ছুটিরঘণ্টা I স্বপ্নের লস অ্যাঞ্জেলেসে
হলিউড, বেভারলি হিলস, ইউনিভার্সাল স্টুডিও—আরও কত কী আছে এখানে! স্থানীয় সোফাই স্টেডিয়ামে রাখা হয়েছে চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের খেলার শিডিউল। শহরটি ঘুরে এসে লিখেছেন ফাতিমা জাহান
আমি যাব বিখ্যাত স্যান্টা মনিকা সমুদ্রসৈকতে। কিন্তু শহরটা এত বড়, রাস্তা ফুরোচ্ছেই না। সেই কখন মেট্রোতে চড়েছি! মনে হচ্ছে এক শহর থেকে অন্য শহরে নিয়ে যাবে আমাকে। কত কিছু যে পার হয়ে গেল—দোকানপাট, অফিস আদালত, বড় বড় সুপারশপ, পার্ক। একসময় অবশ্য শহরের বড় বড় ভবনের মাঝ দিয়ে ধীরে ধীরে ছোট ছোট হতে শুরু করল দোকানপাট। এবার মনে হচ্ছে আমেরিকার মফস্বল শহরে চলে এসেছি। শান্ত চারপাশ। স্টেশনগুলোতে তেমন ভিড় নেই। আমি নামব একদম শেষ স্টেশনে। সেখানে নামার একধরনের আনন্দ আছে। নির্দিষ্ট গন্তব্য ছাড়িয়ে অন্য স্টেশনে চলে যাওয়ার ভয় থাকে না।
লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রস্থল থেকে স্যান্টা মনিকা আসতে মেট্রোতে সময় লাগল এক ঘণ্টার বেশি। আমার তাড়া নেই। আজ সারা দিন স্যান্টা মনিকায় ঘুরে বেড়াব; তাই যেকোনো সময়ে এসে যেকোনো সময়ে ফিরে যেতে পারি। স্যান্টা মনিকা সৈকতে যেতে হবে হেঁটে। একটাই পথ। গুগল ম্যাপ সহজে সব বলে দেয়। হাঁটতে হাঁটতে নানা ধরনের মানুষ দেখি। বেশির ভাগই দক্ষিণ আমেরিকান। লস অ্যাঞ্জেলেসের যে এলাকায় আমি উঠেছি, তাকে আমেরিকা না বলে লাতিন আমেরিকা বলাই ভালো। কারণ, আশপাশের সব প্রতিবেশী লাতিন আমেরিকান; আমার হোটেলের মালিকও। সুপারশপের দোকানি থেকে শুরু করে ক্রেতা—সবাই লাতিন। পথের সব ফুড কার্টের পুরোটাই জুড়ে আছে লাতিন আমেরিকান খাবারে। জায়গাটিকে মিনি লাতিন আমেরিকা বলে মনে হয়। দক্ষিণ আমেরিকার অসংখ্য অভিবাসী এখানে বসবাস করেন। চারপাশে স্প্যানিশ, পর্তুগিজ ভাষায় কথা বলছেন সবাই। স্যান্টা মনিকাও তার ব্যতিক্রম নয়।
সৈকতের কাছাকাছি পৌঁছাতেই দেখি, সমুদ্রের ওপর পায়ে চলার একটি লম্বা ব্রিজ। অনেকখানি বিস্তৃত আর তার ওপরেই বাচ্চাদের খেলার পার্ক, জায়েন্ট হুইল, নানা ধরনের রেস্তোরাঁ গমগম করছে। কিন্তু আমার খটকা লাগল, এত মানুষ এলো কোত্থেকে! আমেরিকা বিশাল বড় দেশ। এ দেশের অনেক শহরে গেছি; কিন্তু একসঙ্গে এত মানুষ দেখিনি। ছুটির দিন বলে হয়তো এই অবস্থা, কে জানে!
