FASHON
  • সঙ্গানুষঙ্গ I হার্নেস বেল্ট

    ইতিমধ্যে বেল্ট ছাড়িয়েছে তার প্রচলিত সীমা। বেশ আগেই এটি হয়ে উঠেছে ওয়েস্টার্ন আউটফিটের অংশ। সব ছাপিয়ে হালের ফ্যাশন হার্নেস বেল্ট

    এই দেশে বেল্ট কবে এসেছে নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। আশির দশকে যখন দেশি ডিজাইনাররা ফ্যাশন নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট শুরু করেন, তখনো স্টাইলিশ বেল্টের ব্যবহার চোখে পড়তো না বললেই চলে। নব্বইয়ের দশকে যখন পাশ্চাত্যের এলিমেন্টগুলো প্রভাব ফেলা শুরু করে, তখন থেকে ফ্যাশনপ্রেমীদের কালেকশনে আসতে থাকে ক্ল্যাসি বেল্ট। তবে শুরুর দিকে শুধু অভিজাত পরিবারের মেয়েদেরই দেখা যেত ওয়েস্টার্ন আউটফিটের সঙ্গে বেল্ট ক্যারি করতে। একুশ শতকে এসে এর ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ে সব ফ্যাশনপ্রেমীর মধ্যে। এসব বেল্টের মধ্যে ডিজাইন সাইজ কিংবা শেপ নিয়েও চলে তুমুল এক্সপেরিমেন্ট। ফলাফল হার্নেস বেল্ট। এখনকার ফ্যাশনে এক অনন্য সংযোজন। হার্নেস বললেই আমাদের মাথায় আসে অ্যাডভেঞ্চার, এসব বেল্ট শরীরে জড়িয়ে পাহাড় বেয়ে ওঠা কিংবা পাহাড়ের উপর থেকে লাফ। বলা যায়, ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হিসেবে এক নতুন অ্যাডভেঞ্চার তৈরি করছে এই হার্নেস বেল্ট।
    পাশ্চাত্যে হার্নেস বেল্টের ট্রেন্ড শুরু হয় কয়েক বছর আগে। ২০১১ সালে ‘স্যাটারডে নাইট লাইভ’-এর ফিনালেতে লেডি গাগার ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সারদের দেখা যায় গোল্ডের হার্নেস বেল্ট শরীরে জড়াতে। তারও আগে ২০১০-এ ‘কমে দেস গারকন্স’ কালেকশনে প্রদর্শনী হয় এ ধরনের বেল্টের। সিয়ারা কিংবা রিয়ানার মতো পপ সেলিব্রিটিদেরও এ ট্রেন্ডের অনুগামী হতে দেখা যায়। এমনকি কেটি পেরি ও ডিজাইনার যানা বেইনের ডিজাইনার কালেকশন থেকে সংগ্রহ করেন একটি হার্নেস বেল্ট। এসব ডিজাইনার বেল্টের তখনকার বাজারমূল্য ছিল ৭৫ থেকে ৪৫০ ডলার।
    তবে এই বেল্ট কালেকশনে আনতে পপ সেলিব্রিটি বা আদিকালের পুলিশ ম্যান হতে হবে না। কারণ, নতুন এ ট্রেন্ড এখন বহুল প্রচলিত হয়ে পড়ছে আমাদের দেশেও। এটা মূলত বেল্টের সিরিজে নতুন এক সংযোজন। পার্থক্য এর সাইজ আর বিস্তারে। এটি সাধারণত বুকের পুরো জায়গাজুড়েই থাকে। তবে ডিজাইন, রঙ ও উপাদানে বৈচিত্র্য দেখা যায়। কোনো কোনো বেল্ট শুধু কাঁধ থেকে কোমর পর্যন্ত ২টা স্ট্র্যাপবিশিষ্ট হয়ে থাকে, যা কোমরের আরও একটি বেল্টের মাধ্যমে যুক্ত থাকে। সব কটি বেল্টই হয় অন্যান্য বেল্টের মতো এডজাস্টেবল। কোনো কোনোটির স্ট্র্যাপ থাকে পেছনে। সংযুক্ত হতে পারে গোল মেটালের চাক্তি কিংবা মেটালের আংটা দিয়ে। কিছু কিছু হার্নেস বেল্ট কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত কভার করে। এসব সহজেই মানিয়ে যায় মিডলেংথ স্কার্টের সঙ্গে।
