FASHON
  • ই-শপ I ছয় গজের বৃত্তান্ত

    ভার্চ্যুয়াল ও বাস্তবের ব্যবধান ঘুচিয়েছে সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি। গয়নার এই অনলাইন দোকান স্থান করে নিয়েছে সমকালীন দেশীয় ফ্যাশনের বাজারে

    ফেসবুকভিত্তিক অনলাইন জুয়েলারি শপ ‘সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি’। এর আবির্ভাব বেশ চমকপ্রদ। শুরুতে তাঁতের শাড়ি বিক্রির উদ্দেশ্যে ২০১২ সালের নভেম্বরে ফেসবুক পেজটি খুলেছিলেন উদ্যোক্তা লোরা খান। নাম দিয়েছিলেন ‘ছয় গজের গল্প’। কাজের সূত্রেই শাড়ির ছবি তোলার সময় মডেলদের নিজের ডিজাইনে অর্ডার দিয়ে বানানো কিংবা নিজের তৈরি কিছু গয়না পরিয়ে দেন। মজার ব্যাপার হলো, ফেসবুকে পোস্ট করার পর শাড়ির পরিবর্তে অনেকে গয়নাগুলোর দাম, প্রাপ্তিস্থান জানতে চান। ব্যক্তিগত জেনেও প্রায়ই এমন গয়না বানিয়ে দেয়ার অনুরোধ পেতে থাকেন লোরা। কয়েকজনের অনুরোধ তিনি এড়াতে পারেনি। তবে দিনের পর দিন চাপ বাড়তে থাকে। ২০১৩ সালের শেষে এসে লোরা সিদ্ধান্ত নেন, অনেকের কাছে যেহেতু তার বানানো গয়না সমাদৃত হচ্ছে, এটি নিয়েই কাজ করবেন। সেই শুরু। বছর চারেক সময়ের ব্যবধানে সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি এখন গয়না ফ্যাশনে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে।
    লোরা পড়ালেখা করেছিলেন স্থাপত্যবিদ্যায়। সে জন্যই সম্ভবত ডিজাইনিংয়ের প্রতি তার ঝোঁক। পুরোনো দিনের গয়নার ডিজাইনগুলো তাকে বেশি আকর্ষণ করে। অনুপ্রেরণা পেতে তাই পুরোনো দিনের বিয়ের ছবি ও বাংলা ছবি দেখা শুরু করেন। অবাক হয়ে আবিষ্কার করলেন, তখনকার দিনে গয়নায় যে সূক্ষ্ম নকশা থাকতো, তা রীতিমতো অবাক হওয়ার মতো! সেই ডিটেইলকে সঙ্গী করে আর বাঙালিয়ানাকে আঁকড়ে ধরে শুরু করলেন গয়না ডিজাইনের কাজ। নিজের মতো করে। আধুনিকতা ও বাঙালিয়ানার মিশেলে। শাড়ির পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গেও যাতে এসব গয়না ব্যবহার করা যায়, ডিজাইনে সেদিকেও রাখা হয় বিশেষ খেয়াল। চমক আছে এসব গয়নার নামকরণেও। জালি পাতা আংটি, আগুন বালা, ময়ূর আংটি, তিনটা ফোঁটা, হাঁসুলি- আরও কতো নাম!
    ২০১৩ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত তিন শ’র বেশি ডিজাইনের গয়না তৈরি করেছেন লোরা। মূলত তামার উপরে রুপার পাতের গয়না তৈরি করেন। শুরুতে শুধু নিজের ডিজাইনের গয়না বিক্রি করলেও এখন ক্রেতাদের দেয়া কাস্টমাইজড ডিজাইন নিয়েও কাজ করছেন। সাইজ আর ডিটেইলের ওপর ভিত্তি করে যেগুলো তৈরিতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগে। এখন বিয়ে এবং গায়েহলুদের জন্যও স্পেশালাইজড গয়না তৈরি করছে সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি। সাধারণত এক মাস সময় হাতে নিয়ে এ ধরনের অর্ডার গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটি।
    সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও চায়না জুয়েলারিতে সয়লাব গয়নার বাজারে পুরোনো দিনের স্টাইল অনুসরণ করে সাড়া পাচ্ছেন কেমন? লোরা খান বলেন, ‘যতই বিদেশি গয়নায় ভরপুর থাকুক না কেন বাজার, আমাদের দেশি গয়নার নির্মাণশৈলীতে যে ইউনিক প্যাটার্ন থাকে, তার চাহিদা কখনোই কমবে না। আর আমি আমার ডিজাইনে পুরোনোর সঙ্গে আধুনিকতার মিশ্রণ ঘটানোতে খুব ভালোই সাড়া পাচ্ছি।’
    দেশীয় সংস্কৃতি, আধুনিকতা, নিখুঁত-নিপাট কাজ- এই তিনের সমন্বয়ে নজরকাড়া সব জুয়েলারি উপহার দিয়ে যাচ্ছেন লোরা। তার সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরির বদৌলতে। মূলত তার করা ডিজাইনের প্রভাবে এখন গয়নার ফ্যাশনে বেশ উল্লেখযোগ্য এক পরিবর্তন এসেছে। এই ধারায় গয়না তৈরি করছেন আরও অনেকেই। তবে অনলাইন এক শপ যে ফ্যাশন জগতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে, তারই উজ্জ্ব¡ল উদাহরণ লোরা ও সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি! এর ফেসবুক আইডি: www.fb.com/6ystory

     সাখাওয়াত হোসেন সাফাত
    মডেল: সাদিয়া
    মেকওভার: পারসোনা
    ছবি: তানভীর খান
    জুয়েলারি: সিক্স ইয়ার্ডস স্টোরি


    Subscribe & Follow

    JOIN THE FAMILY!

    Subscribe and get the latest about us
    TRAVELS
    LIFESTYLE
    RECENT POST
    জিওমেট্রিক
    23 July, 2017 10:30 pm
    একঝলক
    23 July, 2017 5:39 pm
    BANNER SPOT
    200*200
    SOLO PINE @ INSTRAGRAM
    FIND US ON FACEBOOK