FASHON
  • ত্বকচর্যা I স্ক্যাল্প কেয়ার

    চুল সুস্থ ও সুন্দর রাখার জন্য চাই স্ক্যাল্পের পরিপূর্ণ যত্ন
    কেবল দৃশ্যমান চুলে নয়, মনোযোগ দিতে হয় এর আগলে থাকা স্ক্যাল্পের দিকেও। নইলে যত যত্ন নেয়া হোক, চুলের সুস্থতা ও সৌন্দর্য কঠিন হয়ে পড়বে। কিন্তু স্ক্যাল্পের পরিচর্যা কথার কথা নয়। মাথার ত্বকের ধরন তো বুঝতে হবে আগে।
    রকমফের
    মুখত্বকের মতো মাথার ত্বকেরও রকমফের রয়েছে। যেমন- স্বাভাবিক, শুষ্ক এবং তৈলাক্ত। স্বাভাবিক স্ক্যাল্পে সিবাশিয়াস গ্ল্যান্ড কম থাকে। ফলে, অতিরিক্ত তেলে ভাব থাকে না। খুশকি আর শুষ্কতার মতো সমস্যাও সাধারণত হয় না। তৈলাক্ত স্ক্যাল্পে খুশকি প্রধান সমস্যা। এ ছাড়া তেল নিঃসরণ বেশি হওয়ায় মাথার ত্বকের লোমকূপগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফলাফল, নেতিয়ে পড়া তেল চিটচিটে চুল। শুষ্ক স্ক্যাল্পে চুলকানি এবং ফ্লেকিংয়ের সমস্যা থাকে। তবে শুষ্কতাই বেশি বিব্রতকর।
    স্ক্যাল্পের সঠিক ধরন বুঝে নেয়ার পর যত্নের কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়। ধরনভেদে উপাদানের পার্থক্য থাকলেও স্ক্যাল্পের পরিচর্যায় ধাপগুলো একই।
    এক্সফোলিয়েশন
    মাথার ত্বকেও প্রচুর মৃতকোষ জমে, যা চুলের বেড়ে ওঠায় বাধা দেয়। ময়লা বাড়ায়। ফলে চুল পড়া দ্রুততর হয়। কমে ঘনত্ব। তাই মাথার ত্বকে নিয়মিত এক্সফোলিয়েশন জরুরি। এ কাজে সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হেয়ার ব্রাশিং। প্রতিদিন চুল আঁচড়ানো স্ক্যাল্পের জন্য ভালো। এ ক্ষেত্রে ন্যাচারাল ব্রিসলের প্যাডেল ব্রাশই বেশি উপযুক্ত। এগুলো মাথার ময়লা এবং বিভিন্ন স্টাইলিং প্রডাক্টের জমে থাকা অংশ আলগা করে দেয়। স্ক্যাল্পের মাইক্রোসার্কুলেশন বাড়ায়। সপ্তাহে একবার প্রয়োজন অনুযায়ী এক্সফোলিয়েটিং শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত শ্যাম্পুও বেশ ভালো কাজ করে। বাসায়ও তৈরি করে নেয়া যেতে পারে স্ক্যাল্প এক্সফোলিয়েটর। সমপরিমাণ ব্রাউন সুগার, ওটস আর হেয়ার কন্ডিশনার একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করা যায় চমৎকার স্ক্রাব।
    ক্ল্যারিফায়িং
    স্ক্যাল্প পরিষ্কার করা চাই নিয়মিত। এটা মাথার এই অংশের সুস্থতা বজায় রাখে, সুন্দর করে তোলে চুল। এ কাজে শ্যাম্পুইং সবচেয়ে সহজ। ক্ল্যারিফায়িং শ্যাম্পু স্ক্যাল্পকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। শুষ্ক চুলে অয়েল বেসড আর তৈলাক্ত চুলের জন্য ফোম বেসড শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া স্ক্রাব, মাড, ডিটক্সিফাইং সেরামের মতো স্ক্যাল্প ক্লিনিং প্রডাক্টও কার্যকর। তবে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েও স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখা যায়। সে ক্ষেত্রে সমপরিমাণ শ্যাম্পু আর বেকিং সোডার মিশ্রণে কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল দিয়ে তৈরি করা যায় স্ক্যাল্প ক্লিনজার। আর প্রতিবার ক্লিনিংয়ের পর ডিপ কন্ডিশনিং মাস্ট।
    ডিপ ক্লিনজিং
