FASHON
  • ফিচার I আবায়ায় আধুনিক

    মুসলিম নারীর পোশাক। নতুনত্ব ও বৈচিত্র্যে স্থান করে নিয়েছে ফ্যাশনে। ডিজাইনারদের চেষ্টায়

    আরবি শব্দ ‘আবাইয়াহ’ থেকে আবায়া শব্দের উৎপত্তি। কোথাও কোথাও আবা নামেও পরিচিত। বাংলায় যার অর্থ আলখাল্লা, জোব্বা বা ছদ্মবেশের পোশাক। ডিজাইনটি রোবের মতোই, যাতে শরীরের আগাগোড়া ঢাকা থাকে। আরব ছাড়াও উত্তর আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান দেশে এ পোশাক পরা হয়। আবায়া ফ্যাশনের ইতিহাস খুব প্রাচীন। ধারণা করা হয়, চার হাজার বছর আগে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় শুরু হয়েছিল এ পোশাকের প্রচলন। পরে এটি হয়ে ওঠে বিশ্বের বেশির ভাগ মুসলমান নারীর ধর্ম ও সংস্কৃতির পরিচয় বহনকারী পোশাক। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীর মর্যাদা ছাপিয়ে আবায়া সৃষ্টি করে খুব শালীন আর স্টাইলিশ একটি লুক। এ পোশাক অনেকটা স্কুল ড্রেসের মতো, যা পরলে সব নারীকে দেখতে প্রায় একই রকম লাগে। তাই কেউ কেউ একে নারীর মধ্যকার বৈষম্য দূর করার পোশাক বলেও অভিহিত করে থাকেন। ট্র্যাডিশনাল আবায়া সাধারণত কালো রঙের হয়। কাঁধের কাছ থেকে স্কয়ারশেপে কাপড়ের ভাঁজ কুঁচি হয়ে নেমে আসে নিচের দিকে। অনেকটা লং কাফতান স্টাইল এ পোশাকে ঢাকা পড়ে পুরো শরীর- মাথা, পা ও হাত ছাড়া। নিকাব বা হিজাবের সঙ্গে এটি পরা হয়। আবার কোনো কোনো নারী এর সঙ্গে দীর্ঘ কালো গ্লাভস পরেন, যাতে তাদের হাত ঢাকা পড়ে পুরোপুরি।
    ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ান নারীর ট্র্যাডিশনাল পোশাক ‘কেবায়া’র নামকরণ হয়েছে আবায়া থেকে। অবশ্য আরব দেশগুলো ছাড়া এমনকি সৌদি আরবেও মুসলমান নারীর মধ্যে আবায়া প্রচলিত নয়। ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তানে দেখা যায় না বললেই চলে। ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হিসেবে বোরকার পরিবর্তে কেউ কেউ পরলেও এটি সেই অর্থে জনপ্রিয় নয়। আবায়া তৈরিতে বিভিন্ন দেশে একেক ফ্যাব্রিক ব্যবহার করা হলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে এর রঙ একটাই- কালো। তবে টার্কিশ আবায়া এর থেকে ভিন্ন। বেশ কালারফুল আর গর্জাস হয় সেগুলো। কালের বিবর্তনে এর ফ্যাশনে নানা পরিবর্তন এসেছে, যোগ হয়েছে নতুন নতুন অনুষঙ্গ। তবে পোশাকটির উদ্দেশ্য থাকছে একই- ঢেকে রাখা। এটি তৈরিতে ফ্লোয়িং ফ্যাব্রিকগুলো জনপ্রিয়। যেমন ক্রেপ, জর্জেট ও শিফন। এর বেসিক স্টাইল দুটি। ফ্রন্ট ওপেন অর্থাৎ সামনে খোলা এবং ফ্রন্ট ক্লোজড, মানে সামনে বন্ধ। প্রদেশ ও অঞ্চলভেদে স্টাইলেও ভিন্নতা দেখা যায়। রঙ কালো, তার উপর নানা রকম এম্ব্রয়ডারি। তবে আজকাল নানা ধরনের আর্টওয়ার্ক সংবলিত উজ্জ্বল রঙা আবায়াই ট্রেন্ডি। এটি হালকা রঙা হয় না বললেই চলে। খুব গাঢ় রঙ, যেমন- ফুশিয়া, লেবুসবুজ, সোনালি, গোলাপি, কালচে সবুজ, নীল, ছাই, আকাশি ইত্যাদি জনপ্রিয়।
    ডিজাইনের দিক থেকে ফ্যাশন বিশ্লেষকেরা একে তিন ভাগে ভাগ করেছেন। ট্র্যাডিশনাল, মডার্ন এবং কতুর স্টাইল। এতে ভ্যালু অ্যাড করার জন্য এমবেলিশমেন্ট হিসেবে এম্ব্রয়ডারি ছাড়াও যোগ করা হয় নানা রকম পাথর, লেস ও সুতার কাজ। একজন নারী কী ধরনের আবায়া পরছেন,

