FASHON
  • ফিচার I কাঁচুলিকথা

    পোশাকের নিচে পরা হলেও নারীর দেহসৌন্দর্যে এর ভূমিকা অসামান্য। তবে পরতে হয় স্তনের আকৃতি, ফ্যাব্রিক, পোশাকের ধরন ইত্যাদি মেনে লিখেছেন রত্না রহিমা

    স্তনের সুগঠন বজায় রাখার জন্য ব্রা বা বক্ষবন্ধনী পরার প্রচলন আজকের নয়। ইতিহাস বলছে, আদি রূপে এর উদ্ভব প্রাচীন গ্রিসে। সেখানে নারীরা স্তনকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য এক টুকরো কাপড় বেঁধে রাখতেন শরীরের ঊর্ধ্বাংশে। অনেক নামে পরিচিত ছিল এটি- অ্যাপোদেসমস, পরে স্টেথোদেসমে, মাসতোদেসমস এবং মাসতোদেতন। সব কটির অর্থ একই- ব্রেস্ট ব্যান্ড বা বক্ষবন্ধনী। উল অথবা লিনেন দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা হতো বুক এবং পিঠ; তা আটকানো হতো পিন দিয়ে। ষোলো শতকের দিকে পাশ্চাত্যে অভিজাত মহিলারা তাদের পোশাকের নিচে পরতেন করসেট। যাতে স্তন ঝুলে না যায়, ঊর্ধ্বমুখী এবং টানটান থাকে। উনিশ শতকের দিকে এই করসেটকেই ডিজাইনাররা কয়েক ভাগে বিভক্ত করেন। উপরের ভাগের জন্য আপার টরসো আর নিচের ভাগের জন্য লোয়ার টরসো। এগুলোকে এক অর্থে ব্রা বা ব্রেসিয়ারের আগের রূপ বলে ধরা যায়। তবে আজকে ব্রার যে রূপ, তার আগমন ঘটে আরও অনেক পরে। কথিত আছে, যিনি ব্রেসিয়ারের এই পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন বা আবিষ্কার করেন, তিনি একজন পুরুষ, তার নাম ওট্টো টিটজ্লিং। ঠিক কত সালে এর প্রচলন শুরু হয়, তা জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হয়, উনিশ শতকের শেষ দিকে এর ব্যবহার শুরু হয়। কেবল অভিজাত নারীরাই নন, পরতেন সাধারণেরাও। তখন ব্রা তৈরিতে ব্যবহার করা হতো নরম সুতি কিংবা লিনেন কাপড়। বোনা হতো হাতে। ডিজাইনের বালাই ছিল না তেমন, কাজ চালানোই ছিল মুখ্য উদ্দেশ্য। সময় যত এগিয়েছে, নারীর ফ্যাশনে ততই পাকাপোক্ত হয়েছে ব্রা। পরিবর্তন এসেছে ডিজাইন, ফ্যাব্রিক এবং আনুষঙ্গিক ম্যাটেরিয়ালে। এটি তৈরিতে এখন সাধারণত ব্যবহার করা হয় ট্রাইকট, স্প্যানডেক্স, লেটেক্স, মাইক্রোফাইবার, স্যাটিন, জ্যাকার্ড, ফোম, মেশ ও লেইস। স্প্যানডেক্স হলো একরকম সিনথেটিক ফাইবার, যা প্রসারণ ঘটানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। একে মেলানো হয় কটন, পলিয়েস্টার বা নাইলনের সঙ্গে। মেশ হলো হাইটেক সিনথেটিক, যা সাধারণত খুব টানটান করে সেলাই করা হয় স্মুথনেসের জন্য।
    সারা বিশ্বে ফ্যাশন ডিজাইনাররা ব্যাপক গবেষণা করেছেন ব্রা বা কাঁচুলির ডিজাইন নিয়ে। প্রতিবছরই যোগ হচ্ছে নতুন নতুন কৌশল। এটি যাতে শরীরের সঙ্গে আরও মানিয়ে যায়, স্তনের গঠনকে উন্নত করে, সুন্দর এবং সুস্থ রাখতে সাহায্য করে- সবকিছুই মাথায় রাখা হয়। ডিজাইন অনুযায়ী ব্রার রকমফের আছে। কিছু আছে, যেগুলো কেবল নির্দিষ্ট পেশার কথা চিন্তা করে বানানো। আবার কাপসাইজ এবং স্বাচ্ছন্দ্যের দিক থেকেও একটি অন্যটির চেয়ে আলাদা হয়।