    স্ক্যাল্পে জমে থাকা ময়লা এবং দূষণ দূর করতে দরকার ডিপ ক্লিনজিং। নানা ধরনের ডিটক্স হেয়ার মাস্ক এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে বাসায় বসেই। ক্লে ডিটক্স মাস্ক তৈরি করা হয় আধা কাপ গ্রিন টি আর অ্যাপল সাইডার ভিনেগারের সঙ্গে পরিমাণমতো বেনটোনাইট ক্লে মিশিয়ে। ভিনেগার ডিটক্স মাস্ক তৈরিতে ব্যবহার করা হয় অর্ধেক কাপ করে অ্যালোভেরা জেল আর মুলতানি মাটির সঙ্গে কোয়ার্টার কাপ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে। সমপরিমাণ সি সল্ট, লেবুর রস আর অলিভ অয়েলের মিশ্রণও স্ক্যাল্পের ডিপ ক্লিনিংয়ে চমৎকার।
    সুরক্ষায়
    সূর্য থেকে সুরক্ষা চাই স্ক্যাল্পেরও। কারণ, তীব্র সূর্যরশ্মি মাথার ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত করে। চুল পাতলা করে ফেলে। সে ক্ষেত্রে স্ক্যাল্পে প্রয়োগের জন্য উপযোগী সানস্ক্রিন রাখা যেতে পারে সংগ্রহে। আর বাইরে বেশি বেরোতে হলে চেষ্টা করতে হবে মাথাটা ঢেকে রাখার।
    ম্যাসাজ
    নিয়ম করে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করা চাই। এতে ব্লাড সার্কুলেশন বাড়ে। স্ক্যাল্প সুস্থ থাকে। পুষ্টি পৌঁছে যায় চুলের উৎসে। গোড়া শক্ত হয়। দূর হয় খুশকি। স্ক্যাল্প ম্যাসাজের বিভিন্ন ধরনের টেকনিক রয়েছে। সার্কুলার মোশনে ধীরে ধীরে ম্যাসাজ মাথার ত্বক সুস্থ রাখার সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি। এতে রক্ত চলাচল তো বাড়েই, সঙ্গে দূর হয় স্ট্রেস। রাখে রিল্যাক্সড। চুল টেনেও করা হয় স্ক্যাল্প ম্যাসাজ। তবে হালকা হাতে। এ ধরনের ম্যাসাজে চুল দ্রুত বাড়ে। এ ছাড়া আছে ট্যাপিং ম্যাসাজ টেকনিক। এ ক্ষেত্রে আঙুলের মাথা দিয়ে আস্তে আস্তে টোকা দিয়ে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করা হয়। এতেও রক্তসঞ্চালন বাড়ে। খালি আঙুলে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করা যায়। তবে নারকেল, অলিভ কিংবা আমন্ড অয়েলের সঙ্গে এসেনশিয়াল অয়েলের ব্যবহার স্ক্যাল্প ম্যাসাজকে আরও বেশি কার্যকর করে তোলে। যাদের খুশকির সমস্যা, তারা ব্যবহার করতে পারেন টি ট্রি অথবা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল। পিপারমিন্ট কিংবা রোজমেরি অয়েল ব্যবহারে চুল পড়া কমে। রোজ আর ক্যামোমাইল অয়েল স্ক্যাল্পে আর্দ্রতার জোগান দেয়। কমায় শুষ্ক ম্যাড়ম্যাড়ে ভাব। তাই সপ্তাহে অন্তত তিন দিন নিয়ম করে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ জরুরি।
    প্রয়োজনীয় প্রডাক্ট
    টোনার
    মাথার ত্বকের রক্তসঞ্চালন বাড়ানো, অতিরিক্ত তেলে ভাব দূর করা আর ব্যাকটেরিয়ামুক্ত রাখাই হচ্ছে স্ক্যাল্প টোনারের কাজ। সে ক্ষেত্রে ওয়াটার বেজড, লিভ-ইন-ফর্মুলার টোনার স্ক্যাল্পকে উজ্জীবিত রাখে। রাখে আর্দ্র ও সজীব। ফলে চুল বাড়ে। এ ছাড়া হেয়ার প্রডাক্টের জমতে থাকা অংশ সরিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে তোলে।
    অয়েল
    শুষ্ক স্ক্যাল্পের জন্য মাস্ট। অলিভ, কোকোনাট কিংবা ক্যাস্টরের মতো ক্যারিয়ার অয়েলের সঙ্গে এসেনশিয়াল অয়েলের মিশ্রণ স্ক্যাল্পে পরিপূর্ণ আর্দ্রতা জোগাতে যথেষ্ট। এ ক্ষেত্রে ল্যাভেন্ডার, টি-ট্রি আর রোজমেরি অয়েল স্ক্যাল্পের সুস্থতায় খুব কার্যকর।
    সেরাম
    বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আর ভেজিটেবল প্রোটিনে ভরপুর রিভাইভিং স্ক্যাল্প সেরাম চুলের ঘনত্ব বাড়ায়। ফ্রি র্যাডিকেলমুক্ত রাখে। ফের সচল করে মাথার ত্বককোষগুলো। ফলে চুলের বৃদ্ধি গতিশীল হয়। টি ট্রির মতো এসেনশিয়াল অয়েলযুক্ত সুদিং সেরামের কাজ হচ্ছে স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করা। এগুলো প্রয়োজনীয় আর্দ্রতার জোগান দিয়ে স্ক্যাল্পের চুলকানি প্রশমিত করে। সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। অ্যান্টি এজিং স্ক্যাল্প সেরামে থাকে আলফা হাইড্রোক্সি অ্যাসিড আর কপার পেপটাইডের মতো উপাদানগুলো। এগুলো স্ক্যাল্প এক্সফোলিয়েট করে, বাড়ায় রক্তসঞ্চালন। নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
    মাস্ক
    স্ক্যাল্পে দেয়া যেতে পারে ইনটেনসিভ ট্রিটমেন্ট। সে ক্ষেত্রে স্ক্যাল্প মাস্ক দারুণ অপশন। ক্লে বেসড মাস্কগুলো স্ক্যাল্পের অতিরিক্ত তেলে ভাব দূর করে। সঙ্গে দূর করে দূষণও। মাড মাস্কও ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো স্ক্যাল্পের গভীর পর্যন্ত পুষ্টি পৌঁছে দেয়। স্ক্যাল্প এক্সফোলিয়েন্ট ট্রিটমেন্টও বেশ কার্যকর। মাইক্রোনাইজড ফর্মুলার এক্সফোলিয়েটর স্ক্যাল্পে জমে থাকা ময়লা দূর করতে সাহায্য করে, সঙ্গে কোষগুলোকে উজ্জীবিত করে। অ্যামাইনো অ্যাসিড আর জিঙ্ক দেয়া স্ক্যাল্প মাস্কগুলো পুষ্টি জুগিয়ে চুল পড়া এবং পাতলা হয়ে যাওয়া ভাব কমাতে সাহায্য করবে।
    সহায়ক মেন্যু
    সুস্থ স্ক্যাল্পের জন্য প্রোটিন প্রয়োজন। এমন প্রোটিন থাকা চাই খাদ্যতালিকায়, যা একই সঙ্গে জিঙ্ক, আয়রন ও ভিটামিন বি’র মতো অন্য পুষ্টিগুণগুলোর জোগান দেবে। সে ক্ষেত্রে মাংস, ডিম, চিংড়ি, কুমড়ার বিচি, পনির আর সামুদ্রিক মাছ থাকতে পারে রোজকার মেন্যুতে। ভিটামিনেরও জোগান জরুরি। ভিটামিন এ এবং সি স্ক্যাল্পে অক্সিজেন চলাচল বাড়ায়। ব্লু বেরি, ক্যাপসিকাম আর পালংশাকের মতো সবুজ শাকসবজিতে পর্যাপ্ত ভিটামিন সি পাওয়া যায়। আর মিষ্টিআলু, গাজর দেয় ভিটামিন এ’র জোগান। জিঙ্ক খুশকি কমিয়ে স্ক্যাল্পের সুস্থতা বজায় রাখে। চুল পড়াও রোধ করে। ফলিক অ্যাসিড স্ক্যাল্পে নতুন কোষ উৎপাদনে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত আয়রন থাকে মাংস, মুরগির কলিজা ও সামুদ্রিক মাছে। কাঁকড়া, লবস্টার, বাদাম আর দুগ্ধজাত খাবার জিঙ্কের জোগান দেয়। আর ব্রকলি, অ্যাভোকাডো, নানা ধরনের শস্যদানা, ডাল, গাজর, ফুলকপিতে পাওয়া যায় দরকারি ফলিক অ্যাসিড। তবে স্ক্যাল্প সুস্থ রাখতে চাইলে চিনি খাওয়া কমাতে হবে। কারণ, চিনি খুশকির মাত্রা বাড়ায়। তাই সোডাজাতীয় পানীয়, বেক করা মিষ্টি দ্রব্য, ক্যান্ডি কিংবা প্রক্রিয়াজাত মিষ্টি খাবার না খাওয়াই ভালো।

     জাহেরা শিরীন
    মডেল: মৌসুমি
    মেকওভার: পারসোনা
    ছবি: তানভীর খান


    Subscribe & Follow

    JOIN THE FAMILY!

    Subscribe and get the latest about us
    TRAVELS
    LIFESTYLE
    RECENT POST
    বোটক্সের বদলে
    19 January, 2018 7:14 pm
    আলোকচিত্র
    19 January, 2018 7:11 pm
    BANNER SPOT
    200*200
    SOLO PINE @ INSTRAGRAM
    FIND US ON FACEBOOK