     তা মূলত নির্ভর করে তিনি আসলে কোন দেশে বসবাস করছেন, তার ওপর। বলা যায়, গত কয়েক বছরে ফ্যাশনবিশ্বে এটি রীতিমতো আসন গেড়ে বসেছে। মূলত মুসলিম ওয়েবসাইট, ব্লগ, ফ্যাশন ম্যাগাজিন এবং বিশেষত ডিজাইনারদের কল্যাণে এই জনপ্রিয়তা। একে আরও কত আড়ম্বরপূর্ণ, বিলাসবহুল ও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, তা নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। আজকাল নামিদামি ফ্যাশন শোগুলোতেও মডেলদের এই পোশাক নিয়ে ক্যাটওয়াক করতে দেখা যায়। যেখানে প্রদর্শন করা হয় বেসিক আবায়া স্টাইল থেকে শুরু করে অভিজাত আবায়া। ডিজাইনাররা এই ট্র্যাডিশনাল মুসলিম পোশাককে আধুনিক নারীর জন্য কীভাবে আরও স্টাইলিশ ও চমকদার করে তোলা যায়, তা নিয়ে পর্যালোচনা করছেন। ফ্যাব্রিক, প্রিন্ট এবং রঙের দিকথেকেভিন্নতা আনা হচ্ছে। একে বলা হচ্ছে মডেস্ট ফ্যাশনের একটি চমৎকার সিম্বল। যাতে মুসলমান ছাড়াও অন্যান্য নারী এটি পরার জন্য উৎসাহিত বোধ করেন।

    ট্র্যাডিশনাল আবায়া ডিজাইনাররা সাধারণত ব্যবহার করে থাকেন গাঢ় সলিড কালারড ফ্যাব্রিক। সঙ্গে তৈরি হয় ম্যাচিং হিজাব। যাতে পুরোপুরি একটি আউটফিট হিসেবে এটি পরা যায়। খুবই লুজ ফিটিং হয় এই পোশাক এবং গলা থেকে শুরু করে পা পর্যন্ত পুরো শরীর যাতে ঢাকা পড়ে, সেভাবেই এর ডিজাইন করা হয়। তবে পায়ের পাতা ও হাত থাকে খোলা। মডার্ন আবায়া এতটা রক্ষণশীল নয়। ডিজাইনারদের মতে, শালীনতার প্রতি মূল ফোকাস থাকলেও এতে ফ্যাশন এবং স্টাইলের ব্যাপারটি খেয়াল রাখতে হয়। ব্যবহার করা হয় উজ্জ্বল সব রঙ, নানা রকম প্রিন্ট, পাথরের কারুকার্য, স্যাশে এবং লেসের এমবেলিশমেন্ট। ট্র্যাডিশনাল ডিজাইন থেকে এর প্যাটার্নও হয় ভিন্ন। যদিও খাটো হয় না কখনোই। গতানুগতিক আবায়ার গলা সাধারণত গোল হয়; আধুনিক আবায়ায় নতুনত্ব আনার চেষ্টা থাকে। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বোট নেক ডিজাইন। ওয়েস্টলাইনে নানা রকম প্লিট ব্যবহার করা হয়। বডি এক রঙের হলেও হাতার রঙে থাকে ভিন্নতা। যাতে এটি পরে একই সঙ্গে আরাম ও ফ্যাশন- দুটোই মেলে, সেই চেষ্টা করা হয়। তবে সবাই মডার্ন আবায়া পরেন, এমন নয়। নারীর ব্যক্তিগত স্টাইল, পছন্দ এবং ব্যক্তিত্বের ওপরও নির্ভর করে, তিনি কোন ধরনের আবায়া পরতে চান।
    পর্দা করেন অথচ ফ্যাশনে প্রচুর আগ্রহ আছে, বাংলাদেশের এমন নারীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ পোশাক। পরছেন অনেকেই। দেশের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ, যেমন- ইয়েলো, সিকোসো, তাহুর, স্টাইলসেল কাজ করছে এই পোশাক নিয়ে। নানা কারুকার্যের স্টাইলিশ আবায়া আছে তাদের সংগ্রহে। এ ছাড়া বসুন্ধরা সিটি, মাসকট প্লাজা, পিঙ্ক সিটি এবং অনলাইন শপগুলোতে মিলছে এটি।
     রত্না রহিমা
    মডেল: সূর্য
    মেকওভার: পারসোনা
    ছবি: তানভীর খান
    ওয়্যারড্রোব: সিকোসো


    Subscribe & Follow

    JOIN THE FAMILY!

    Subscribe and get the latest about us
    TRAVELS
    LIFESTYLE
    RECENT POST
    চিত্রকর্মে
    23 September, 2017 6:39 pm
    নখ দিয়ে রেকর্ড
    23 September, 2017 6:27 pm
    BANNER SPOT
    200*200
    SOLO PINE @ INSTRAGRAM
    FIND US ON FACEBOOK