ব্রিজের ওপর হেঁটে খানিক এগোনোর পর রেলিংয়ের ফাঁক গলিয়ে নিচের তট দেখতে উঁকি দিলাম। মুহূর্তেই আমার আক্কেল গুড়ুম! সৈকতে তিলধারণের জায়গা নেই। মানুষ গিজগিজ করছে। এই দৃশ্য দেখব, কল্পনাও করিনি। এত দিনের দেখে আসা আমেরিকার সঙ্গে এই সৈকতকে মেলাতে পারছি না। কক্সবাজারের কথা বাদ দিলে, পৃথিবীর অন্য কোনো সমুদ্রসৈকতে এমন ভিড় দেখিনি।
এখন জুন মাস, লস অ্যাঞ্জেলেসের আবহাওয়া ভালো। তবে ভিড় দেখে সৈকতে নামার আগ্রহ আমার উবে গেল। যারা জলে নেমেছে, তারাই জলকেলি করুক! আমি একটি রেস্তোরাঁ দেখে সমুদ্রের দিকে মুখ করে বসলাম। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর থেকে ফ্রায়েড চিকেন, বার্গার আর ম্যাক-এন-চিজের ওপর চলছি। এখানে ফিশ অ্যান্ড চিপস নিয়ে বসে পড়লাম। জোর হাওয়া বইছে। বেশ ঠান্ডা হাওয়া। আমাদের দেশে সমুদ্রসৈকতে সারা বছর গরম থাকে। এখানে হিমশীতল আবহাওয়া এখন।
সূর্যাস্তের সময় যেন ভিড় উপচে পড়ল। সঙ্গে জ্বলে উঠল নানা রঙের আলোকসজ্জা। এই আলোর ঝরনাধারা দিনের বেলায় লুকিয়ে ছিল। এখন সব রং দিয়ে আকাশ আর সমুদ্রকে রাঙিয়ে তুলেছে।
পরদিন সকালে আমি চলে এলাম ইউনিভার্সাল স্টুডিওতে। পৃথিবীর সব ইউনিভার্সাল স্টুডিওর সামনে একটি পানির ফোয়ারা থাকে আর মাঝখানে গ্লোবের চারধারে ‘ইউনিভার্সাল’ লোগোটি। হলিউডের অনেক সিনেমা বা টিভি শোর শুটিং এই স্টুডিওতে হয়েছে। আসলে এটি হলিউড ফ্যানদের জন্য বানানো একটি থিম পার্ক। এখানে ছোট-বড় সবাই আসে। আমিও এসেছি বিখ্যাত সব সিনেমার শুটিং স্পট দেখতে। আলাদা আলাদা সিনেমার স্পটের জন্য আলাদা ব্লক।
স্টুডিওর মেইন গেট দিয়ে ঢুকে দেখি রাস্তার দুধারে সারি সারি স্যুভেনির শপ। একেক শপে একেক থিমের পণ্য। সেদিকে না গিয়ে এগোলাম। আশপাশে বেশ কিছু স্টেজ তৈরি করা আছে। একটি স্টেজে হ্যালো কিটি এসে হাত নাড়িয়ে গেল। শৈশবে হ্যালো কিটির চেয়ে প্রিয় আর কেউ ছিল না আমার। ওকে দেখে শিশু থেকে শুরু করে সবাই উৎফুল্ল হয়ে উঠল। আরেকটু সামনের একটি স্টেজে মেরিলিন মনরোকে দেখলাম দর্শকদের উদ্দেশে ফ্লাইং কিস ছুড়ে দিচ্ছেন! যে মেয়ে মেরিলিন সেজেছেন, তার চেহারা, অভিনয়, ড্রেস আপ এত নিখুঁত, মনে হলো সত্যিকারের সেই হলিউড তারকা যেন সাদা গাউন পরে চলে এসেছেন। আর চলার পথে নানা ক্যারেক্টার; যেমন সুপারম্যান, ব্যাটম্যান ঘুরে বেড়াচ্ছে। সবাই তাদের সঙ্গে তুলছে ছবি।
সামনে মিনিয়ন ল্যান্ড দেখে সেখানে এলাম। এই ব্লকের ভেতরে, থিয়েটারে মিনিয়ন মুভি দেখানো হচ্ছে। আমার হাতে সময় থাকায় একটি মুভির খানিকটা দেখে মিনিয়ন থিম পার্ক ভ্রমণে বেরিয়ে পড়লাম। পুরো থিম পার্ক মিনিয়ন কালার, মানে হলুদ রঙে ঢেকে দেওয়া। মিনিয়ন চরিত্ররা এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ কেউ পার্কের দোতলার বারান্দা দিয়ে দর্শকদের দেখছে। মানে, মানুষই মিনিয়ন সেজে অন্য মানুষের মনোরঞ্জন করছে।
