FASHON
  • ফিচার I সঞ্চয়কৌশল

    বলা হয়ে থাকে, সুদিনের সঞ্চয় দুর্দিনের সহায়। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই কালে কীভাবে তা সম্ভব?

    আয় মেনে ব্যয় করা খুব কঠিন। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ক্রমবৃদ্ধিতে হিসাবে দেখা দেয় গরমিল। মানে, মাস শেষ হবার আগেই পকেট ফাঁকা। হাতে টাকা নেই। বাকি দিনগুলো কীভাবে চলবে, সে চিন্তাতেই যখন হাঁসফাঁস অবস্থা, তখন সঞ্চয়ের কথা হাস্যকরই শোনায়। অথচ কখন কী প্রয়োজন দেখা দেয়, বলা তো যায় না। কোনো দুর্যোগের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। আচমকা বিপদ সামলে ওঠার জন্য সঞ্চয় খুব জরুরি। অসময়ে যেন কারও কাছে হাত পাততে না হয় বা কোনো বিশেষ সময়ে দু-একটা শখের জিনিস কিনে ফেলা যায়, সে জন্যও দরকার সঞ্চয়। কিন্তু কীভাবে? অল্প আয়ে জীবন নির্বাহই যেখানে কঠিন, সেখানে রেখে দেয়ার মতো বাড়তি টাকা আসবে কোত্থেকে? সে জন্যই কিছু কৌশল আয়ত্তে রাখা দরকার। যা লুকিয়ে থাকে আমাদের খরচের পদ্ধতির মধ্যেই। প্রয়োজন সচেতনতা আর আগ্রহ।
    খুচরো জমা

    খুব সাধারণ কিন্তু কার্যকর কৌশল। পদ্ধতিটি অনেক পুরোনো। দৈনিক খুচরা টাকাগুলো একটা মাটির ব্যাংকে বা নির্দিষ্ট কোনো বাক্সে ফেলে রাখলেই হলো। অনেকেরই মনে হতে পারে, এতে আর কত টাকাই বা জমবে। কিন্তু বছর শেষে হিসাব করলে দেখা যাবে, যা পাওয়া যাচ্ছে তা নিতান্ত মন্দ নয়। এ টাকা বা পয়সা আলাদা করে রেখে দিতে তেমন গায়েও লাগবে না। আবার হঠাৎ করে কোথাও থেকে কিছু টাকা পাওয়া গেলে উপহার বা অন্য কোনো কারণে, সেটাও রেখে দিতে হয়। ভাবতে হবে, যেন এ টাকাটা কখনো হাতেই আসেনি। কিংবা ধরা যাক, আয় বেড়ে গেল; কিন্তু তাতে ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ানো যাবে না। ভাবটা এমন, যেন আয়ের হিসাবে নতুন কিছু যোগ হয়নি। বাড়তি টাকাটা ফেলে রাখতে হবে ব্যাংকে।
    নিজেই নিজের মালিক

    এ পদ্ধতি খুবই মজার কিন্তু কার্যকর। তিনভাবে করা যায় এটি- দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক। প্রতিদিন ঘরে ফেরার পর দিনভর যে কাজ করেছেন, তাতে নিজের জন্য নির্ধারণ করতে হবে মজুরি। যার যা ক্ষমতা। সেটি দশ টাকা হলেও আপত্তি নেই। দিনের শেষে ঘরে গিয়েই এই টাকা রেখে দিতে হবে মজুরি বাক্সে। সাপ্তাহিক হিসাবে যারা করতে চান, তাদের জন্য নিয়ম হলো, প্রথম সপ্তাহে যে পরিমাণ টাকা রাখা হবে, পরের সপ্তাহে বাড়াতে হবে তার অর্ধেক। অর্থাৎ প্রথম সপ্তাহে দশ টাকা রাখলে পরের সপ্তাহে পনেরো টাকা, তারপরের সপ্তাহে বিশ টাকা- এভাবে বাড়তে থাকবে। আর মাসিক নিয়মটা শুরু করতে হবে বছরের একেবারে প্রথম থেকে। যখন হাতে টাকা থাকবে, তখন একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ রেখে দিতে হবে সঞ্চয় হিসাবে। দিন দিনই তো খরচ বাড়বে, সেই হিসাব অনুযায়ী রেখে দেয়া টাকার পরিমাণও কমবে। যেমন ধরা যাক, প্রথম মাসে রাখা হলো এক হাজার টাকা। তারপরের মাসে নয় শ পঞ্চাশ টাকা, তারপরে আরেকটু কম- এভাবে। এতে টাকাটা রেখে দিতে তেমন বেগ পেতে হবে না, পাশাপাশি নিজেই নিজেকে বেতন দেয়ার আনন্দটাও পাওয়া যাবে।
    ব্যাংক হিসা

