FASHON
  • টেকট্রেন্ড I প্রযুক্তি উৎসব


    ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭’। এ ছাড়া ইমার্জেন্সি হেল্পলাইন ৯৯৯-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এই দুই আয়োজনের কথা জানাচ্ছেন নাজমুল হক ইমন

    ইমার্জেন্সি হেল্পলাইন ৯৯৯

    নাগরিকদের জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে দেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে ইমার্জেন্সি হেল্পলাইন ‘৯৯৯’। শুরুতে শুধু রাজধানীতে এই সেবা মিললেও পরবর্তীকালে দেশব্যাপী এর সম্প্রসারণ হবে। রাজধানীর আবদুল গনি রোডের ডিএমপির কন্ট্রোল রুমে এই সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়। এই সেবা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।
    ৯৯৯ নম্বরে কল করলে যে কেউ পেয়ে যাবেন পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা। ৯৯৯ নম্বরটিতে ফোন করতে গ্রাহকের কোনো টাকা খরচ হবে না, অর্থাৎ সম্পূর্ণ ফ্রি। এই কল সেন্টারের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা ২৪ ঘণ্টায় সেবা দেবেন। রাস্তায় হঠাৎ ছিনতাইয়ের কবলে পড়েছেন, থানার কোনো নম্বর নেই, কী করবেন? রাতে জানালা দিয়ে পাশের ভবনের ছাদে অনেক ধোঁয়া দেখতে পাচ্ছেন, সবাই ঘুমাচ্ছে কিন্তু কাউকে ডাকতে পারছেন না। অথবা রাতে হঠাৎ করেই সন্তানের শরীর খারাপ হলো, হাসপাতালে নেয়া প্রয়োজন, অথচ নিজের গাড়ি নেই। কী করবেন, কাকে খবর দেবেন- কিছুই বুঝতে পারছেন না। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’। এখন থেকে ‘৯৯৯’ এই তিনটি ডিজিট ডায়াল করলে যেকোনো বিপদে সাহায্য মিলবে। ফোন করলেই সাহায্য পাবেন পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কিংবা অ্যাম্বুলেন্সের। এরই মধ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলায় ৯৯৯-এর ব্যবহার, প্রচার ও কমিউনিটি সেফটি অ্যাওয়ারনেস কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ জানায়, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য সর্বস্তরের জনগণের জন্য টেলিফোন ও মোবাইল ফোনভিত্তিক অভিন্ন হেল্প ডেস্ক চালু করা। কারণ, আগে ব্যবহৃত ৯৯৯ নম্বরে শুধু টিঅ্যান্ডটি ল্যান্ডফোন নম্বর দিয়ে ফোন করা যেত। এর ফলে রাস্তাঘাটে বিভিন্ন স্থানে অপরাধ বা দুর্ঘটনা সংঘটিত হলে মানুষ পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারত না। বর্তমানে মোবাইল ফোনে তথ্যের আদান-প্রদান সুবিধাজনক হওয়ায় সংঘটিত অপরাধ বা দুর্ঘটনা দেখামাত্র যে কেউ ঘটনাস্থল থেকে ৯৯৯ নম্বরে জানাতে পারবেন।
    ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭
    দেশের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিবিষয়ক প্রদর্শনী ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৭’। এই প্রযুক্তি মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল হংকং থেকে আগত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রোবট সোফিয়া। সোফিয়া দর্শকদের নজর কাড়ে প্রথম দিন থেকে প্রদর্শনীর শেষ দিন পর্যন্ত। ৬ ডিসেম্বর বুধবার ‘রেডি ফর টুমরো’ স্লোগানে দেশের তথ্যপ্রযুক্তির বড় এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৯ ডিসেম্বর শনিবার সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই জমজমাট আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে আলোচিত নারী রোবট সোফিয়া সবার কথা শুনেছে, প্রশ্ন করলে উত্তরও দিয়েছে। আবার পাল্টা প্রশ্ন করেছে সে। ৫০ ধরনের ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন রয়েছে তার। এসবের মূলে কাজ করেছে সোফিয়ার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) সফটওয়্যার। ২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল সোফিয়াকে অ্যাক্টিভেট (সচল) করে হংকংয়ের ‘হ্যান্সন রোবটিকস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তবে চলতি বছরের অক্টোবরে সৌদি আরবের রিয়াদে ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট সামিটে অংশগ্রহণকারীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে চমকে দেয় সোফিয়া। এরপর তাকে সে দেশের নাগরিকত্ব দেয়া হয়।