থিম পার্কে বিভিন্ন ধরনের রাইড আছে। আমার এই মুহূর্তে রাইডে না চড়ে অন্য ব্লকে চলে যেতে ইচ্ছা করল। কারণ, সেসব ব্লকে অপেক্ষা করছিল অনেক বিস্ময়।
আরেকটু সামনে প্রোডাকশন প্লাজায় ইউনিভার্সাল স্টুডিওর সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্লক—হ্যারি পটার শুটিং ব্লক। কৈশোর থেকে হ্যারি পটার মুভিকে আমি স্বপ্নে ধারণ করেছি। এখন সামনে সেই মুভির সেট দেখতে পাওয়া যেন স্বপ্নপূরণের সমান। এই ব্লকে ভিড় উপচে পড়েছে। প্রবেশ করতেই সামনে একটি রাস্তা আর সেটির দুপাশে সাদা রঙের, ঢালু ছাদের বাড়িগুলো। হঠাৎ করে সিনেমার একাংশ চোখের সামনে ঝলক দিয়ে গেল। জাদুবিদ্যা না জানলেও এখানে এসে মনে হলো, এক জাদুর শহরে চলে এসেছি। বাড়িগুলো আসলে স্যুভেনির শপ, আর ভেতরে ঢুকতেই এক ইন্দ্রজালে আটকে ফেলছে। স্যুভেনিরের নামে এরা বিক্রি করে স্বপ্ন, আমার কিশোর কালের খোয়াব! কিশোর বেলায় কে না হারিয়ে যেতে চায় এমন স্বপ্নের রাজ্যে।
আরেকটু এগোলেই স্বপ্নের ক্যাসেল হগওয়ার্টস। কতবার যে কতভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে টিভির পর্দায় হগওয়ার্টস ক্যাসেল দেখেছি। আমি ক্যাসেল দেখে এতই আপ্লুত, অন্য কিছু চোখে ধরছে না। ক্যাসেলের ভেতরে অন্ধকার, সেখানে থ্রি-ডি মুভির মাধ্যমে হ্যারি পটারের চরিত্ররা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমার সবচেয়ে মনে ধরল হ্যারি পটারের ক্লাসরুম। মুভিতে যেমন দেখিয়েছে, ঠিক তেমনই। মৃদু আলোয় ভুতুড়ে এক পরিবেশ। কখনো আলোয় ভরে উঠছে ক্যাসেল, কখনো হুট করে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে।
ক্যাসেলের বাইরে, পেছনের দিকে জঙ্গলের মতো একটি জায়গা। সেখানে রোলার কোস্টার রাইডে চড়ে বসলাম। দেখি, জঙ্গলের ভেতরে, সুনসান জায়গায় হ্যারি পটারের সঙ্গে যা যা জাদু হয়েছিল, এখানে একদল দর্শকের সঙ্গেও তা-ই হচ্ছে। কখনো ড্রাগন উড়ে চলে আসছে মাথার ওপর, কখনো হ্যারি পটার নিজেই আসছে ডানা মেলে। ক্যাসেলের সামনে একদল ছেলেমেয়ে কোরাস গানের সঙ্গে জাদুকরের পোশাক পরে নাচছে। একে এক জাদুর দেশ বলে মনে হচ্ছে সব মিলিয়ে। এই ক্যাসেলে আমি সারা দিন কাটিয়ে দিতে পারি; কিন্তু ইউনিভার্সাল স্টুডিও পুরোটা দেখে শেষ করতে হবে আজ। লস অ্যাঞ্জেলেসে এত কিছু দেখার আছে, কোনোটাই বাদ দিতে ইচ্ছা করছে না।
