FASHON
  • ফিচার I প্রভাবক

    এদের কেউই ডিজাইনার নন। কিন্তু প্রভাব ফেলেছেন ফ্যাশনে। বিশ্বজুড়ে

    মারলিন ডেটরিক

    মারলিনকে বলা হয় স্টাইল চ্যামেলিয়ন বা বহুরূপী। তার স্টাইলে এত ঘন ঘন পরিবর্তন হতো যে, তাকে নির্দিষ্ট ছকে দেখার উপায় ছিল না। ত্রিশের দশকে তিনিই ছিলেন প্রথম মহিলা, যাকে টাক্সিডো পরতে দেখা গেছে। ঢেউ খেলানো ব্লন্ড চুলের সঙ্গে যা পুরোপুরি বেমানান ছিল। কেবল তা-ই নয়, টাই, বাল্কি বা খুব ঢোলা ব্লেজার, ফেমিনিন মিডি স্কার্ট, লাশ ফার পরেও ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন মারলিন। তখনকার নারীর কাছে এমন পোশাক কল্পনাতীত ছিল, বলা যায়। কিন্তু মারলিন সবার থেকেই আলাদা ছিলেন। তিনিই প্রথম দেখিয়েছেন, মেয়েরাও ছেলেদের পোশাক পরতে পারে। তাতে মোটেই খারাপ লাগে না, বরং ফ্যাশনেবল মনে হয়।

    বেব পালে

    সমাজের কেতাদুরস্ত নারী হিসেবে পঞ্চাশের দশকে বিখ্যাত ছিলেন বেব। সে সময় পোশাকে হাই এবং লো ফ্যাশন মিক্সম্যাচ করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। তার হাতব্যাগের সঙ্গে স্কার্ফ বেঁধে নেয়ার ট্রেন্ড তখন তো বটেই, আজকের সময়েও জনপ্রিয় হয়ে আছে। বেব সমকালীন কোনো ডিজাইনার বা ট্রেন্ডের ধার ধারতেন না। সম্পূর্ণ নিজের আনন্দে পোশাক পরতেন। বিলাসবহুল সেবল কোটের সঙ্গে সস্তা অথচ চমকপ্রদ কস্টিউম জুয়েলারির ব্যবহার করে তিনি রীতিমতো চমক সৃষ্টি করেছিলেন।

    কেবল রুপালি পর্দার তারকারাই নন, যুগে যুগে স্টাইল প্রভাবক হয়েছেন ফ্যাশন, রাজনীতি এবং সমাজের নানা অঙ্গনের নারীরাও। স্ট্রিট এবং রানওয়ে স্টাইলের নানা দিকে তারা বিভিন্নভাবে প্রভাব রেখেছেন, তাদের দেখানো পথে ফ্যাশন আজকের এই অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। মিশেল ওবামার কথাই ধরা যাক। ২০০৯ সালে ফার্স্ট লেডি হওয়ার পর থেকে তার দেখাদেখি হোমগ্রোন আমেরিকান ফ্যাশনের অনুসারী বনে গিয়েছিলেন অনেকে। কয়েক বছর আমেরিকান ফ্যাশনপ্রেমীরা মেতে ছিল মিশেলের এই সহজ সাধারণ দেশীয় ফ্যাশন স্টেটমেন্ট নিয়ে। ম্যাডোনা সৃষ্টি করেছিলেন নিজের সময়ের স্টাইল স্টেটমেন্ট। আন্ডারওয়্যারকে আউটারওয়্যার হিসেবে পরা থেকে শুরু করে আশি ও নব্বই দশকে তার লেয়ারড কস্টিউম জুয়েলারির ভক্ত বনে গিয়েছিলেন অনেকেই। এমন উদাহরণ বিপুল। সমাজের নানা অংশের প্রতিনিধি এসব নারীর স্টেটমেন্টই হয়ে উঠেছে ট্রেন্ড। তাতে ঋদ্ধ হয়েছে আমাদের আজকের ফ্যাশন বিশ্ব।


    জ্যাকি কেনেডি ওনাসিস

    ষাটের দশকে ফ্যাশনের ফার্স্ট লেডি বনে গিয়েছিলেন জ্যাকি। লাখো নারীকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন তার স্টাইলে। জ্যাকি যেভাবে নিজেকে সাজাতেন, সেই স্টাইলটার নামই হয়ে গিয়েছিল ‘জ্যাকি ও’। তার দেখাদেখি অন্য নারীরাও এই লুকে নিজেকে দেখতে ভালোবাসতেন। সিম্পল শিফটস, পিলবক্স হ্যাট, এলিগ্যান্ট স্কার্ভ, ওভারসাইজড সানগ্লাস আর পিকোটসের ট্রেন্ড সৃষ্টি করেছিলেন জ্যাকি।

