FASHON
  • অর্গানিক I জাদুকরি থানকুনি

    স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যে থানকুনি এত ফলপ্রদ, চিকিৎসকরাও পরামর্শ দিচ্ছেন রোজ এটি গ্রহণের জন্য

    মেডিকেল হার্ব হিসেবে পরিচিত থানকুনির বৈজ্ঞানিক নাম সেনটেলা এশিয়াটিকা। এটি একরকম ঔষধি তৃণ। প্রাচীনকাল থেকে নানা রকম চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে থানকুনি। সে কারণেই কোথাও কোথাও একে কবিরাজি পাতা বলা হয়। প্রাচীন ভারতীয় সাধুরা বিশ্বাস করতেন, সবজি হিসেবে নিয়মিত থানকুনি খেলে দীর্ঘায়ু হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও ঠান্ডা, ইউরিনারি ইনফেকশন, ইনফ্লুয়েঞ্জা, টিউবারকুলোসিস, লেপ্রসি, সোয়াইন ফ্লু, ডিসেন্ট্রি, কলেরা ইত্যাদি রোগের চিকিৎসায় থানকুনি পাতা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। কেবল তা-ই নয়, যেকোনো ধরনের ব্যাকটেরিয়াল, ভাইরাল ও প্যারাসিটিক্যাল ইনফেকশন কমাতে থানকুনি কাজ করে ম্যাজিকের মতো। বোঝা যাচ্ছে, স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে এটি একেবারে আদর্শ। তবে সৌন্দর্যচর্চা যে এটি কার্যকর, তা অনেকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য না-ও হতে পারে। কারণ, বিউটি হার্ব হিসেবে কোনো দেশে কখনোই এটি জনপ্রিয় ছিল না। অথচ মজার ব্যাপার হলো, সৌন্দর্যসংক্রান্ত অনেক সমস্যা সমাধানেও থানকুনির কার্যক্ষমতা একেবারে অব্যর্থ। প্রাকৃতিকভাবে সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে এটি।
    প্রথমত, এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ভাইরাল এবং অ্যান্টি-ফ্লেমেটরি উপাদান। ফলে ত্বকের যেকোনো কাটা ও প্রদাহ সারাতে এটি খুব কার্যক্ষম। বিশেষ করে আগুনে পোড়া ত্বক ফের সুস্থ করে তোলার জন্য থানকুনি অব্যর্থ। চিকিৎসকেরা তাই রোদে পোড়া রোগীর পথ্য হিসেবে থানকুনি পাতা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তা ছাড়া নিয়মিত এটি খেলে শরীরে কোলাজেনের উৎপাদন বেড়ে যায়, ত্বকের পুরোনো ক্ষত সারতে শুরু করে এবং নির্জীব ত্বক সজীবতা ফিরে পায়।
    টোনার হিসেবেও এটি কার্যকর। নিয়মিত থানকুনি বাটার ব্যবহারে টানটান হয়ে ওঠে ত্বক। আজকাল প্রচুর অ্যান্টি-এজিং ক্রিম এবং স্কিন ফার্মিং ক্রিমগুলোতে থানকুনি ব্যবহার করা হয়। শরীরে কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে তোলার কারণে এর ব্যবহারে ত্বকের বয়স বাড়ে না। বলিরেখা বা বয়সজনিত মিহি দাগ দেখা যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত অ্যান্টি-এজিং ক্রিমের বিকল্প হতে পারে থানকুনি। প্রতিদিন খাওয়া যেতে পারে ভর্তা, ভাজি বা সালাদ হিসেবে। কিংবা বেটে ব্যবহার করা যেতে পারে ত্বকে। যা কাজ করবে চমৎকার একটি স্কিন টনিক হিসেবে। ব্রণ, র্যাশ বা ত্বকের যেকোনো দাগ হালকা করার পাশাপাশি ফাংগাল ইনফেকশন হওয়ার আশঙ্কা থেকেও মুক্ত রাখবে। থানকুনি দিয়ে টোনার তৈরি করতে চাইলে দুই কাপ পানিতে এক মুঠো থানকুনি পাতা ছেড়ে সেদ্ধ করতে হবে। পানি কমে অর্ধেক হয়ে গেলে নামিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। কেমিক্যাল টোনারের পরিবর্তে এটি নিয়মিতভাবে ব্যবহার করা গেলে ত্বকের তারুণ্য বা সতেজতা নিয়ে আলাদাভাবে চিন্তা না করলেও চলবে।
    শরীরের বাড়তি মেদ ঝরাতেও এটি কার্যকর। শরীরে জমাটবদ্ধ মেদ থেকে ত্বক ঝুলে পড়ে, ছোপ ছোপ দাগ দেখা দেয়, কুৎসিত লাগে দেখতে। নিয়মিত থানকুনি খেলে শরীরের মেদযুক্ত অংশে রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়া দ্রুত হয়। আস্তে আস্তে মেদ সরে গিয়ে টানটান হতে থাকে শরীর। ভারতে শরীরের বাড়তি মেদ ঝরানোর জন্য কাঁচা থানকুনি পাতা খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। এভাবে খেতে খারাপ লাগলে সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
    চুল ঝরে পড়া কমাতে কবিরাজি চিকিৎসায় থানকুনি খুব জনপ্রিয়। এটি হেয়ার ফলিকল শক্ত করে তোলে। মাথার ত্বকের রক্তসঞ্চালন বাড়ায়। এবং ছোট ছোট হেয়ার ফলিকলের সম্প্রসারণে সাহায্য করে। মাথার ত্বক সুস্থ রাখার জন্য থানকুনির খুব বড় একটি ভূমিকা আছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে অপুষ্টিজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত চুল এবং মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম এটি। চুলের অকালপক্বতাও রোধ করবে। নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে। পেস্ট করা থানকুনির সঙ্গে সমপরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে ঘষে ঘষে লাগাতে হবে। লাগানোর আগে শ্যাম্পু করে নিলে ভালো হয়। আধা ঘণ্টা রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে এতে যে চুলের উপকার হয়, তা এখনো সমর্থন পায়নি বৈজ্ঞানিকভাবে। তারপরও চীনের নানা অঞ্চলে ওষুধের মতো এটি ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় থানকুনি রাখলেই বোঝা যাবে, সৌন্দর্যে এটি কেমন ভূমিকা রাখছে। সুফলগুলো তো পাওয়া যাবেই, সঙ্গে শরীরও থাকবে রোগমুক্ত।

     রত্না রহিমা
    মডেল: বিথী
    মেকওভার: পারসোনা
    ছবি: তানভীর খান


    Subscribe & Follow

    JOIN THE FAMILY!

    Subscribe and get the latest about us
    TRAVELS
    LIFESTYLE
    RECENT POST
    বোটক্সের বদলে
    19 January, 2018 7:04 pm
    আলোকচিত্র
    19 January, 2018 6:57 pm
    BANNER SPOT
    200*200
    SOLO PINE @ INSTRAGRAM
    FIND US ON FACEBOOK