FASHON
  • বিশ্বফ্যাশন I স্বকীয়তায় বৈচিত্র্য

    ডিজাইনারদের স্বাতন্ত্র্যই ফ্যাশনে বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে। এমনটি ঘটে তাদের স্বাধীন সত্তার প্রকাশতৃষ্ণা থেকে

    ফ্যাশন জগতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত মানুষগুলোর সাধারণ একটি বৈশিষ্ট্য এই যে, তারা স্বকীয়তা সৃষ্টিতে এবং বজায় রাখতে সব সময় সচেতন। কিন্তু তাদের মধ্যেও কেউ কেউ ছাপিয়ে যান সমসাময়িক অন্যদের।

    নারী প্রেরণায় মাইকেল কোর্স

    ফ্যাশন জগতের চার রাজধানীর সবচেয়ে জনপ্রিয় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি। দেশটির অসংখ্য মানুষ স্বপ্ন দেখেন একজন সফল ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ার। ছোটবেলা থেকেই এখানকার ছেলেমেয়েরা এই ক্যারিয়ারের প্রেরণা পেয়ে থাকে। তাদের অনুপ্রাণিত করার মতো সফল ডিজাইনারদের একজন মাইকেল কোর্স। মাইকেল ফ্যাশন জগতে প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন পাঁচ বছর বয়সে। মায়ের বিয়ের পোশাকটি তো ছেলের পরামর্শেই তৈরি হয়েছিল! সেই থেকে শুরু। ছেলেবেলা থেকেই মাইকেল জানতেন, তিনি কী চান। খুব অল্প বয়সে পেইন্টিং ও অন্যান্য আর্টের দিকে তার ছিল বিশেষ আকর্ষণ। তবে মায়ের একান্ত অনুরক্ত এই ছেলে, মেয়েদের স্বাধীনচেতা ব্যক্তিত্বের প্রতি ছিলেন বেশ সচেতন। তার ডিজাইন প্রেরণার মূলমন্ত্রই হলো নারীর স্বাধীনতা, চলাফেরা, কাজকর্ম, আচার-আচরণ। একই সঙ্গে তার ডিজাইনে নারীর কোমল, নমনীয় রূপটিও ফুটে ওঠে। আরও একটি লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, মাইকেল মেয়েদের স্বাধীনতার জন্য উগ্রতাকে নয়, বরং আরামদায়ক পোশাক ও অ্যাকসেসরিজকে তার কালেকশনের চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করেন। তার ডিজাইন করা ব্যাগ আর জুতায়ও এর প্রমাণ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ইউনিসেক্স অ্যাকসেসরিজের জন্যও তিনি বিখ্যাত। তার ডিজাইন করা সানগ্লাস ও ঘড়ির বেশির ভাগই ছেলেমেয়ে উভয়েই নিশ্চিন্তে পরতে পারে।

    মাইকেলের ডিজাইনের আরেকটি বিশেষত্ব হলো, তার সৃষ্টি ভ্রমণকেন্দ্রিক। অর্থাৎ, মানুষের পথচলাকে তিনি ফ্যাশনেবল করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন। তার প্রতিটি কালেকশনেই দেখা যায় ঋতুভিত্তিক ভেদাভেদের অভাব। স্প্রিং-সামার বা অটাম-উইন্টার; তাতে থাকে সুইমস্যুট, ট্রেঞ্চ কোট ও ফারের তৈরি জ্যাকেট। একই সঙ্গে বিচিত্র ধরনের ফ্লোরাল মোটিফও চোখে পড়ে।

    ফ্লোরাল ডলশে অ্যান্ড গ্যাবানা

    ফ্যাশন, ভ্রমণ ও ভোজনরসিকদের তীর্থ ইতালি। রন্ধনশিল্প ও ফ্যাশন তাই এখানে জনপ্রিয় দুটি ক্যারিয়ার অপশন। আর এর ফ্যাশন রাজধানী মিলানে বেশ কয়েক দশক ধরে দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করে আসছেন ডমিনিকো ডলশে এবং স্টেফানো গ্যাবানা তথা তাদের স্বনামে সৃষ্ট ব্র্যান্ড ডলশে অ্যান্ড গ্যাবানা।