হগওয়ার্টস ক্যাসেলের আঙিনা থেকে বেরিয়ে চলে এলাম সিম্পসনের জগতে। আলাদা একটি পাড়া সিম্পসনদের জন্য বানানো হয়েছে, নাম স্প্রিংফিল্ড। এখানে নানা সিম্পসন ক্যারেক্টার হেসেখেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ কেউ পাড়ায় নিজের বাড়ি থেকে উঁকি দিচ্ছে। এ পাড়ায়ও অনেক রাইড। বেশিক্ষণ থাকলাম না এখানে। আমার মন উড়ে গেছে এখন জুরাসিক পার্কে।
স্প্রিংফিল্ডের কাছেই বিশাল এক ওয়াটার পার্ক। সেখানে দিনভর নানা শো চলে। যেমন প্লেন কীভাবে পানিতে পড়ে। সমুদ্র ও নদী-সম্পর্কিত মুভির কিছু অংশ এখানে সবার সামনে অভিনেতা দিয়ে দেখানো হয়। আমি ওয়াটার পার্কে বেশিক্ষণ না থেকে ট্রামের দিকে চললাম।
জুরাসিক পার্কে যাওয়ার জন্য ইউনিভার্সাল স্টুডিওর মিনিবাস আছে। এরা বলে ট্রাম। এবার আর ডানে-বামে উঁকি না মেরে, সোজা ট্রামে চড়ে বসলাম স্টুডিওর অন্য প্রান্তে যাওয়ার জন্য। এই ট্রাম প্রায় এক ঘণ্টা নানা পয়েন্ট দেখাতে দেখাতে নিয়ে গেল। যেমন ওয়ার অব দ্য ওয়ার্ল্ডের প্লেন ক্রাশের পরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা যন্ত্রপাতি, বিভিন্ন সিনেমায় যেভাবে বন্যা বা ভূমিকম্প দৃশ্যায়ন হয়, অন্ধকার কিং কং টানেল; টানেলে হঠাৎ কিং কং এসে খামচে দিতে চায়! অবশ্য সে নকল কিং কং।
ট্রাম আমাকে জুরাসিক ওয়ার্ল্ডের সামনে নামিয়ে দিল। এগোলাম জুরাসিক পার্কের স্টুডিও দেখার জন্য। আলাদা ব্লকে ঢুকতেই একধরনের গা ছমছমে অনুভূতি হলো। কারণ, সবকিছু অস্বাভাবিক রকমের নীরব। মাঝেমধ্যে দূর থেকে ডাইনোসরের গর্জন আসছে। মনে হচ্ছে এই বুঝি ছুটে এসে মুহূর্তের মধ্যে আমাকে তুলে ছুড়ে ফেলে দেবে! জুরাসিক ওয়ার্ল্ডেও রোলার কোস্টার রাইড আছে। এই রাইড আমাকে নিয়ে গেল একটি জঙ্গলের ভেতর দিয়ে, নিচ থেকে ওপরে, সেখান থেকে সোজা ছেড়ে দিল একটি লেকের মাঝে। এই রাইডের সময় বিভিন্ন দিক থেকে বিভিন্ন আকার ও রঙের ডাইনোসর এসে দেখাল ভয়।
রাইড শেষে এই ব্লকে সত্যি সত্যি ডাইনোসর দেখার অভিজ্ঞতা হলো! এরা বলে র্যাপ্টর। একজন বিশেষজ্ঞ নিজের হাতে বাচ্চা র্যাপ্টর নিয়ে সেটির স্বভাব-প্রকৃতি সম্পর্কে বয়ান দিলেন। খানিক দূর এগিয়ে দেখি, কয়েকটি প্রমাণ আকারের র্যাপ্টর খোলা মাঠে, পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এরা অবশ্য আসল নয়, রোবট। এখানে ছোট এক ভবনে ডাইনোসরের ফসিল রাখা আছে। কয়েকটি ডিমের ফসিলও।
জুরাসিক ওয়ার্ল্ড পার হলে মামি স্টুডিও। সেখানেও অন্ধকার ভবনের ভেতরে নানা ভৌতিক ব্যাপার ঘটছে। এরপর আছে ট্রান্সফরমার ব্লক। এই ব্লকগুলো দেখতে দেখতে দিন পার হয়ে গেল।