    রোবট সোফিয়া যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিশাল তথ্যভান্ডারে যুক্ত থাকে সে। এ ছাড়া মানুষের সঙ্গী ও সহযোগী হিসেবেও কাজ করতে পারে। সোফিয়ার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানায়, তার ভেতর এমন একটি সফটওয়্যার দেয়া হয়েছে, যাতে সে কোনো প্রশ্ন শুনলেই কিছুক্ষণের মধ্যে উত্তর দিতে পারে। প্রশ্ন শুনে সে নানা ভঙ্গিতে উত্তর দেয়। সোফিয়ার শরীরে যুক্ত ক্যামেরার মাধ্যমে সে যার সঙ্গে কথা বলেছে, তাকে পরেরবার চিনতে পারে। আলাপকারীর সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আই কন্টাক্ট করতে পারে। হাসিঠাট্টার পাশাপাশি রাগও দেখায় সোফিয়া। দুই পাটির দাঁত একসঙ্গে করে রাগ দেখায় আবার কষ্ট পেলে ভ্রু কুঁচকে ফেলে।
    এবারের ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের আয়োজনে নানা পণ্য, সেবা ও উদ্ভাবন নিয়ে হাজির হয়েছিল সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। সফটওয়্যার শোকেসিং জোনে দেশীয় সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি বিভিন্ন সফটওয়্যার ও সেবার তথ্য তুলে ধরা হয়। ই-কমার্স সাইটগুলো কীভাবে এগোচ্ছে, কতটা উদ্ভাবনী উপায়ে সেবা দিচ্ছে, এসব বিষয় জানা যায় ই-কমার্স জোন থেকে। গেমারদের জন্যও ছিল আলাদা জোন। গেমিং হার্ডওয়্যার, কনসোল, দ্রুতগতির ইন্টারনেট-সংবলিত এ জোনে গেমাররা হারিয়ে যান গেমিংয়ের ভুবনে। চার দিনের এই আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় তিনটি কনফারেন্স। প্রথম দিনে ছিল ৮টি সেশন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- টেক টক উইথ সোফিয়া, উইমেন ইন ডিজিটাল ইকোনমি, পেমেন্ট সার্ভিসেস: অপরচুনিটিজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস, গ্রো ইয়োর বিজনেস ইউজিং ফেসবুক/ক্লাউড সার্ভিসেস, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স: লেভারেজিং ই-গভর্ন্যান্স উইথ চ্যাটবট। দ্বিতীয় দিনের ১২টি সেশনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- হাইস্কুল প্রোগ্রামার কনফারেন্স, মিট নাফিস বিন যাফর, স্টার্টআপ বাংলাদেশ, অপরচুনিটি ফর ইনভেস্টরস অ্যান্ড স্টার্টআপস, সাইবার সিকিউরিটি রিস্কস, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইথিক্যাল হ্যাকিং, এমপ্লয়মেন্ট অব পারসনস নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটিজ ইন দ্য আইটি ইন্ডাস্ট্রি।
    তৃতীয় দিনে ছিল আউটসোর্সিং ও সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক একাধিক সেশন। এ ছাড়া অনুষ্ঠিত হয় চিলড্রেনস ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড, ৫ বিলিয়ন ডলার এক্সপোর্ট, ওয়ার্কশপ অন ব্লকচেইন শীর্ষক সেমিনার ও কর্মশালা। দেশের বাইরে থেকে অংশ নিয়েছেন অনেকে। তিন শতাধিক বক্তা চার দিনের বিভিন্ন সেশনে অংশ নেন।

    ছবি: সংগ্রহ

     


    Subscribe & Follow

    JOIN THE FAMILY!

    Subscribe and get the latest about us
    TRAVELS
    LIFESTYLE
    RECENT POST
    বোটক্সের বদলে
    19 January, 2018 7:14 pm
    আলোকচিত্র
    19 January, 2018 7:11 pm
    BANNER SPOT
    200*200
    SOLO PINE @ INSTRAGRAM
    FIND US ON FACEBOOK