FASHON
  • ফিচার I শিশুর আনন্দ

    ঈদ উৎসব প্রাণময় হয়ে ওঠে শিশুর আনন্দে। তাতে বড়রাও যুক্ত হতে পারেন। গাইড ও সঙ্গী হিসেবে

    ভোরবেলা মায়ের এক ডাকেই উঠে গেছে বাবুই। গোসল করে নতুন পাঞ্জাবি আর পাজামা পরেছে ঈদের নামাজে যাবে বলে। বাবুইয়ের এবার ঈদ একটু অন্য রকম। অনেক স্পেশাল গিফট জমা হয়েছে ওর নীল রঙের ছোট্ট ক্লসেটে। সাত বছরের বাবুই এবার প্রথম রোজা রেখেছিল। সব মিলিয়ে পাঁচটা। রমজান মাস শুরু হওয়ার আগে মা, বাবা, দাদু আর দিদার কাছ থেকে তালিম নিয়েছে। রোজা রেখে কষ্ট যে হয়নি তা নয়। তবে আনন্দ অনেক বেশি হয়েছে। স্কুলের অনেক বন্ধুও রোজা রেখেছে। সবার অনুভূতি প্রায় একই রকম।
    ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে গেল, যখন ছোট্ট বোনটাকে নিয়ে রিকশায় করে বাবার সঙ্গে বেড়াতে বের হলো। যে বাড়িতেই যাচ্ছে, সবাই চকচকে নতুন টাকার নোট দিচ্ছে সালামি হিসেবে। দুপুরের মধ্যেই বাবুইয়ের পকেটে পাঁচ শ টাকার মতো জমা হয়ে গেল। বেশির ভাগই দশ টাকার নোট। একসঙ্গে এত নোট দুই হাতে ধরতে রীতিমতো কষ্টই হচ্ছিল ওর। সারা দিন ঘুরে বেড়িয়ে সন্ধ্যায় ক্লান্ত বাবুইয়ের চোখজুড়ে ঘুম নামলো। কিন্তু ঘুমাতে চায় না সে, চোখ বুজলেই বুঝি ঈদ শেষ হয়ে যাবে। শেষমেশ মা এসে বললো, ঘুমাও বাবুই, কোনো চিন্তা নেই, ঈদ তো সাত দিন থাকবে।
    হ্যাঁ, ছোট্টবেলার ঈদগুলো কিন্তু সাত দিন করেই থাকতো। মাঝে মাঝে হয়তো আরও দীর্ঘ। ঈদের আনন্দ বড় হতে হতে রং বদলায়। বাবার হাত ছেড়ে আমরা একাই ঈদের জামাতে দাঁড়াই। আবার অনেক দিন পর কোনো এক ছোট্ট আমি এসে সামনে দাঁড়ায় ঈদের পুরোনো সেই রংগুলো নিয়ে। ঈদ যেন ছোটদেরই। ঘরের সোনামণিটাকে রমজান আর ঈদের মাহাত্ম্য বোঝাতে পারাই বড়দের আসল আনন্দ। ছোটদের এই উদ্যাপন নিয়ে কিন্তু ভাবার আছে অনেক কিছুই। ঠিকঠাকমতো পরিকল্পনা করে রাখলে, তবেই ঘরের শিশুটিকেও ঈদের মূলমন্ত্র বোঝানো সম্ভব। নয়তো প্রতিবছর তার কাছে ঈদ আসবে কেবল নতুন জামা পরার একটা সাধারণ উৎসব হিসেবে।
    আপনার শিশুকে রোজা রাখার কারণ আর উদ্দেশ্য জানান। রমজান মাসে সংযমের যা কিছু উদাহরণ আপনি ওকে নিজে পালন করে দেখাবেন, ওর মনে তা স্থায়ী হবে। পরবর্তী সময়ে রোজা যে শুধুই না খেয়ে থাকার প্রতিযোগিতা নয়, এটা ভেবে নিয়েই ও রোজা পালন করবে। এ মাসের কিছু আলাদা প্রস্তুতি নিন শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে। যেমন, সারা মাসের জন্য একটা ভালো কাজের ক্যালেন্ডার করুন। যেখানে প্রতিদিন শিশুটিসহ বাড়ির সবাই একটা করে ভালো কাজের কথা লিখে রাখবেন প্রতিদিন। হতে পারে সেটা ঘরের কাজে মাকে সাহায্য করা কিংবা নিজের কাপড় নিজে গুছিয়ে রাখা।
    ইফতারি তৈরিতে রোজাদার মা-বাবাকে সাহায্য করা যে একটা ভালো কাজ, এটা ওকে জানাতে পারেন। শরবতের জগে চামচ দিয়ে চিনি মেশানোর কাজটা তখন আর আপনাকে করতে হবে না। গরিব কিংবা পথশিশুদের সাহায্য করার জন্য ওর হাত দিয়েই মসজিদে ইফতারি পাঠান। ওর মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি হবে। রোজায় শিশুটির সংশ্লিষ্টতা থাকলে ঈদ আনন্দ আরও বেশি করে অনুভব করবে। ঈদ যে শুধু ইচ্ছেমতো নতুন জামা কেনাই নয়, সেটাও ওকে জানাতে পারেন। বাড়ির শিশুদের জন্য আলাদা করে বাজেট তৈরি করে দিন, যাতে ওর মাথায় থাকে এর মধ্যেই জামা-জুতা সব কিনতে হবে। ওর বাজেট থেকে পথশিশুদের সঙ্গেও ভাগাভাগি করতে শেখাতে পারেন। ঈদ যে সবার জন্য, সেটা ওকে জানান।
