ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাশন I ডেভিলস ইন ডিটেইলস
পাক্কা হলিউড ড্রামা। হাই ফ্যাশন ম্যাগাজিন রানওয়ের অফিস স্পেসের গল্প। দুর্দান্ত প্লট আর প্রবল হাস্যরস। চেনা কাহিনি, অথচ দারুণ নাটকীয়। সোনালি পর্দায় তুলে ধরা এক বাস্তব অভিজ্ঞতা। দুই দশক পর ফিরেছে সেই মার্কিন ক্ল্যাসিকের সিকুয়েল
ফ্যাশন মিডিয়ার স্বর্ণযুগে পরিণত হয়েছিল একুশ শতকের প্রথম দশক। সে সময় নিউইয়র্কভিত্তিক ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগের এডিটর-ইন-চিফ অ্যানা উইন্টুরের সহকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন লরেন ওয়েইসবার্গার। চাকরিজীবনের সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে পরে একটি স্ক্রিপ্ট লেখেন তিনি। তৈরি হয় সিনেমা। ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাদা’। অদেখা এক হাই ফ্যাশন জগতের ঘটনা চমকে দিয়েছিল বিশ্বের নানা প্রান্তের দর্শকদের।
সিনেমায় একটি হাই ফ্যাশন ম্যাগাজিন রানওয়ের এডিটর-ইন-চিফ মিরান্ডা প্রিস্টলি। ভীষণ স্বৈরাচারী। তারই জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে চাকরি পায় গল্পের প্রধান চরিত্র অ্যান্ডি। অথচ মনে মনে সাংবাদিক হতে চায় সে। মনের গহিনে সেই ইচ্ছা রেখে নিজের কাজ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় চলতে থাকে গল্প। কর্মজীবনে পাওয়া আর না পাওয়াকে ঘিরে দোটানা তৈরি হয় অ্যান্ডির মনে। শেষ পর্যন্ত চাকরি ছেড়ে মনের ইচ্ছাকেই বেছে নেয়। সিনেমাটি জুড়ে চোখধাঁধানো এক হাই ফ্যাশন মহলের দৃশ্য। সিলভার স্ক্রিনে প্রথমবার যার দেখা মিলেছিল ২০০৬ সালে। দুই দশক পর আবারও সুযোগ আসছে ফ্যাশন জগতের ঝলমলে দৃশ্যপট উপভোগের।
২০ এপ্রিল, নিউইয়র্কের লিঙ্কন সেন্টারের ডেভিড জিফেন হলে আয়োজিত হয়েছে ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাদা-২’র ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার। বসেছিল তারকাদের জমাট আসর। রাজকীয় সোনালি হলের বাইরে পাতা হয়েছিল লাল গালিচা। সেখানে সরাসরি সিনেমা থেকে যেন বেরিয়ে এসেছিল চরিত্ররা। তবে আগেরবারের চেয়ে ফ্যাশনেবল হয়ে।
অ্যান্ডির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অ্যানি হ্যাথওয়ে। উপস্থিত হয়েছিলেন গাঢ় লাল রঙের নাটকীয় পোশাকে। কাস্টম সিল্ক বাস্টিয়ার মিডি ড্রেস। লো ওয়েস্ট। করসেট টপ। স্ট্র্যাপলেস ওপেন শোল্ডার। লুই ভিতোঁর নকশা। খোলা চুল, ছোট কানের দুল আর পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে একটি আংটি; অল্পেই অসাধারণ।
খিটমিটে বস মিরান্ডার চরিত্রে অভিনীত মেরিল স্ট্রিপ পরেছিলেন ফ্যাশন ব্র্যান্ড জিভাঁশির লেদার কেপ ড্রেস। স্কারলেট শেডের লাল। হীরার দুল ঝকঝক করছিল কানে। সঙ্গে কালো লেদার গ্লাভসে ঢাকা দুহাত, চোখে কালো চশমা আর কালো ক্লাচ হাতে অভিজ্ঞ ফ্যাশন এডিটরের মতোই দেখাচ্ছিল তাকে।
প্রথম সিনেমায় মিরান্ডার সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট এমিলির চরিত্রে অভিনয় করা এমিলি চার্লটন পরেছিলেন ডিওরের ফেদার গাউন। শিয়াপারেল্লি স্টাইলের ওত কতুর। ওপরের অংশে এমব্রয়ডারি করে বসানো ২৫ হাজার রেশমি পালক। পোশাকটি বানাতে সময় লেগেছে ৪ হাজার ঘণ্টা! কান, গলা আর হাতে পার্লের গয়না। টেনে বাঁধা স্লিক বান আর মেরুন ঠোঁট।
সিনেমায় জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে দেখা যাবে নতুন মুখ। নেটফ্লিক্স সিরিজ ব্রিজারটনের সিজন-২-এর নায়িকা কেইট চরিত্রে অভিনয় করেন সায়মন অ্যাশলি। প্রিমিয়ারে পরেছিলেন কাস্টম প্রাদা। প্লেইন সিল্ক। প্যারট গ্রিন রঙের স্ট্র্যাপলেস ফিটেড গাউন। ব্ল্যাক ও সিলভারে স্যুটেড-বুটেড ছিলেন নাইজেল চরিত্রের স্ট্যানলি টুচি। প্রিমিয়ারে আমন্ত্রিত ছিলেন অন্য তারকারাও। ফ্যাশন ব্র্যান্ড সেইন্ট লরেনের প্লেইন ব্ল্যাক মারমেইড গাউন পরে এসেছিলেন সংগীতশিল্পী লেডি গাগা। অভিনেত্রী সোফিয়া কারসনের পরনে ছিল স্যুট।
বাণিজ্যিকভাবে ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। সিনেমার গল্প আবারও ফিরেছে সেই রানওয়ে ম্যাগাজিনের অফিসে। আগের মতোই আছে এডিটর-ইন-চিফ মিরান্ডা। কর্কশ, তবে কর্মঠ। ওপরে খিটখিটে ভাব দেখালেও ভেতরে কোমল। প্রথম সিনেমায় তার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে কর্মরত এমিলিকে দেখা গেছে ডিওরের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে। ওদিকে ২০ বছর ধরে একই কাজ করে যাচ্ছে ফ্যাশনিস্তা আর্ট ডিরেক্টর নাইজেল। আগেরবার জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট পদের চাকরি ছাড়লেও অনেক দিন পর আবারও রানওয়ে ম্যাগাজিনে ফিরেছে অ্যান্ডি। কিন্তু এবার অন্য, আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। আর সেখান থেকে শুরু গল্প। তাতে বহাল রয়েছে ফ্যাশন জগতের হাস্যরস। সময়োপযোগী নানা চ্যালেঞ্জে দেখা গেছে প্রতিটি চরিত্র। খামখেয়ালিপনার মধ্যে রয়েছে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা।
ফ্যাশন ডেস্ক
ছবি: ইন্টারনেট