    টি-শার্ট বা কনট্যুর
    এর আরেকটি নাম আছে। সিমলেস ব্রা। এর কাপ সব সময় নির্দিষ্ট একটি শেপে বানানো। ভেতরে স্তন থাকুক আর না থাকুক, দেখতে একই রকম লাগে। খুব পুরু কাপড়ে তৈরি হয় বলে এটি নিপল কাভারেজে চমৎকার কাজ দেয়। পাশাপাশি এর শেপ নির্দিষ্ট বলে এতে স্তন ছোট-বড় লাগার সম্ভাবনা থাকে না। কাপড়ের সঙ্গে স্তনের ত্বকও ঘষা খায় না। ফলে এটি অত্যন্ত আরামদায়ক। অনেক অপশনে পাওয়া যায় এটি। ফুল কভারেজ, প্লাঞ্জ এবং স্ট্র্যাপলেস।
    আন্ডারওয়্যার ব্রা
    এই ধরনের ব্রাতে স্তনের চারপাশ ঘিরে এমন কাঠামো জুড়ে দেয়া হয়, যাতে স্তন একেবার বুকের সঙ্গে লেগে থাকে। ফলে আকৃতি কিছুটা অস্বাভাবিক হলেও তা একটি নির্দিষ্ট গড়নেই থাকে। সুন্দর একটা সাপোর্ট পাওয়া যায়। নারীদের মধ্যে এ ধরনের ব্রা অবশ্য তেমন জনপ্রিয় নয়। কারণ, এটি পরা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর। কিন্তু যারা অভ্যস্ত, তারা জানেন, স্তনের সুগঠন বজায় রাখতে এটি কত জরুরি। এই ব্রা পাওয়া যায় প্লাঞ্জ, ডেমি এবং ফুল কভারেজ স্টাইলে।
    পুশ-আপ
    এসিমেট্রি ব্রেস্ট বা যাদের এক স্তন অন্য স্তনের তুলনায় কিছুটা বড় বা ছোট হয়, এই ব্রা মূলত তাদের জন্য। বক্ষ সমুন্নত এবং সুগঠিত দেখাতে এর তুলনা নেই। ক্লিভেজ বাম্প আপ বা তুলে ধরার জন্যও এটি জুতসই। ফ্যাশনেবল পোশাক পরে যারা স্তনের ভাঁজ দেখাতে আগ্রহী, তাদের জন্য চমৎকার।
    ব্যালকোনেত্তে এবং ডেমি
    অনেকে এই দুই ধরনের ব্রাকে একরকম মনে করলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্থক্য রয়েছে। ফুল কভারেজ ব্রার সেক্সিয়ার ভার্সন বা আরও উত্তেজক ভার্সন হচ্ছে ব্যালকোনেত্তে। যেখানে স্তনের কাপসাইজ কিছুটা ছোট রাখা হয়, যাতে এর ঊর্ধ্বাংশ বেশি দৃশ্যমান হয়। ডেমি ব্রার কাটিং লাইন ব্যালকোনেত্তের তুলনায় আরও নিচে হয়। এই স্টাইল মূলত লো কাট স্কুপ নেক আউটফিটের জন্য। অগভীর ব্রেস্ট টিস্যু যাদের, তাদের জন্যও ডেমি ব্রা। কারণ, কোনো রকম ক্লিভেজ সৃষ্টি না করেই এটি আলাদাভাবে স্তনকে সমুন্নত করে তোলে।
    ব্রালেত্তে
    যারা ঘুমের সময়ও ব্রা পরে থাকতে চান, এটি তাদের জন্য। আরামপ্রদ তো বটেই, একই সঙ্গে সেক্সিও। এর ডিজাইন কোনো কাঠামোবদ্ধ নয়, পুরোটাই এক পিস। পেছনে কোনো হুক নেই, মাথা গলিয়ে ঢোকাতে হয়। এর বেশির ভাগই তৈরি হয় সাপোর্টিভ লেস ম্যাটেরিয়াল দিয়ে, স্ট্র্যাপগুলো থাকে অ্যাডজাস্টেবল বা নিয়ন্ত্রণযোগ্য। ঘরে পরে থাকার জন্য যেমন উপযোগী, তেমনি জ্যাকেটের নিচে পরার মতো ফ্যাশনেবলও বটে।