    অড্রে হেপবার্ন

    অড্রেকে সব সময়ই মেজর ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সর বা ফ্যাশনবিশ্বের বড় একজন প্রভাবক হিসেবে ধরা হয়। অত্যন্ত মেধাবী এই অভিনেত্রী কেবল তার অভিনয় দিয়ে নয়, নিজস্ব স্টাইল এবং ফ্যাশনের কারণেও বিখ্যাত হয়ে আছেন। স্ট্রেইট, ব্ল্যাক-ক্রপড প্যান্ট, বোটনেক টপ এবং কমফোর্টেবল স্লিপ-অন লোফারস জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে তার অবদান অনেক। ট্রেন্ডে এগুলো টিকেছিল বহুদিন। ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফ্ফানি ছবির হোলি গোলাটি চরিত্রটিকে অড্রে এমনভাবে রূপায়ণ করেছিলেন যে, এখনো বোদ্ধারা তাকে সর্বকালের সেরা একটি ফ্যাশন আইকনিক চরিত্র হিসেবে অভিহিত করে থাকেন।

    ন্যান কেম্পনার

    ষাটের দশকে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। সমালোচকদের মতে, হোয়াট আ লেডি কুড ওয়্যার বা একজন নারী কী পরতে পারে, ন্যান তা নতুনভাবে দেখিয়ে দিয়েছিলেন। তাকে নিয়ে ঘটা একটি ঘটনা আজও লোকের মুখে মুখে। নিউইয়র্কের লা কোট বাস্ক রেস্টোর্যান্টে ন্যান খেতে গিয়েছিলেন প্যান্টস্যুট পরে। রেস্তোরাঁটির ড্রেসকোড ছিল, মেয়েরা প্যান্ট পরে সেখানে ঢুকতে পারবে না। এ নিয়ম দেখিয়ে ন্যানকে ঢুকতে বাধা দেয়ায় তিনি প্যান্ট খুলে খালি টপ পরে সেখানে ঢুকে গিয়েছিলেন। সে সময় এ ঘটনায় হইচই পড়ে গিয়েছিল সারা দেশে। ডিজাইনার সেন্ট লরেন্ট, ভ্যালেনতিনো, অস্কার ডি লে রেনাটার পোশাকের ভক্ত ছিলেন তিনি। তাদের ডিজাইনগুলোকে বিখ্যাত করার পেছনেও তার অবদান আছে। কথিত আছে, প্যারিসে অনুষ্ঠিত তাদের কোনো শো জীবনে মিস করেননি ন্যান।

    বিয়ানকা জ্যাগার

    সত্তর দশকের হাই গ্ল্যাম ট্রেন্ডের অংশ ছিলেন তিনি। কাউকে ফলো না করে তিনি নিজেই সৃষ্টি করেছিলেন নিজস্ব স্টেটমেন্ট। সিকুইনড সিথ, ফার, হাই ওয়েস্ট প্যান্ট, ক্রিসপ স্যুট, আনবাটনড ব্লাউজ তার প্রিয় ছিল। পোশাকে পুরোনো ও নতুনের মিশ্রণ ঘটাতেন বিয়ানকা। ওয়াইড লেগড প্যান্টের সঙ্গে পরতেন রিভিলিং টপ। সঙ্গে পাগড়ি, স্লিক, কালো চোকার ইত্যাদি। দেখলে একেবারেই অন্য রকম লাগতো, নিজের সময়ের চেয়ে অগ্রসর মনে হতো।

    প্রিন্সেস ডায়ানা

    আশির দশকে ডায়ানার বিয়ের সেই বিখ্যাত গাউন নিয়ে যে মাতামাতি হয়েছিল, আর কোনো পোশাক নিয়ে তা দেখা যায়নি। এর পর থেকে অভিজাত কনেরা সেই সাদা গাউনের স্টাইলকেই নানাভাবে অনুসরণ করে এসেছেন। মুক্তার জুয়েলারির সঙ্গে তার অফ দ্য শোল্ডার গাউনের প্রেমে পড়েননি এমন নারী খুঁজে পাওয়া মুশকিল। প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে ডিভোর্সের আগ পর্যন্ত ডায়ানা ব্রিটিশ বেইসড ফ্যাশনকে বিশ্বমানচিত্রে নতুন করে চিনিয়ে দিয়েছিলেন। ভালোবাসতেন ক্যাথেরিন ওয়াকার, বেলভিল সেশন, জিনা ফ্রাটিনির ডিজাইন।

    জেন বারকিন

    ফ্যাশনে নতুন একটি অধ্যায় সৃষ্টি করেছিলেন জেন বারকিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তার পোশাকে একধরনের ঔদাসীন্য মিশে থাকতো। জেন পরতেন ফ্লেয়ারড জিনস, সহজ সুতার বুননের জামা, ডেলিকেট জুয়েলারি, সাদা টি আর শর্ট মিনি। এই স্বকীয়তা দিয়ে তিনি আকর্ষণ করেছিলেন ফ্যাশনপ্রেমীদের। তার লুক সব সময়ই প্রমাণ করেছে, ক্যাজুয়াল পোশাকেও স্টাইলিশ হয়ে ওঠা যায়, যদি তা ঠিকভাবে পরা হয়। ১৯৮৪ সালে বারকিনেরপ্রতি সম্মান দেখিয়ে হার্মিস সৃষ্টি করেছিলেন একটি আইকনিক ব্যাগ, যা বারকিন ব্যাগ নামে পরিচিত হয়েছিল।


