FASHON
  • প্যামপারড I হাতের যত্নে


    বয়সের প্রভাব হাতে দৃশ্যমান হয় বলে এর যত্ন জরুরি। নিয়মিত পরিচর্যায় তা হয়ে উঠবে সুন্দর

    মুখত্বক নয়, হাতের ত্বকেই নাকি প্রকাশ পায় মানুষের আসল বয়স। তাই দামি এন্টি এজিং ক্রিম মুখে মেখে কিংবা নানা ব্র্যান্ডের রঙে সাদা চুল ঢেকে নয়, বয়স রুখতে বিশেষ যত্ন নিতে হবে হাতের। নিয়ম করে ক্লিনজিং, স্ক্রাবিং, ময়শ্চারাইজিং এবং সঠিক প্যাক- সুন্দর হাত পাবার ম্যাজিক্যাল সলিউশন। শুধু শীত কিংবা গ্রীষ্মে নয়, হাতের যত্ন নিতে হবে বছরজুড়ে।

    ক্লিনজিং

    হাতের যত্নে ক্লিনজিং প্রথম ধাপ। যেকোনো ধরনের কাজ সেরে নিয়েই ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। খুব বেশি গরম কিংবা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা যাবে না হাত ধোয়ার জন্য। রুম টেম্পারেচার কিংবা ঈষদুষ্ণ পানিতে হাত ধোয়াই ভালো। সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে হাইড্রেটিং ফর্মুলার মাইল্ড ক্লিনজার। ল্যাভেন্ডার, অরেঞ্জ, রোজ ওয়াটার, আরগান, শিয়া কিংবা গ্রেপসিড- এসেনশিয়াল অয়েলযুক্ত হ্যান্ডওয়াশ এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর। ফ্র্যাগরেন্স, প্রিজারভেটিভ কিংবা সালফেটযুক্ত সাবান ব্যবহার করা যাবে না। এতে হাত শুষ্ক ও খসখসে হয়ে ওঠে। যাদের হাত বেশি ধুতে হয়, তাদের জন্য ময়শ্চারাইজিং হ্যান্ড স্যানিটাইজিং জেল কিংবা ওয়াইপ ভালো অপশন। ধোয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাত মুছে নিতে হবে। তারপর অবশ্যই ময়শ্চারাইজেশন।

    এক্সফোলিয়েশ

    শুধু মুখত্বকে নয়, এক্সফোলিয়েশন জরুরি হাতের যত্নেও। সপ্তাহে এক থেকে দুবার হাতের জন্য বিশেষভাবে তৈরি স্ক্রাব দিয়ে এক্সফোলিয়েট করে নিতে হবে। এতে হাতের ত্বকের মৃত কোষ দূর হয়। শুষ্ক ও রুক্ষ ভাব কমে যায়। ময়শ্চারাইজার সহজেই শুষে নিতে পারে ত্বক। ফলে শুষ্ক, খসখসে হাত হয়ে ওঠে পেলব-মসৃণ। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন ধরনের হ্যান্ড স্ক্রাব পাওয়া যায়। এ ছাড়া ঘরে বসেই প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি হতে পারে স্ক্রাব। চিনি আর লবণ দুটি চমৎকার ন্যাচারাল এক্সফোলিয়েন্ট। প্রাকৃতিক তেল কিংবা নির্যাসের সঙ্গে এটি মিশিয়ে তৈরি করে নেয়া যায় কার্যকর হ্যান্ড এক্সফোলিয়েটর। এ ক্ষেত্রে এক কাপ চিনি কিংবা লবণ নিয়ে তাতে অর্ধেক কাপ সুইট আমন্ড, জোজোবা কিংবা ল্যাভেন্ডারের মতো ম্যাসাজ অয়েল মিশিয়ে নিতে হবে। মেশাতে হবে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েলও। ব্যস, তৈরি হ্যান্ড স্ক্রাব। এ ছাড়া ব্রাউন সুগারের সঙ্গে ম্যাসাজ অয়েল মিশিয়ে তৈরি হতে পারে হ্যান্ড স্ক্রাব। যা দিয়ে হাত ভালোভাবে ম্যাসাজ করে নিতে হবে। তারপর ঈষদুষ্ণ পানিতে হাত ভালো করে পরিষ্কার করে মুছে নিতে হবে সঙ্গে সঙ্গে।