    স্ট্র্যাপলেস
    কোনো রকম স্ট্র্যাপ থাকে না এই ব্রাতে। ফলে কাঁধ খোলা পোশাক পরলেও বোঝা যায় না, ব্রা পরা হয়েছে কি না। ত্বকের সঙ্গে একেবারে লেগে থাকে। তবে কাপের গঠনে ভিন্নতার জন্য এই ব্রা সবার স্তনে সমানভাবে ফিট হয় না। বিশেষ বিশেষ পোশাকের সঙ্গে পরার জন্য এটি তৈরি করা হয়।
    স্পোর্টস
    এ ধরনের ব্রা দুই রকম হয়- কমপ্রেশন ও ইনক্যাপসুলেশন। যারা খেলাধুলা করেন বা ব্যায়ামে আসক্ত, তাদের জন্য উপযোগী। তবে কোনটি পরা হবে, তা নির্ভর করে তার অ্যাকটিভিটি লেভেলের ওপর। অনেকটা নিজের জন্য হাইকিং শু বেছে নেয়ার মতো ব্যাপার। বেশির ভাগ স্পোর্টস ব্রার সঙ্গে একটা করে গাইড থাকে। যেখানে লেখা থাকে এর প্রভাব কী রকম- নিচু, মাঝারি, না উচ্চমাত্রার। দৌড়ানোর জন্য যে ব্রা উপযোগী, ফুটবল বা লং জাম্পে সেটি প্রযোজ্য না-ও হতে পারে।
    মিনিমাইজার
    এই স্টাইল কিছুটা প্রাচীন। মূলত যাদের স্তন বড়, তাদের জন্য। এটি বুকের সঙ্গে স্তনকে এমনভাবে আটকে রাখে যে দেখতে বিসদৃশ মনে হয় না। এই ব্রা পরলে স্তন পোশাকের উপর থেকে দৃশ্যমানও হয় না।
    কাট আউটস
    খুব হালকা এবং ছোট স্তনের জন্য। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যাকলেস আউটফিটের সঙ্গে পরা হয়। বক্ষ অনেক সমুন্নত লাগে এতে। তবে খুব গরমে বা আর্দ্র আবহাওয়ায় পরার উপযোগী নয়।
    তবে নিজের জন্য কোন স্টাইলের ব্রা উপযোগী, তা জানার চেয়েও পরার ক্ষেত্রে জরুরি হলো, সঠিক মাপ জানা। যত ভালো ব্র্যান্ডেরই হোক না কেন, চিকিৎসকদের মতে, বেঠিক মাপের ব্রা দীর্ঘদিন ধরে পরা হলে তা থেকে স্তন ব্যথাসহ নানা সমস্যা হবার আশঙ্কা থাকে। সঠিক মাপের ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, এর সাইজ নির্দিষ্ট থাকে না, পরিবর্তিত হয় প্রায়ই। স্বাস্থ্য ভালো কিংবা খারাপ হবার সঙ্গে তো সম্পর্ক আছেই, পাশাপাশি কোনো কারণ ছাড়াও স্তন হঠাৎ করে কিছুটা বড় বা ছোট হয়ে যেতে পারে। তাই আকার অনুযায়ী ব্রার সাইজেও আনতে হয় পরিবর্তন। তা ছাড়া পোশাকের নিচে থাকলেও এটি যেন সর্বোৎকৃষ্ট হয়, সেদিকে খেয়াল দেয়া জরুরি। পোশাক যেমনই পরা হোক না কেন, বক্ষবন্ধনী পরা চাই উন্নত মানের।
    ব্র্যান্ড অনুযায়ী ব্রার মাপ বা কাপসাইজে হেরফের থাকে বলে কেনার আগে-পরে একবার পরখ করে নেয়া দরকার। অনেকেই নিজেকে উন্নতবক্ষা দেখানোর জন্য খুব আঁটোসাঁটো ব্রা পছন্দ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেখতে ভালো লাগলেও দীর্ঘ সময়ের জন্য এমন ব্রা পরা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যে ব্রা পরে আরাম লাগে এবং নিজের স্তন অনুযায়ী যেটির মাপ সঠিক, সেটিই বেছে নেয়া উচিত। আবার অনেক সময় স্তনের