FASHON
  • ফ্যাশন উইক I ল্যাকমে উইক

    এবার আরও জমকালো। তারকাদের অংশগ্রহণও দেখা গেছে আগের চেয়ে বেশি। অধিকন্তু ডিজাইনারদের কালেকশন ছিল চমকে দেয়ার মতো

    গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভারতের ল্যাকমে ফ্যাশন উইক। বিশ্ব মিডিয়াও আলোচনায় মুখর ছিল এর খুঁটিনাটি নিয়ে। শীতের আগাম ফ্যাশন-ভাবনা নিয়ে আসা এবারের আয়োজন শুরু হয় ১৬ আগস্ট, মুম্বাইয়ের সেন্ট রেজিস হোটেলে। তারপরের পাঁচ দিন দর্শক মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেছেন বিখ্যাত সব ডিজাইনারের অপূর্ব কাজগুলো। জনপ্রিয় বিউটি ব্র্যান্ড ল্যাকমের পৃষ্ঠপোষকতায় এবার আঠারোতম বর্ষে পদার্পণ করলো এটি। শুরু হয়েছিল সেই ১৯৯৯ সালে। পাঁচ দিন দর্শক মাতিয়ে এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটে গত ২০ আগস্ট।
    এবার তারকার সমাগম ছিল আগের চেয়ে বেশি। ফলে অনুষ্ঠানের আকর্ষণ বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। জনপ্রিয় ডিজাইনারদের নজরকাড়া সব পোশাক পরে র্যাম্পে হেঁটেছেন কালকি কোচলিন, চিত্রাঙ্গদা সিং, রাধিকা আপ্তে, বিদ্যুৎ জামওয়াল, বাণী কাপুর, প্রীতি জিনতা, নার্গিস ফাখরি, দিশা পাটানি, ঈশা গুপ্ত, আলী ফজল, ইলিয়ানা ডিক্রুজ, শ্রদ্ধা কাপুরের মতো তারকারা। দর্শক হিসেবেও উপস্থিত ছিলেন নামিদামি অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। কবির বেদি, নীনা গুপ্তা, দিয়া মির্জা, নেহা ধুপিয়া, মন্দিরা বেদি, প্রতীক বাব্বার, মিনি মাথুর, সোনা মহাপাত্রসহ পুরো বলিউডই যেন হাজির হয়েছিল অনুষ্ঠানকে আরও জমকালো করে তুলতে।
    তবে উৎসবটি বেশি তাৎপর্যময় হয়ে উঠেছে তৃণমূল পর্যায়ের তাঁতশিল্পীদের উপস্থিতির কারণে। বলা যায়, আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিলেন তারাই। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের গ্রাম থেকে আসা তাঁতিরা দর্শকদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন তাদের অভিজ্ঞতা আর বোনা কাপড়ের ইতিহাস। তরুণ ডিজাইনারদের পাশাপাশি আঞ্চলিক এসব তাঁতশিল্পীর কারণে ঋদ্ধ হয়েছে উৎসব। এই আসরের ভিন্নতা ছিল একটা জায়গায়। পাশ্চাত্যের নয়, এবারের ডিজাইন করা পোশাক প্রভাবিত ছিল দেশজ ভাবনায়। উৎসবে অংশ নেয়া প্রত্যেক ডিজাইনারের পোশাক দেখে মনে হয়েছে, তারা উপমহাদেশীয় পোশাকের ধারাকে বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য করে তুলতে চাইছেন। আধুনিকতা এড়িয়ে শিকড়ের সন্ধান করার প্রয়াস চালিয়েছেন। পাঁচ দিনের মধ্যে উৎসবের দ্বিতীয় দিনের নাম ছিল ‘সাসটেইনেবল ফ্যাশন ডে’। ‘অতীতকে নিয়ে বর্তমান এগিয়ে যাক ভবিষ্যতের দিকে’ এমন স্লোগান নিয়ে উদ্যাপিত হয় দিনটি।
    ভারতীয় পুরাণের ঘটনা, চরিত্র আর সংস্কৃতির আধিপত্য ছিল মোটিফে আর শাড়ি থেকে শুরু করে সব পোশাকে প্রাধান্য পেয়েছে হাতে আর তাঁতে বোনা নকশা। প্রাকৃতিক উপাদান আর রঙের ব্যবহারও ছিল চোখে পড়ার মতো। শালের ছাঁটে প্রচুর ভিন্নতা ছিল, তবে সবচেয়ে বেশি নজরে পড়ছে যে পোশাকটি, তার নাম শ্রাগ। এমন কোনো পোশাক নেই, যার সঙ্গে শ্রাগ ব্যবহৃত হয়নি। শাড়ি, শার্ট, শর্টস, কুর্তা, আনারকলি, টি-শার্ট- সবকিছুর সঙ্গেই নানাভাবে যোজিত হয়েছে এটি। এমনকি মেইল ফ্যাশনেও এটি দেখা গেছে। ডিজাইনাররা এতে বিভিন্ন ধরনের ফেব্রিক ব্যবহার করেছেন। বেনারসি, কাতান, সিল্ক, খাদি, কাঞ্জিভরম, সুতি ইত্যাদি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বৈচিত্র্যময় সব শ্রাগ। বোঝা যাচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে এশিয়ান ফ্যাশনে এটি রাজত্ব করবে।