    এই দুই ডিজাইনারের কালেকশনের মূল বিষয় ফেমিনিন ফ্লোরাল মোটিফ ও ফ্লোরাল ডিজাইনের ব্যাপক ব্যবহার। সেই সঙ্গে তাদের ডিজাইনে ইতালীয় ও স্প্যানিশ সংস্কৃতি আর শিল্পের প্রকাশও চোখে পড়ার মতো। তবে ফ্লোরাল মোটিফ ও নকশার ব্যবহারে তৈরি মেয়েদের পোশাকের জন্যই এ জুটি বিশ্বখ্যাত। পোশাক ডিজাইনে তারা সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন লাল রঙকে। তেমনি অ্যাকসেসরিজের বেলায় প্রাধান্য পায় সোনালি রঙ। কখনো একরঙা কাপড়ের উপর লাল রঙের অ্যাপ্লিকের তৈরি বিভিন্ন ডিজাইন ও প্যাটার্নের ফুলের ব্যবহার রাঙিয়ে তোলে পুরো কালেকশন। কোথাও আবার দেখা যায় পোশাকজুড়েই ফ্লোরাল প্রিন্টের ব্যবহার। এতে ছোট ছোট প্যাটার্নের পরিবর্তে বেশ বড় সাইজের ফুলের নকশা বসানো থাকে। এমনকি শুধু বেশ বড় সাইজের সবুজের বিভিন্ন শেডের পাতার প্রিন্টেই তৈরি হয়েছে তাদের পুরো কালেকশন। তবে লক্ষণীয় বিষয়, এত ঘন আর জমকালো ডিজাইনের ভিড়েও ডি অ্যান্ড জির স্বকীয়তা কখনোই হারিয়ে যায় না। আর পোশাকের মাঝে সব সময়ই একটা পরিচ্ছন্নতা থাকে। অর্থাৎ ফ্লোরাল প্রিন্ট ও মোটিফের ব্যবহারের পরও মূল 

    বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যায় না। হয়ে ওঠে ফেমিনিন, স্টাইলিশ ও আধুনিক। জমকালো রঙ ও প্রিন্টের মাঝেও এই পোশাকগুলো একই সঙ্গে জমকালো কোনো পার্টিতে ও দৈনন্দিন কাজে সমানভাবে ব্যবহারের উপযোগী।

    হস্তশিল্পে সব্যসাচী মুখার্জি

    ভারতীয় উপমহাদেশের যে কয়েকজন ডিজাইনার বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জনে সক্ষম হয়েছেন, তাদের একজন কলকাতার সব্যসাচী মুখার্জি। তার সফলতার মূলে রয়েছে ডিজাইনে ভারতীয় হস্তশিল্পের একক আধিপত্য। সব্যসাচী গোড়া থেকেই ভারতীয় হস্তশিল্প নিয়ে কাজ করেন। প্রথম দিকে কলকাতার বাইরে তার নামডাক খুব একটা শোনা না গেলেও। ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাশন উইকে তিনি এখন পরিচিত মুখ। এমনকি বিশ্বখ্যাত শু ডিজাইনার ক্রিশ্চিয়ান লুব্যুতাঁর সঙ্গে নিয়মিতভাবে তিনি জুতার ডিজাইনও করে থাকেন। তার উদ্ভাবিত পোশাকের মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় বিয়ের পোশাক। সব্যসাচীর ডিজাইন করা শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি, কুর্তা থেকে শুরু করে সবই সমানভাবে জনপ্রিয়। নারী-পুরুষ উভয়েই তার পোশাকের নিয়মিত ক্রেতা। সম্পূর্ণ দেশীয় সংস্কৃতির আলোকে হস্তশিল্পের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয় তার ব্রাইডাল কালেকশন। বেনারসি হোক কিংবা সিল্কে জারদৌসি কাজের লেহেঙ্গা বা সাধারণ জর্জেটে প্রিন্টের মাধ্যমে ডিজাইন করা- সব্যসাচীর পোশাকে বরাবরই দেশীয় সংস্কৃতির ব্যবহার ফ্যাশনপ্রেমীদের আকৃষ্ট করতে সমর্থ হয়। শুধু বর-কনের নয়, বিয়েতে আগত সবার জন্যই পোশাক ডিজাইন করে থাকেন তিনি। এমনকি একটি বিশেষ থিমের সঙ্গে মিলিয়ে ছেলেদের মাথায় পরার পাগড়িটিও বাদ থাকে না। স্বদেশি সংস্কৃতি, ইতিহাস ও হস্তশিল্প- এই তিন তার পোশাকের মূলমন্ত্র। জুয়েলারি ও অন্যান্য অ্যাকসেসরিজের ডিজাইনেও একই কথা খাটে। কিছুদিন আগে বিখ্যাত আন্তর্জাতিক ফ্যাশন বিশেষজ্ঞ ও ক্রিটিক সুজি মেনকেস্ ভারতীয় ফ্যাশন জগৎ পরিদর্শনে এলে যে কয়েকজন ডিজাইনারের ডিজাইন স্টুডিও ও কালেকশন সম্পর্কে বিস্তারিত বলেছিলেন, সব্যসাচী তাদের একজন।