    ঈদ যত এগিয়ে আসে, আনন্দ যেন বাড়তেই থাকে। ঈদের কেনাকাটায় বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়েই যান। অনেকে ভিড় এড়াতে আগেই শপিং করে ফেলেন। সেটাও মন্দ নয়। বাচ্চার পছন্দের জামাটাই কিনে দিন। পোশাক কেনায় প্রাধান্য দিন রং আর ঋতুকে। আরামের কথা অবশ্যই মাথায় রাখবেন। শিশুর ঈদের সাজ যেন শিশুসুলভ উদ্দীপনা নিভিয়ে না দেয়। এবারের ঈদে বেশ গরম থাকবে, বোঝাই যাচ্ছে। বৃষ্টিও হতে পারে। সুতরাং হালকা রঙের সুতি পোশাকটাই কিনে দিন বাচ্চাকে। বাসায় কাজের লোকটা যদি অল্প বয়সী কেউ হয়, তার কেনাকাটার দিকেও খেয়াল রাখুন। আপনার শিশুর ঈদের পোশাক আর আপনার সাহায্যকারী শিশুর পোশাকে যেন আকাশ পাতাল ফারাক না হয়। আপনার প্রতিটি আচরণ কিন্তু আপনার বাচ্চাটার ওপর প্রভাব ফেলবে। মানুষের মাঝে ভেদাভেদ ভুলে যেতে সাহায্য করুন নিজের শিশুটিকে।
    ঈদের আগের আরেক মজা হলো ঈদকার্ড। বিভিন্ন গিফট শপে তো আছেই, পাড়ার মধ্যেও ছোট্ট ছোট্ট ঈদকার্ডের দোকান বেশ জমে ওঠে। হাতেও এটি বানানো যায়, তা হয় আরও মজার। রোজা রাখার ক্লান্তি কেটে যাবে এই কাজের আনন্দে। রঙিন কাগজ আর কালার পেন কিনে আনুন। ইচ্ছেমতো ফুল, লতাপাতা এঁকে আপনার শিশুকে বলুন একটা কিছু লিখে দিতে। পরিবার এবং বন্ধুদের মধ্যে ঈদকার্ডের আদান-প্রদান সম্পর্ক মজবুত করার একটা ভালো উপায়। খুশি তো শেয়ার করার জন্যই, তাই না? কিছু রঙিন কাগজ বাঁচিয়ে রাখতে পারেন, ঈদ মোবারক প্ল্যাকার্ড লিখে ঈদের আগের দিন দরজার বাইরে ঝোলানোর জন্য। কাজটা বাচ্চাদের দিয়েই করান। প্ল্যাকার্ডের পাশাপাশি চাঁদতারা কাগজে এঁকে কেটে নিয়েও সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দেয়া যায়।
    চাঁদরাতের স্পেশাল কিছু ফান তো হয়েই থাকে সব বাসায়। একদিকে ঈদের দিনের রান্নার প্রস্তুতি, আরেকদিকে ছাদে উঠে নতুন চাঁদ দেখা, হাত ভরে মেহেদি লাগানো, তারাবাতির উচ্ছ্বাস। তবে সব শেষ করে ঘুমিয়ে যেতে যেন দেরি না হয়। ঈদের নামাজ না পড়তে পারলে কিন্তু মূল আনন্দটাই মাটি।
    ঈদের প্ল্যান নিয়েও আগে থেকে বাচ্চার সঙ্গে কথা বলে রাখুন। যাতে ও নিজেও মনে মনে একটা প্রস্তুতি রাখতে পারে। সারা দিন কোথায় ঘুরবে, কী খাবে। বাসায় মেহমান এলে কী করতে হবে। আর সব দিনের মতো খেলনা মেঝেতে ছড়িয়ে রাখা যাবে না- ইত্যাদি ব্যাপার ওকে আগে থেকেই বলে রাখুন। ঈদে বড়দের থেকে পাওয়া সালামিটা যে সম্পূর্ণ ওর নিজের, সেটাও বলে দিন। টাকাটা ওর ইচ্ছেমতো খরচ করতে দিন। সারাটা রোজার মাসজুড়ে ক্লান্তিতে হয়তো বাচ্চাকে সেভাবে কোথাও নিয়ে যেতে পারেননি। ঈদের ছুটিটা কাজে লাগান। শহরের বাইরে কোথাও যেতে পারেন ঈদের পরদিন, কিংবা কোনো থিম পার্কে।
    বাড়িতে শিশুটি তার ছোট্ট পায়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছে, কলিংবেল বাজলেই আধো বোলে ঈদ মোবারক বলে চেঁচিয়ে উঠছে, ভাবতেই কেমন মজা লাগছে, তাই না? একটা বাড়িতে ঈদের পুরো প্রস্তুতিই অন্য রকম হয়, যদি সেখানে একটা ছোট্ট শিশু থাকে। আনন্দে হামলে পড়ে ভাগ বসায় সে। কিন্তু তাতে আনন্দ একটুও না কমে বরং এতই বেড়ে যায় যে, এক দিনের ঈদ তখন আর সাত দিনেও শেষ হতে চায় না।

     পলা রহমান


    Subscribe & Follow

    JOIN THE FAMILY!

    Subscribe and get the latest about us
    TRAVELS
    LIFESTYLE
    RECENT POST
    জিওমেট্রিক
    23 July, 2017 10:30 pm
    একঝলক
    23 July, 2017 5:39 pm
    BANNER SPOT
    200*200
    SOLO PINE @ INSTRAGRAM
    FIND US ON FACEBOOK