    ডিজাইনের মতো বেশি না হলেও কিছুটা ভিন্নতা লক্ষ করা যায় এর ম্যাটেরিয়ালে। লেদারের হার্নেস বেল্টই চোখে পড়ে খুব। কিছু কিছু আছে চেইনের তৈরি। আবার কোনোটা মোটা রোপের। কালারে ভিন্নতা থাকতে পারে। এখানেও ব্ল্যাক কিংবা ব্রাউনের আধিপত্য। সাদার ব্যবহারও হয়ে থাকে ক্লাসি এসব বেল্টে। এ ছাড়া হলুদের মতো উজ্জ্বল রঙগুলোও ফুটিয়ে তুলতে পারে আউটফিটের সৌন্দর্য। লেদারের উপর ছোট মেটাল বল কিংবা পাথরের কাজও দেখা যায় এই ধারার অনেক বেল্টে। কিছু হার্নেস ফিতায় বাঁধা থাকে।
    এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন ‘ওভার দ্য টপ’ না লাগে। এসব বেল্টের ডিজাইনে বেশ প্যাঁচঘোঁচ থাকে, ফলে এক কালারের টপ কিংবা শার্টের সঙ্গেই এটি মানায় বেশি। অন্যদিকে শুধু দুই স্ট্র্যাপের হার্নেস বেল্টগুলো পরা যেতে পারে হালকা প্রিন্টেড কিংবা ফ্লোরাল শার্ট বা টপের সঙ্গে।
    ঢিলাঢালা টপ গায়ের মাপে না হলে এখন আর অল্টারের ঝামেলা পোহাতে হবে না। এই বেল্ট বডি শেপ অনুযায়ী ফিটফাট করে নেবে শখের আউটফিট। এসব ক্ষেত্রে আবার ইলাস্টিক হার্নেস বেল্ট শ্রেয়। শার্টের সঙ্গে এটা পরে ওভারকোটও পরতে পারেন। সঙ্গে থাকুক জিনস কিংবা ফরমাল প্যান্ট। ব্যস, নজর কাড়বে যে কারও।
    যেকোনো ধরনের বেল্ট নেয়ার আগে বডি শেপ প্রধান বিবেচ্য। কোমরের গড়ন তো বটেই, কাঁধের শেপটাও মাথায় রাখতে হবে হার্নেসের ক্ষেত্রে। যারা মোটা, তারা কোমরের নিচে বেল্ট পরলে একেবারে ফেঁসে যাবেন। ভালো তো দেখাবেই না, বরং চওড়া ভাব আরও প্রকট হয়ে উঠবে। এ ক্ষেত্রে উপরের দিকের হার্নেস বেল্টগুলো পরাই শ্রেয়। যারা চিকন, তাদের যেকোনো হার্নেস বেল্টেই মানিয়ে যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, আঁটসাঁট হয়ে যেন বেশি লিকলিকে না দেখায়। তাই নিজের আউটফিটটা বাছাই করুন বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে। শুধু মেয়েদের জন্য নয়, হার্নেস বেল্ট জায়গা করে নিচ্ছে ছেলেদের আউটফিটেও। ফিট বডির হ্যান্ডসাম হাংকরা ঝুঁকে যাচ্ছেন স্টাইলিশ হার্নেস বেল্টের দিকে। ছেলেরা ব্যবহার করতে পারে ফরমাল কিংবা ক্যাজুয়াল শার্টের সঙ্গে। তবে তাদের বেল্টগুলো সিম্পল হয়ে থাকে। ছেলেমেয়ে যা-ই হোক না কেন, মাথায় রাখতে হবে প্রিন্টেড পোশাকের সঙ্গে একরঙা আর একরঙা পোশাকের সঙ্গে প্রিন্টেড বেল্ট ভালো মানায়।
    হার্নেস বেল্ট এখনকার উঠতি ফ্যাশন ট্রেন্ড। বাজারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের বেল্ট পেতে পারেন। তবে এখনো হার্নেসের চল বেশি না হওয়ায় সব ধরনের দোকানে এটি পাওয়া মুশকিল। জুরহেম ও সিকোসোর পাশাপাশি কিছু অনলাইন শপে এগুলো পাবেন। দাম পড়বে ডিজাইন ও ম্যাটেরিয়ালভেদে ৮০০ থেকে ৬০০০ টাকার মধ্যে। আর্টিফিশিয়াল লেদারের বেল্টের দাম পড়বে একটু কম। আরও কমে চাইলে চলে যেতে পারেন বঙ্গবাজার মার্কেটে।

     শিরীন অন্যা
    মডেল: মিমি
    মেকওভার: পারসোনা
    ছবি: তানভীর খান
    বেল্ট: সিকোসো


    Subscribe & Follow

    JOIN THE FAMILY!

    Subscribe and get the latest about us
    TRAVELS
    LIFESTYLE
    RECENT POST
    বোটক্সের বদলে
    19 January, 2018 7:11 pm
    আলোকচিত্র
    19 January, 2018 7:11 pm
    BANNER SPOT
    200*200
    SOLO PINE @ INSTRAGRAM
    FIND US ON FACEBOOK