জি
    ছবি: তানভীর খান


    Subscribe & Follow

    JOIN THE FAMILY!

    Subscribe and get the latest about us
    TRAVELS
    LIFESTYLE
    RECENT POST
    ময়লার রঙে
    23 November, 2017 2:18 am
    ভিক্টোরিয়া
    23 November, 2017 1:48 am
    রিচম্যানে রিচ
    23 November, 2017 12:10 am
    BANNER SPOT
    200*200
    SOLO PINE @ INSTRAGRAM
    FIND US ON FACEBOOK