    টাকা জমানোর সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা হলেই একটা ডিপিএস খুলে ফেলা। যেখানে মাস শেষে একটা নির্দিষ্ট টাকা ব্যাংক হিসাব থেকে কাটা পড়ে জমা হবে। ধরে নিতে হবে, সেই টাকাটা আপনার নয়। ধরা যাক এক হাজার টাকা করে দশ বছরের জন্য একটা ডিপিএস খুলে ফেলা হলো। এই অল্প টাকা নেই বলে জীবনযাপন পদ্ধতিতে এমন কোনো পরিবর্তনও আসবে না। অথচ সময় শেষে যে টাকাটি হাতে আসবে, তা রীতিমতো চমকে দেয়ার মতো!
    ক্রেডিট কার্ড

    ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার যত কম করা যায়, ততই ভালো। নগদ টাকা দিতে হয় না বলে ক্রেডিট কার্ডে খরচ করে একধরনের আনন্দ পাওয়া যায়। পরে টাকাটা দিতে গিয়ে দেখা যায়, এমন একটা অ্যামাউন্ট, যা দিতে ভালো লাগছে না। টানাটানিও পড়ছে। ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে নয়, খরচ করতে হবে নগদ টাকায়। যাতে প্রতিবারই ভাবতে হয়, খরচ করা ঠিক হবে কি না! এতে খরচের তাড়না অনেক কমে যায়! অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা হয় না, মাস শেষে কিছু টাকা রয়ে যায় হাতে।
    বন্ধু গ্রুপ

    নিজেকে সঞ্চয়ের ব্যাপারে উৎসাহী করে তোলার চমৎকার একটি উপায় হলো একটা গ্রুপ খুলে ফেলা। তাতে কাছের কিছু বন্ধু বা আপনজন থাকতে পারে। এ সপ্তাহে বা এ মাসে গ্রুপের কে কত টাকা নিজের খরচ থেকে সেভ করতে পারলো, তা একে অন্যকে জানাবে। আলোচনা করবে এ নিয়ে। এতে একধরনের প্রতিযোগিতার আনন্দ পাওয়া যায়। একসময় দেখা যায়, খরচের তুলনায় জমানোর ইচ্ছেটা বেড়ে যাচ্ছে বহুগুণ। আরেকটি মজার পদ্ধতি আছে। ধরা যাক, কারও জন্মতারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি বা বিয়ের তারিখ ৩০ মার্চ কিংবা অন্য কোনো বিশেষ তারিখে। প্রতি মাসের সেই নির্দিষ্ট তারিখে নিজেকে কিছু টাকা উপহার হিসেবে দিতে হবে। যার যতটুকু সাধ্য, সেটি যে পরিমাণই হোক না কেন, রেখে দিতে হবে জমার বাক্সে। এভাবে প্রতি মাসে জমতে জমতে বছর শেষে গুনে দেখা যাবে, ওই টাকাটাই একসঙ্গে- দেখে আনন্দের সীমা থাকবে না।
    বদভ্যাসের ইতি

    ঝেড়ে ফেলতে হবে বাজে অভ্যাসগুলো। আপনি কি স্মোক করেন? সিগারেট প্রতিদিন খরচের একটা বড় উৎস তৈরি করে। অ্যালকোহল বা নেশাজাতীয় যেকোনো দ্রব্যের অভ্যাস থাকলেও তা খরচের বড় একটা খাত। একবার ছেড়ে দিলে বোঝা যাবে, কত টাকা বেঁচে যাচ্ছে! ভালো থাকছে স্বাস্থ্য। তেমনি যে জায়গাগুলোতে হেঁটে যেতে পারবেন, সেখানে ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার না করলেও হয়। একটু কষ্ট হবে কিন্তু টাকা বাঁচবে। সব সময় সিএনজি বা ক্যাবে চড়ার অভ্যেস থাকলে ঝেড়ে ফেলতে হবে তা। শুরু করতে হবে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার। তাতে ক্ষণিক আরামটা পাওয়া যাবে না, কিন্তু মাস শেষে বেশ ভালো একটা অ্যামাউন্ট জমবে হিসাবে।
    সুপার মলে ঘোরাঘুরিও বন্ধ করা উচিত। সেখানে টাকা খরচ করার জন্য আপনাকে উৎসাহী করে তোলা হয়। অহেতুক অনেক কিছু কেনা হয়ে যায়। টাকাও বেশি লাগে। তার থেকে একটু ঘোরাঘুরি করে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কিনে নিতে হবে কাছের দোকান বা বাজার থেকে। প্রতিদিন অল্প হলেও বাঁচবে টাকা। আর এই অল্প অল্প করেই একদিন বেশ কিছু টাকা জমে যাবে হাতে!

     রত্না রহিমা
    ছবি: ইন্টারনেট


    Subscribe & Follow

    JOIN THE FAMILY!

    Subscribe and get the latest about us
    TRAVELS
    LIFESTYLE
    RECENT POST
    জিওমেট্রিক
    23 July, 2017 10:30 pm
    একঝলক
    23 July, 2017 5:39 pm
    BANNER SPOT
    200*200
    SOLO PINE @ INSTRAGRAM
    FIND US ON FACEBOOK