ফিচার I ওয়ার্ল্ড কাপ অ্যাসথেটিকা
গ্লিটার, গ্রাফিক লাইনার ও জার্সিপ্রাণিত বিউটি লুকের কাল। ম্যাচ ডে এক্সাইটমেন্ট ছড়িয়ে পড়বে স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিটি ফ্রেমে। ভাইরাল মুহূর্তের ভিড়ে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়বে ফ্যানদের লুক। সমর্থনের এক শক্তিশালী ভিজ্যুয়াল তৈরি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা
ফুটবল বিশ্বকাপ বৈশ্বিক পপ কালচার ও বিউটি ট্রেন্ডেরও বড় মঞ্চ। ম্যাচ ডে ঘিরে দর্শকদের সাজগোজে তৈরি হয় বিশেষ ধরনের উন্মাদনা; যেখানে মেকআপ, বডি পেইন্ট ও স্কিন কেয়ার হয়ে ওঠে নিজের সমর্থন প্রকাশের ভাষা।
এই আসর চলাকালে ফ্যান মেকআপের জনপ্রিয় উপাদানগুলোর মধ্যে থাকে ফেস পেইন্ট, টিম-কালার্ড সানগ্লাস, গ্লিটারের ব্যবহার এবং ফ্ল্যাগ ট্যাটু। গ্যালারি থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও—সব জায়গাতেই উদ্ভাসিত হয় পতাকার রং। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি এখন একধরনের ম্যাচ ডে বিউটি রিচুয়াল।
বিশ্বকাপের চলতি আসর গ্রীষ্মকালে হওয়ায় বিউটি ব্র্যান্ডগুলো গুরুত্ব দিচ্ছে ওয়াটারপ্রুফ ও সোয়েট-রেজিস্ট্যান্ট পণ্যে। কারণ, দীর্ঘ সময়ের উচ্ছ্বাস, গরম আবহাওয়া এবং ঘামের মধ্যে মেকআপ ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে ডালাস ও হাটসনের মতো উষ্ণ শহরগুলো মাথায় রেখে বাজারে হাজির লং লাস্টিং বডি পেইন্ট, সেটিং স্প্রে ও ট্রান্সফার-প্রুফ কালার কসমেটিকস।
তবে শুধু সাজ নয়; স্কিন কেয়ারও ম্যাচ ডে প্রস্তুতির অংশ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে থাকা, বডি পেইন্ট ব্যবহার এবং অতিরিক্ত ঘাম ত্বকের ওপর চাপ ফেলে। তাই আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো উপস্থাপন করছে রিকভারি স্কিন কেয়ার ধারণা। বিশ্বকাপ চলাকালে ফুটবলের রং মিশে যায় মেকআপের প্যালেটে। কোনো দেশে এটি কার্নিভ্যালের উচ্ছ্বাস, কোনো দেশে মিনিমাল এলিগ্যান্স, আবার কোথাও চোখের গভীর ভাষায় প্রকাশ পায় ফুটবলের আবেগ। এই বৈচিত্র্য শুধু সৌন্দর্যের সংজ্ঞা বদলায় না; বিউটি ইন্ডাস্ট্রির নতুন অধ্যায়ও তৈরি করে। বিশ্বের একেক অঞ্চলের রূপচর্চার মানদণ্ড, সামাজিক ঐতিহ্য এবং ফুটবলের প্রতি আবেগ ভিন্ন। ফলে বিশ্বকাপের মেকআপ ট্রেন্ডেও দেখা যায় চমৎকার ভৌগোলিক বৈচিত্র্য। এবারে যেসব ট্রেন্ড গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করছে সৌন্দর্য বিশ্ব, সেগুলোতেও পরিবর্তন আসবে মানচিত্রকে কেন্দ্র করে।
লাতিন আমেরিকা
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সাজগোজের মূল সূত্র ‘আলবিসেলেস্তে’ বা আকাশি-নীল ও সাদা রঙের ছোঁয়া। গালে ও কপালে জাতীয় পতাকার তিন স্ট্রাইপ এঁকে নেন। চোখের চারপাশে গ্লিটার, কসমেটিক জুয়েলারি বা স্টোন বসিয়ে তারা এক উৎসবমুখর কার্নিভ্যাল আবহ তৈরি করেন। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো কিংবা কলম্বিয়ার মতো ফুটবল-পাগল দেশগুলোতে বিশ্বকাপের সময় মেকআপের চাহিদা আকাশচুম্বী।