    ছেলেদের পোশাকের কাট, ছাঁট, রঙ, নকশাতেও পাওয়া গেছে ভিন্নতা। গতানুগতিক শেরওয়ানি ও পাঞ্জাবিতে সীমাবদ্ধ ছিল না এবারের ডিজাইন। বরং প্রাধান্য পেয়েছে সামরিক ধাঁচের পোশাক। বেশির ভাগ পোশাকের রঙ ছিল কালো কিংবা ধূসর। তবে পুরুষরাও যে ফ্লাওয়ার প্রিন্টে রঙিন হয়ে উঠতে পারেন, তা-ও দেখিয়েছেন ডিজাইনাররা। ছেলেদের শীতপোশাকের ফেব্রিক হিসেবে খাদির প্রাধান্য ছিল বেশি। খাদি রীতিমতো রাজত্ব করেছে বলা যায়। এবারের সব পোশাকে দেশীয় ফেব্রিক, ডিজাইন আর ছাঁট ছিল চোখে পড়ার মতো। গত আয়োজনগুলোর মতো পাশ্চাত্য পোশাক যেমন গাউন, ফ্রক, জ্যাকেট পরিলক্ষিত হয়নি সেভাবে; বরং সে স্থান দখল করেছে তাঁতের শাড়ি, লেহেঙ্গা আর আনারকলি ঘরানার কামিজ। রিতু কুমার, মাসাবা গুপ্ত, সঞ্জয় গার্গ, গৌরব জয় গুপ্ত, আনাভিলা মিশ্র, গৌরাঙ্গ শাহ, শৈলেশ সিংঘানিয়া, সুনীতা সরকার, অমিত আগারওয়াল, রাহুল মিশ্র, দিব্যম মেহরা, মনোজ আগারওয়াল, শ্রেয়া সৌম্যর মতো প্রথম সারির ডিজাইনাররা তাঁদের ডিজাইন করা পোশাকে তাঁতশিল্পীদের প্রেরণায় মজেছেন। হাতে বোনা খাদি আর উলের পোশাকের পাশাপাশি বেনারসি, কাতান আর সিল্কের ব্যবহারেও উৎসবের উজ্জ্বলতা বেড়েছে।
    দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় ফ্যাশনে পাশ্চাত্যের পোশাক আধিপত্য নিয়ে আছে বলা যায়। তবে ভারতীয় নারীর প্রধান পোশাক যে শাড়ি, ডিজাইনাররা নতুন করে সে কথাটি মনে করিয়ে দিয়েছেন। নানা রকম শাড়ি প্রদর্শন করা হয়েছে উৎসবে। এতেও যে নারী কতটা আবেদনময় হয়ে উঠতে পারে, বিশ্বকে তা দেখিয়ে চমকে দেবার চেষ্টা করেছেন ভারতীয় ডিজাইনাররা। মজার ব্যাপার হলো, শাড়িকে জমকালো করে তোলার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে ব্লাউজের ডিজাইন। শাড়ির থেকেও তা অনেক বেশি দৃষ্টিনন্দন আর আকর্ষক ছিল। ডিজাইনাররা তাদের সৃষ্টিশীলতা ঢেলে দিয়েছেন ব্লাউজের কারুকাজকে ভিন্ন, বৈচিত্র্যময় ও আবেদনময় করে তোলার কাজে। শুধু ব্লাউজের কল্যাণে একটা সাধারণ শাড়িও হয়ে উঠেছে গর্জাস। ডেনিম পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছে ব্লাউজ তৈরিতে। করেছেন ডিজাইনার শ্রেয়া সোম্য। দেশি শাড়ির সঙ্গে ডেনিমের তৈরি পাশ্চাত্য ধাঁচের জ্যাকেটের মেলবন্ধনের কারণে বেশ আলোচিতই ছিলেন তিনি এই উৎসবে।
    এবারও ল্যাকমে ফ্যাশন উইক শেষ হয়েছে ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রার ফ্যাশন শোর মাধ্যমে। প্রতিবারের ফ্যাশন উইকে এটাই যেন থাকে বিশেষ আকর্ষণ। ২০ আগস্ট শেষ দিনে এই ডিজাইনার তাঁর বিশেষ কালেকশন প্রদর্শন করেন মঞ্চে। ‘টেলস অব ইন্ডালজেন্স’ নামে এ সংগ্রহের সব কটিই ছিল পার্টি পোশাক। মনীশ সব সময় তাঁর ভারতীয় ঘরানার পোশাকের জন্য বিখ্যাত। তবে এবার সে প্রথা ভেঙে তিনি অনুসরণ করেছেন পাশ্চাত্যকে। গাউন, জ্যাকেট আর স্যুটের সমারোহ ছিল তার সেই কালেকশনে। শো স্টপার ছিলেন ভারতীয় তারকা জ্যাকুলিন ফার্নান্ডেজ এবং আদিত্য রয় কাপুর। পাঁচ দিনব্যাপী এই ফ্যাশনযজ্ঞের আড়ম্বর ও আলোড়ন দেখে মনে হয়েছে, অচিরেই এটি হয়ে উঠতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রধান ফ্যাশন উইকগুলোর একটি।

     রত্না রহিমা
    ছবি: ইন্টারনেট


    Subscribe & Follow

    JOIN THE FAMILY!

    Subscribe and get the latest about us
    TRAVELS
    LIFESTYLE
    RECENT POST
    দলীয় চিত্র
    22 October, 2017 3:50 am
    আনুশকার ‘নুশ’
    22 October, 2017 3:50 am
    ব্রণ
    21 October, 2017 10:35 pm
    BANNER SPOT
    200*200
    SOLO PINE @ INSTRAGRAM
    FIND US ON FACEBOOK