    পোলকা ডটে ইয়াওই কুসামা

    ফ্যাশন জগতে স্বকীয়তা তৈরির আরও এক অভিনব উপায় বের করেন জাপানের ইয়াওই কুসামা। তিনি একই সঙ্গে একজন শিল্পী ও লেখক। কর্মজীবনে শিল্পকলার বিভিন্ন শাখা ও মিডিয়ার সঙ্গে জড়িত। তার ডিজাইনের স্বকীয়তা হচ্ছে পোলকা ডটের বৈচিত্র্যপূর্ণ ও সৃষ্টিশীল ব্যবহার। তার অসংখ্য শিল্পসৃষ্টি এই দুটি উপাদান ব্যবহার করেই। বিশ্বজুড়ে বহু প্রদর্শনীও করেছেন। পোশাক তার ডিজাইনের একটি ক্ষেত্র মাত্র। তার পোশাক নকশায় তেমন কোনো বিশেষত্ব তথা বিশেষ কাট বা প্যাটার্নের ব্যবহার লক্ষ করা যায় না। অন্যদিকে, পোলকা ডটের ব্যবহার ফ্যাশন জগতে অভিনব না হলেও তিনি যে ধরনের স্বকীয়তার সঙ্গে এই সাধারণ উপাদানটিকে শিল্পে রূপ দিয়েছেন, সেখানেই রয়েছে তার সার্থকতা।


    টারবান নিয়ে ঈমান আলদেব

    বৈচিত্র্যই হচ্ছে ফ্যাশন জগতে টিকে থাকার এবং এগিয়ে চলার মূলমন্ত্র। ফ্যাশনের অংশ হিসেবে অ্যাকসেসরিজের বেলায়ও একথা খাটে। অনুষঙ্গের উৎকর্ষে সৃষ্টিশীলতার প্রমাণ রেখে যাচ্ছেন সুইডিশ ডিজাইনার ঈমান আলদেব। ছোটবেলা থেকে সৃজনশীল পরিবেশে তিনি বড় হয়েছেন এবং স্বকীয়তা ও স্বাধীনতা প্রকাশের শিক্ষা পেয়েছেন। আর এটিই তার ডিজাইনের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। এই ডিজাইনার টারবান তথা পাগড়িকে তার ডিজাইনের মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ফ্যাশন হাউজগুলোতে এই স্কার্ফের দুষ্প্রাপ্যতাই তাকে স্বকীয়তা প্রকাশের সুযোগ করে দেয়। এখান থেকে শুরু। বর্তমানে স্টকহোম, প্যারিস, দুবাই ও নিউইয়র্কের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দোকানে তার ‘হ্যাপি টারবান’ ও ‘ওৎ টারবান’ নামে দুটি ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের টারবান লাইন রয়েছে। মুসলিম ও অমুসলিম- উভয় ক্রেতার কাছেই এগুলো সমান জনপ্রিয়। ২০১১ সালে ঈমান সুইডেনের মুসলিম নারী পুলিশদের জন্য এই টারবানের ডিজাইনার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

     সোহেলী তাহমিনা
    ছবি: ইন্টারনেট


    Subscribe & Follow

    JOIN THE FAMILY!

    Subscribe and get the latest about us
    TRAVELS
    LIFESTYLE
    RECENT POST
    চিত্রকর্মে
    23 September, 2017 6:39 pm
    নখ দিয়ে রেকর্ড
    23 September, 2017 6:27 pm
    BANNER SPOT
    200*200
    SOLO PINE @ INSTRAGRAM
    FIND US ON FACEBOOK