skip to Main Content

টেকসহি I পাতালপুরীর শাসক

ঘোর বরিষণের মৌসুমে নগরজীবনে বৃষ্টির পানি যেন এক অমোচনীয় দুর্ভোগ। অথচ বৃষ্টির পাশাপাশি সাধারণ পানি নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ব্যবস্থাপনার উদাহরণ মেলে দূর অতীতেও। ইতিহাস ঘেঁটে লিখেছেন             আল মারুফ রাসেল

ইতিহাসের পাতায় যখন আমরা কোনো সভ্যতার কথা পড়ি, তখন সাধারণত দৃষ্টি আটকে থাকে আকাশচুম্বী প্রাসাদ, উপাসনালয়ের কারুকাজ অথবা কিংবদন্তির বীরদের বীরত্বের লোকগাথায়। কিন্তু প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে মধ্যযুগ পর্যন্ত যে সভ্যতাগুলো টিকে ছিল আর সমৃদ্ধি অর্জন করেছিল, সেগুলোর প্রকৃত রহস্য লুকিয়ে ছিল মাটির গভীরে, চোখের আড়ালে। একটি নগর কত উঁচুতে আকাশ ছুঁয়েছে, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেটির বর্জ্য ও বৃষ্টির জল কত দক্ষতার সঙ্গে দ্রুত মাটির গভীরে মিশে গিয়ে শহরকে সুস্থ রেখেছে। আধুনিক সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অনেক আগেই প্রাচীন নগর-পরিকল্পনাবিদেরা বুঝেছিলেন, পাতালপুরী বা ভূগর্ভস্থ নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনাই একটি নগরসভ্যতার প্রকৃত শাসক।

উনিশ শতকের দ্বিতীয় দশকের দিকে চার্লস ড’য়লির আঁকা চিত্রকর্ম ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত টঙ্গী সেতু’

৪ হাজার ৬০০ বছর আগে সিন্ধু সভ্যতার মহেন-জো-দারো ছিল নগর-পরিকল্পনার এক অনন্য বিস্ময়। মরুভূমির শুষ্ক প্লাবনভূমিতে গ্রিড পদ্ধতিতে নির্মিত এই শহর শুধু ইটের স্থাপত্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, সেই প্রাচীনকালেই শহরের প্রায় প্রতিটি বাড়ির দোতলায় ছিল ব্যক্তিগত স্নানঘর ও শৌচাগার। বর্জ্য অপসারণের জন্য তারা মাটির তৈরি পাইপ ব্যবহার করতেন, যা রাস্তার নিচে থাকা প্রধান নর্দমায় গিয়ে মিশত। এদের প্রকৌশলবিদ্যার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক ছিল সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ। রাস্তার নর্দমাগুলো উন্মুক্ত ছিল না; বরং চুনাপাথর বা ইটের খিলান দিয়ে ঢাকা থাকত। ড্রেন যাতে বন্ধ না হয়ে যায়, সে জন্য তারা বিশেষ ‘ড্রপ-স্ট্রাকচার’ ও ‘সাম্প পিট’ তৈরি করেছিলেন। বর্জ্য-জলের তীব্র গতির কারণে কঠিন পদার্থ নিচে জমা হতো, আর পরিশোধিত জল বেরিয়ে যেত। আধুনিক সিটি করপোরেশন যেভাবে নর্দমা পরিষ্কার করে, সেই ব্যবস্থার আদি রূপটি সিন্ধু সভ্যতার মানুষ প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগেই বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।
সিন্ধুর মতো আদিকালে আরেকটি সভ্যতা পাতালপুরীকে বশ করেছিল—রোমের ক্লোয়াকা ম্যাক্সিমা। রোম যখন দশ লাখ মানুষের মহানগরী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, তখন তাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বিশাল বর্জ্য সামাল দেওয়া। খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে নির্মিত ‘ক্লোয়াকা ম্যাক্সিমা’ (বৃহত্তম নিষ্কাশন পথ) ছিল এই সমস্যার সমাধান। এটি মূলত একটি খোলা খাল ছিল, যা পরে বিশাল ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে রূপান্তরিত হয়। প্লিনি দ্য এল্ডারের বর্ণনা অনুযায়ী, এই সুড়ঙ্গ এতই বিশাল ছিল, এর ভেতর দিয়ে অনায়াসে খড়বোঝাই একটি গাড়ি চালানো যেত। রোমের এগারোটি জলপ্রণালির উপচে পড়া জল এই নর্দমাগুলোকে প্রতিনিয়ত পরিষ্কার রাখত, যা শহরটিকে রোগ-ব্যাধির প্রকোপ থেকে বাঁচিয়ে রেখেছিল।