ব্রাজিলের নারী ভক্তরা তাদের ঐতিহ্যবাহী কার্নিভ্যাল সংস্কৃতির সঙ্গে ফুটবলকে মিশিয়ে নেন। ক্যানারি ইয়েলো, আমাজন গ্রিন আইশ্যাডো, ওয়াটারপ্রুফ বডি গ্লিটার এবং গ্লোয়িং স্কিন; বিশ্বকাপের সময় থাকে তাদের পছন্দের তালিকায়। মেক্সিকোর ভক্তরা মেকআপে প্রাচীন অ্যাজটেক সভ্যতার ছোঁয়া বা ঐতিহ্যবাহী উপাদান যোগ করেন। অন্যদিকে, কলম্বিয়ান ভক্তরা ওয়াকা ওয়াকা খ্যাত শাকিরা-অনুপ্রাণিত জমকালো উৎসবের আমেজে নিজেদের সাজাতে ভালোবাসেন।
ইউরোপ
এই মহাদেশের ইংল্যান্ড, ফ্রান্স বা জার্মানির মতো পরাশক্তিগুলোর ভক্তরা পুরো মুখ রং করার চেয়ে মসৃণ ও নিখুঁত মেকআপ পছন্দ করেন। তাদের ট্রেন্ড হলো একটি নিখুঁত ফাউন্ডেশন বেসের ওপর শার্প গ্রাফিক আইলাইনার এবং নখে জার্সির রঙের সূক্ষ্ম ছোঁয়ার উদ্ভাস ঘটানো। ফুটবলারদের স্ত্রী-বান্ধবী এবং নারী ফুটবল তারকারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ট্রেন্ডগুলো জনপ্রিয় করে তোলেন।
পূর্ব এশিয়া
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মেকআপ ট্রেন্ড তাদের নিজস্ব কে-বিউটি এবং কসপ্লে সংস্কৃতির প্রেরণায় প্রভাবিত। জাপানি ভক্তরা একদম নিখুঁত ম্যাট ত্বকের ওপর লাল বৃত্তের হিনোমারু এঁকে তাতে গ্লাস-বিড ব্যবহার করেন। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার ভক্তরা ভারী মেকআপ এড়িয়ে গ্লাসি স্কিন, গ্রেডিয়েন্ট লিপস এবং হালকা লাল গালে স্টেডিয়ামে হাজির হন; যেন যেকোনো আলোতে ছবি তোলার জন্য প্রস্তুত থাকা যায়।
মধ্যপ্রাচ্য
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পোশাকের কারণে মেকআপের মূল আকর্ষণ থাকে চোখ ঘিরে। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে নিজেদের ফুটিয়ে তুলতে এখানকার নারীরা স্মাজ-প্রুফ ও লং-ওয়্যার গ্রাফিক লাইনার, ড্রামাটিক ফলস আইল্যাশ এবং শিমারি কাট-ক্রিজ মেকআপ ব্যবহার করেন।
তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, বিউটি ট্রেন্ড এবং বিশেষজ্ঞদের অভিমত থেকে ধারণা করা যায়, এই পুরো উৎসবমুখর পরিবেশে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়বে হেয়ার ট্রেন্ড, যা শুধু সাধারণ স্টাইলিংয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে হয়ে উঠতে পারে একধরনের স্টেটমেন্ট এক্সপ্রেশন। টিম কালারের অস্থায়ী হেয়ার স্প্রে, পতাকা-প্রাণিত স্ট্রিক, রঙিন রিবনসহ ব্রেইডেড হেয়ার এবং স্লিক ওয়েট-লুক স্টাইল ম্যাচ ডের আবহে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে। গরম, দীর্ঘ সময়ের খেলা এবং উদ্যাপনের ভিড় সামলেও এসব হেয়ারস্টাইল তৈরি হবে ফটোজেনিক ও ভাইরাল মুহূর্তের জন্য; যেখানে প্রতিটি লুকই সমর্থনের আবেগ ও ব্যক্তিত্বকে আরও দৃশ্যমান করে তুলতে সক্ষম।
বিউটি ডেস্ক
মডেল: লিন্ডা ও সায়রা
মেকওভার: পারসোনা
ছবি: কৌশিক ইকবাল
