ইউনিক ক্লাস্টার বাংলাদেশ এবং টিম প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায় আয়োজিত আন্তঃবিষয়ক প্রদর্শনী ও পরিবেশনা ‘দ্য হাইভ অ্যান্ড দ্য হিম’ সুন্দরবনের প্রান্তে বসবাসকারী মৌয়াল (মধু সংগ্রাহক) সম্প্রদায়ের জীবন, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে। প্রদর্শনীটি বৃহত্তর উদ্যোগ ‘Sundarbans Across Borders: The Spirit of Cultural Resilience’ প্রকল্পের অংশ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইন বাংলাদেশ ডেলিগেশন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হয়েছে।
ঢাকাস্থ ব্রিটিশ কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত টিম প্ল্যাটফর্মের যৌথ আয়োজনে ২৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী চলেছে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

কিউরেটর হাসিব জুবেরী শিহানের তত্ত্বাবধানে প্রদর্শনীটি দুটি অংশে বিন্যস্ত– বাস্তব ও অবাস্তব/অদৃশ্য প্রথম অংশে স্থাপত্য ও পরিবেশগত গবেষণার মাধ্যমে সুন্দরবন অঞ্চলের বসতি, জীবিকা ও পরিবেশগত বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে, বিশেষভাবে মৌয়াল সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা ও সংগ্রামকে কেন্দ্র করে। অন্যদিকে অবাস্তব/অদৃশ্য অংশে পটচিত্রের মাধ্যমে মিথ, আচার এবং লোকবিশ্বাসের ধারাবাহিকতা ফুটে উঠেছে।
শিল্পী শম্ভু আচার্য, কে. কিংকর সরদার এবং শৈলী শ্রাবন্তীর কাজের পাশাপাশি সাতক্ষীরার বনসংলগ্ন গ্রামের নারী ও শিশুদের অংশগ্রহণে নির্মিত একটি সমবায়ী পটচিত্রও প্রদর্শিত হয়েছে।

সুন্দরবন, যেখানে নদী, জঙ্গল ও নানান জীবের ছন্দ একত্রিত হয়, তার প্রতিটি শব্দ যেন গল্প বলে। বনের হাহাকার, নদীর মৃদু স্রোত, গাছের ছায়ায় লুকানো জীবন, সবই এক রূপকথার মতো।
প্রদর্শনীতে পটচিত্র, আলোকচিত্র, গবেষণা ও নাট্য উপস্থাপনার সমন্বয়ে সুন্দরবনকে কেবল একটি ভূখণ্ড হিসেবে নয়, বরং সাংস্কৃতিক স্থিতিস্থাপকতার প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়েছে। দর্শকেরা বন-প্রান্তের মৌয়াল সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা, তাদের মধু সংগ্রহের চক্র এবং বনদেবী বনবিবির পৌরাণিক গল্পের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। উদ্বোধনী দিনে সাতক্ষীরার একটি দল ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালা ‘বনবিবির পালা’ পরিবেশন করে, যেখানে লোককথা, সংগীত ও অভিনয়ের মাধ্যমে সুন্দরবনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য জীবন্ত হয়ে ওঠে।

‘দ্য হাইভ অ্যান্ড দ্য হিম’ দর্শকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে শুধু দেখার জন্য নয়, অনুভবের জন্য। জানতে, ভাবতে এবং সুন্দরবনের বন ও মানুষের মধ্যকার নিখুঁত ছন্দকে হৃদয়ে ধারণ করতে।
- চাঁদনী/ ক্যানভাস অনলাইন
ছবি: আয়োজকদের সৌজন্যে