সাইজ অনুযায়ী ব্রার মাপ সঠিক হলেও দেখা যায়, পেছনের স্ট্র্যাপটা জুতসই নয়, ক্রমাগত উপরে উঠে আসে বা খুলে যেতে চায়। তখনই এটি পরা বন্ধ করা উচিত। কেউ কেউ আবার স্তন ছোট বা পারফেক্ট দেখানোর জন্য ছোট কাপসাইজ বা ওয়েস্টলাইনের ব্রা পরতে পছন্দ করেন। এতে স্তন পুরোপুরি ঢাকা পড়ে না, দেখতেও বিসদৃশ মনে হয়। কেনার সময় এটি কোন ম্যাটেরিয়ালে তৈরি, সেটি জানাও জরুরি। নিয়মিত পরার ক্ষেত্রে ব্রার ফ্যাব্রিক সুতি এবং নরম হলেই ভালো হয়। পাশাপাশি দেখতে হবে ঘাম শোষণের ক্ষমতা আছে কি না এবং পরলে স্তনের নিচে কোনো আন্ডারলায়িং মার্ক বা দাগের সৃষ্টি হয় কি না। ফ্যান্সি স্টাইল ব্রাগুলো রাখা যেতে পারে অকেশনালি পরার জন্য।
    স্তনের মাপ ঠিক রাখার জন্য অনেকে ঘুমানোর সময়ও ব্রা পরে থাকেন। যা ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমাতে যাবার আগে অবশ্যই ব্রা খুলে ফেলা উচিত, যাতে স্তন তার হাঁসফাঁস অবস্থা থেকে মুক্তি পেয়ে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিতে পারে। এটি স্তনের স্বাস্থ্য এবং আকৃতি সুরক্ষায় কাজ করে। এমনকি ব্যায়াম বা যোগাসন করার সময়ও রেগুলার ফিটেড ব্রা না পরার কথা বলা হয়েছে। এতে পিঠে ব্যথাসহ চামড়ায় নানা সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পরতে হলে এমন ব্রা বেছে নিতে হবে, যেগুলো ব্যায়াম করার জন্যই বিশেষভাবে তৈরি। একসঙ্গে অনেক ব্রা কেনাও ঠিক নয়। কারণ, আগেই বলা হয়েছে, স্তনের আকৃতি একই রকম থাকে না সব সময়।
    কেবল ভালো মানের ব্রা হলেই চলে না, এর পরিচ্ছন্নতাও সমান জরুরি। ওয়াশিং মেশিন ব্যবহার না করে এটি ধোয়া উচিত হাতে। মেশিনে দেয়া হলে এর স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন যাতে টেকে, সে জন্য এটি অন্যান্য পোশাকের সঙ্গে না রেখে আলাদা ড্রয়ার বা তাকে রাখা উচিত। এতে এর স্থায়িত্ব বেড়ে যায়; মানে, টেকে বেশি দিন।
    সারা বিশ্বে ন্যুড বা স্কিন কালারের ব্রা সবচেয়ে জনপ্রিয়। যাতে পোশাকের উপর থেকে এর রঙ দৃষ্টিগোচর না হয়। তবে পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং ব্রা পরার সৌন্দর্যই আলাদা। যেকোনো আন্ডারগার্মেন্টসই একাধারে দুদিন পরা উচিত নয়। বক্ষবন্ধনীও। প্রতিদিন পরার পর তা ধুয়ে পরদিন পরা উচিত নতুন আরেকটি।

    ওয়্যারড্রোব : পিংকিস
    ছবি: ক্যানভাস


    Subscribe & Follow

    JOIN THE FAMILY!

    Subscribe and get the latest about us
    TRAVELS
    LIFESTYLE
    RECENT POST
    জিওমেট্রিক
    23 July, 2017 10:30 pm
    একঝলক
    23 July, 2017 5:39 pm
    BANNER SPOT
    200*200
    SOLO PINE @ INSTRAGRAM
    FIND US ON FACEBOOK