পরদিন আমার প্রথম গন্তব্য সোফাই স্টেডিয়াম। ক্যালিফোর্নিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই স্টেডিয়ামে এখন অবশ্য কোনো খেলা হচ্ছে না। ৭০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়ামটির ভেতরে ট্যুর করতে চাইলে আগে থেকে বুকিং দিতে হয়। যখন কোনো খেলা চলে না, তখন ঘুরে ঘুরে দেখা যায়। আগে থেকে বুকিং দেওয়া নেই আমার। আর ট্যুরের দামও বেশ চড়া। তাই ঠিক করলাম, বাইরে থেকে দেখে চলে আসব। আমার হোটেল থেকে বাসে করে যাওয়া যায়। বাস থামল স্টেডিয়ামের ঠিক সামনে। আমি বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজন করা স্টেডিয়াম দেখেছি। কিন্তু সোফাইকে দেখে মনে হলো, প্রযুক্তিতে এটি চলতি শতকের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে আছে। স্টেডিয়াম ঘিরে আছে লেক। লেকের পানিতে স্টেডিয়ামের প্রতিবিম্ব পড়েছে। স্টেডিয়ামে যাওয়ার জন্য পায়ে চলার ব্রিজ আছে। গাড়ি নিয়েও অন্য পথ দিয়ে যাওয়া যায়।
সোফাই স্টেডিয়ামে বিভিন্ন ধরনের খেলার জন্য বিভিন্ন আকারের প্রায় ১ লাখ কোর্ট আছে। স্টেডিয়ামটি নির্মাণে খরচ পড়েছিল প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার। শুধু স্টেডিয়ামের আয়তনই ৩ দশমিক ১ মিলিয়ন বর্গফুট। এই স্টেডিয়ামে এবারের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। আমি যে সামনে থেকে স্টেডিয়ামটি দেখতে পেয়েছি, সে কারণে আমার দুচোখ ধন্য।
বাইরে থেকে স্টেডিয়াম দেখে আমি চললাম হলিউড ওয়াক অব ফেইম দেখতে। মেট্রো এতই সুবিধাজনক, এতে চড়েই যাওয়া যায়। মেট্রোতে সহযাত্রী হিসেবে পেলাম সুপারম্যান আর স্পাইডার-ম্যানকে। এরা সে রকম সেজে হলিউড ওয়াক অব ফেইম স্টেশনেই নামল।
হলিউড ওয়াক অব ফেইম হলো সেই রাস্তার ফুটপাত, যেখানে বিভিন্ন সেলিব্রিটির নাম পিতল আর গোলাপি মোজাইকে তারকাচিহ্ন আকারে ঢালাই করে দেওয়া আছে। এদের সবাই চলচ্চিত্র, সংগীত বা নৃত্যে বিশেষ অবদান রেখেছেন। আমি ফুটপাতে হাঁটতে হাঁটতে খুঁজছি প্রিয় সেলিব্রিটিদের। প্রথমেই পেয়ে গেলাম ব্রিটনি স্পিয়ার্সের নাম। আরেকটু এগিয়ে পেলাম স্যান্ড্রা বুলক আর সেলিন ডিওনকেও। যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছি। এই তারকাদের হয়তো সামনাসামনি কখনোই দেখতে পাব না; তবে এই যে তারকাখচিত নামের সামনে দিয়ে যেতে পারছি, তাই-বা কম কি!
হলিউড ওয়াক অব ফেইমের পাশে সারি সারি স্টুডিও। আলাদা স্টুডিওতে আলাদা টিভি শোর শুটিং হয়। এর মাঝে একটি হলো রিপলিস বিলিভ ইট অর নটের স্টুডিও। এই পাড়াতেই আছে বিখ্যাত সব জাদুঘর—দ্য হলিউড মিউজিয়াম, মাদাম তুসো হলিউড, হলিউড ওয়াক্স মিউজিয়াম, হলিউড হেরিটেজ মিউজিয়াম ইত্যাদি। একেকটি জাদুঘর দেখতে কম করে হলেও আধা দিন লেগে যাবে। আমি হেঁটে হেঁটে পথের শোভা আর স্বপ্নের শহর লস অ্যাঞ্জেলেস দেখি। আর ভাবি, এরপর কোথায় ঢুঁ মারা যায়!
ছবি: লেখক