    ম্যাডোনা

    আশির দশকে ম্যাডোনার স্টাইল জনপ্রিয় ছিল তার সঙ্গীতের মতোই। বিশেষজ্ঞদের মতে, তা যে ব্যাকডেটেড হয়ে গেছে, এমন বলার উপায় নেই। পপতারকাদের অনেকেই আজও ম্যাডোনাকে অন্ধের মতো অনুসরণ করেন। তাদের স্টাইলিংয়ে এর প্রমাণ মেলে। তার সেই বিখ্যাত আন্ডারওয়্যার ওরন এস আউটারওয়্যার লুক আর ক্রস নেকলেসে সিগনেচার লেয়ারিংয়ের কথা কেউ কি কখনো ভুলতে পারবে! লেস, টুলে এবং ডেনিমের সেই কনট্রাস্টিং মিক্স ট্রেন্ডের কথাও এখনো ফ্যাশন-সমালোচকদের আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে আছে।

    কেট মস

    স্ট্রিট স্টাইলকে কীভাবে অভিজাত মহলে জনপ্রিয় করে তুলতে হয়, তা কেটের চেয়ে আর ভালো কে জানে! বোহেমিয়ান লুকের সঙ্গে ক্ল্যাসিকের মিশ্রণ করে তিনি ফ্যাশনে নতুন একটি ক্যাটাগরির প্রবর্তন করেছেন। কেটের স্টাইলে ছিল আলেকজান্ডার ম্যাককুইন থেকে শুরু করে মার্ক জ্যাকবস পর্যন্ত ডিজাইনারদের প্রভাব। ২০০৭ সালে তিনি টপশপের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজস্ব লাইন লঞ্চ করে নতুন করে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন ফ্যাশনবিশ্বে। প্রডাক্টগুলো ছিল একেবারেই সাধারণ মানুষের জন্য। তার সেই সহজ কিন্তু আকর্ষক ডিজাইনের প্রেমে পড়েননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

    সারা জেসিকা পার্কার

    অভিনেত্রী হিসেবে ফ্যাশনের সঙ্গে সারার সম্পর্ক অনেকটা বিরলই বলা যায়। পর্দায় তিনি যেমন স্টাইলিশ, তেমনি পর্দার পেছনেও। রেড কার্পেটগুলোতে সারার লুক নিয়ে ফ্যাশন ম্যাগাজিনগুলোতে আলোচনার ঝড় উঠবেই। সেক্স ইন দ্য সিটি ছবিতে তার পরিহিত পোশাকগুলো বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবেও সারা তার স্টাইলে অনেককে প্রভাবিত করতে পেরেছেন। ফেন্দি সিকুইনড সিথসের সঙ্গে ম্যাচিং হ্যান্ডব্যাগ, অপ্রচলিত নানা রকম হেডপিস পরে সম্পূর্ণ নতুন ধরনের স্টেটমেন্ট সৃষ্টি করেছিলেন সারা।

    মিশেল ওবামা

    আমেরিকার ফার্স্ট লেডি হিসেবে মিশেল তার প্রজন্মের সব নারীকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন নিজ দেশের ফ্যাশনের প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য। জেসন উ, নারকিসো রডরিগেজ, ট্রেসি রিজ, র্যাচেল রয় প্রমুখ আমেরিকান ডিজাইনারকে বিখ্যাত করে তুলেছিলেন মিশেল। তার কল্যাণেই ক্যারোলিনা হেরেরা, আলেকজান্ডার ওয়াং অথবা র্যালফ লরেনকে ছাপিয়ে আমেরিকার ফ্যাশনদৃশ্যে উঠে এসেছিলেন এসব ডিজাইনার। মিশেল তার দেশের ফ্যাশনে নিজেকে সাজানোর প্রেরণা ও চর্চাকে অনেকটা বিপ্লবের মতোই ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।

     রত্না রহিমা
    ছবি: ইন্টারনেট


    Subscribe & Follow

    JOIN THE FAMILY!

    Subscribe and get the latest about us
    TRAVELS
    LIFESTYLE
    RECENT POST
    ময়লার রঙে
    23 November, 2017 2:24 am
    ভিক্টোরিয়া
    23 November, 2017 1:48 am
    রিচম্যানে রিচ
    23 November, 2017 12:10 am
    BANNER SPOT
    200*200
    SOLO PINE @ INSTRAGRAM
    FIND US ON FACEBOOK