    ময়শ্চারাইজেশন

    নিয়ম করে ময়শ্চারাইজার মেখে নিতে হবে হাতে। দিনে বেশ কয়েকবার। বিশেষ করে হাত ধোয়ার পর কিংবা গোসল সেরে নিয়ে ময়শ্চারাইজেশন মাস্ট। এ ছাড়া যখন মনে হবে হাত শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে, তখনই হ্যান্ড ক্রিম ব্যবহার জরুরি। পরিণত ত্বকের জন্য এন্টি এজিং প্রোপার্টি যুক্ত হ্যান্ড ক্রিম ব্যবহার করা উচিত। এতে কোলাজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, হাতের ত্বক থাকে টানটান ও মসৃণ। যাদের ত্বক বেশি শুষ্ক, তাদের জন্য ভারী হ্যান্ড ক্রিম ভালো অপশন। পেট্রোলিয়াম, ডাইমেথিকন, কোকোয়া, বিসওয়াক্স কিংবা শিয়া বাটার যুক্ত হ্যান্ড ক্রিম এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযোগী। নারকেল তেল আর অ্যালোভেরার মতো ন্যাচারাল ময়শ্চারাইজারও হ্যান্ড ক্রিমের জুতসই উপাদান। গরমে হালকা এবং নন-গ্রিসি হ্যান্ড ময়শ্চারাইজার বেশি উপযোগী আর শীতে চাই ভারী বডি বাটার।

    সুরক্ষায়

    বাইরে বেরোনোর আগে মুখত্বকের মতো হাতেও সানস্ক্রিন ব্যবহার জরুরি। তা না হলে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি দাগছোপ, এমনকি সূক্ষ্ম রেখাও তৈরি করতে শুরু করে ত্বকে। অন্তত এসপিএফ ২৫ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা চাই হাতে। আর বাসন মাজা কিংবা কাপড় ধোয়ার সময় গ্লাভস পরে নেয়া উচিত। এতে পানি হাতের প্রাকৃতিক আর্দ্রতার ক্ষতি করতে পারবে না। হাতও খুব শুষ্ক হবে না। হাতের ত্বক আর নখের সুরক্ষায় খাদ্যাভ্যাসেও নজর দিতে হবে। প্রোটিন, ভিটামিন বি, ভিটামিন ই আর বায়োটিনযুক্ত খাবার থাকা চাই খাদ্যতালিকায়।
    ম্যানিকিউর মাস্ট

    মাসে অন্তত একবার অবশ্যই কোনো ভালো স্যালনে গিয়ে ম্যানিকিউর করা জরুরি। নানা রকম ম্যানিকিউর হয়। পছন্দ এবং সুবিধামতো বেছে নিতে হবে যেকোনোটি। মাসে একবার কার্যকর পদ্ধতিতে হাতের পরিচর্যায় ত্বক হয়ে উঠবে কোমল ও জেল্লাদার।

    প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে

    সহজলভ্য প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের মধ্য দিয়ে বাড়িতেই হাতের যত্ন নেয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে হোমমেড প্যাকগুলো বেশি কার্যকর। ট্যান রিমুভিংয়ের জন্য এক টেবিল-চামচ লেবুর রস, ১ চা-চামচ বেসন আর এক টেবিল-চামচ দুধ ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। এটা হাতে লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপর ভালো করে ধুয়ে ফেলতে হবে।
    শুষ্ক ত্বকের জন্য প্যাক তৈরিতে ১ চা-চামচ মিল্ক ক্রিম, ১ চা-চামচ বেসন আর এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে নিতে হবে। এটা হাতে মাখিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। তারপর ধুয়ে নিতে হবে। প্যাকটি ত্বকে জোগাবে জরুরি আর্দ্রতা।
    কোমল মসৃণ হাতের জন্য ১ চা-চামচ বেসনের সঙ্গে এক টেবিল-চামচ গোলাপজল আর সামান্য হলুদ মিশিয়ে তৈরি করতে হবে প্যাক। বেসন, মধু, দুধ আর সামান্য হলুদ দিয়ে তৈরি প্যাকও হাতের যত্নে দারুণ।


     জাহেরা শিরীন
    মডেল: মৌসুম
    মেকওভার: পারসোনা
    ছবি: ক্যানভাস


    Subscribe & Follow

    JOIN THE FAMILY!

    Subscribe and get the latest about us
    TRAVELS
    LIFESTYLE
    RECENT POST
    জিওমেট্রিক
    23 July, 2017 10:30 pm
    একঝলক
    23 July, 2017 5:39 pm
    BANNER SPOT
    200*200
    SOLO PINE @ INSTRAGRAM
    FIND US ON FACEBOOK