মহেন-জো-দারোর জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা

আদিকালের আরেকটি শহরের কথা বলতেই হয়, সেটি এথেন্স। শহরটি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই ছিল বন্যাপ্রবণ। কিন্তু খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে তারা নির্মাণ করেন ‘দ্য গ্রেট ড্রেন’। এটি ছিল মাধ্যাকর্ষণ-চালিত প্রকৌশলের এক অনবদ্য নিদর্শন। এই বিশাল নর্দমা শুধু বৃষ্টির জল সরিয়েই দিত না; বরং সেই জলকে শহরের প্রাচীর পেরিয়ে জলপাই বাগানে নিয়ে যেত। অর্থাৎ, এথেন্সের মানুষ দূষিত জলকে কৃষি সম্পদে রূপান্তর করতে শিখেছিলেন, যা আজকের পানির আধুনিক পুনর্ব্যবহার কৌশলেরই পূর্বসূরি।
আদিকাল থেকে চলে আসা পানি ও বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থার উত্তরসূরি হিসেবে পরে আবির্ভূত হয় কর্ডোবা, কনস্টান্টিনোপল ও ফেজের মতো শহরগুলো। আমরা প্রায়ই মধ্যযুগীয় শহরগুলোকে অন্ধকার ও কাদামাখা হিসেবে কল্পনা করি, যেখানে প্লেগ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু ইউরোপের যখন দুর্দশা চলছিল, তখন কর্ডোবা, কনস্টান্টিনোপল আর ফেজের মতো শহরগুলো ভূগর্ভস্থ প্রকৌশলের মাধ্যমে এক পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক জীবনের মানদণ্ড তৈরি করেছিল। কর্ডোবা বা আল-আন্দালুসে মুরিশ প্রকৌশলীরা গুয়াদালকুইভির নদীর ঢাল ব্যবহার করে কর্ডোবার নিচে এক জটিল পয়োনিষ্কাশন গোলকধাঁধা তৈরি করেছিলেন। আবদ্ধ ইটের এই নর্দমাগুলোতে বৃষ্টির পাশাপাশি শহরের ৯০০ হাম্মামের জল প্রবাহিত হতো, যা শহরকে সব ঋতুতেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখত। বাইজেন্টাইনরা রোমান ঐতিহ্যকে আরও প্রসারিত করেছিলেন কনস্টান্টিনোপল তথা ইস্তাম্বুল শহরে। তাদের ভূগর্ভস্থ জলাধারগুলো, যেমন ব্যাসিলিকা, বিশুদ্ধ জল সরবরাহের পাশাপাশি বৃষ্টির বন্যার চাপ শোষণ করে বন্দরকে সুরক্ষা দিত। মরক্কোর ফেজ আল-বালি শহর ছিল দ্বৈত-খাল ব্যবস্থার এক মাস্টারপিস। সেখানে একটি নালা দিয়ে আসত জীবনদায়ী বিশুদ্ধ জল, আর অন্যটি দিয়ে চলে যেত বর্জ্য। খাড়া ঢালের ওপর নির্মিত হওয়ার কারণে বর্জ্য জল অত্যন্ত গতিশীল থাকায় সেখানে কখনো ময়লা জমতে পারত না। এই ব্যবস্থা এতই কার্যকরী ছিল, বর্জ্য জল থেকে পরিস্রুত জল পরে কৃষিকাজে ব্যবহৃত হতো।
মধ্যযুগের আরও দুটি এলাকার কথা বলা যেতে পারে, প্রাসঙ্গিক বলেই। একটি দিল্লি আর অপরটি ঢাকা। দিল্লি সালতানাত ও গুরকানি (বা ভুলভাবে বলা ‘মুঘল’) যুগে প্রকৌশলীরা অত্যাধুনিক জল ব্যবস্থাপনা ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন, যা বন্যা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে নগর স্বাস্থ্যবিধিকে একীভূত করেছিল। সালতানাত শাসকেরা বর্ষাকালীন ব্যবস্থাপনা আর সেচের ওপর মনোযোগ দিয়েছিলেন। মুহাম্মদ বিন তুঘলকের নির্মিত সাতপুলা বাঁধে আরাবলির প্রবল স্রোত নিয়ন্ত্রণ এবং জল সংরক্ষণের জন্য সাতটি স্লুইসগেট ব্যবহার করা হয়েছিল। ফিরোজ শাহ তুঘলক এই পরিকাঠামোকে খালের মাধ্যমে আরও প্রসারিত করেন, যা নগর বসতিগুলোকে পরিষ্কার করার জন্য প্রাকৃতিক ভূসংস্থানকে কাজে লাগাত। এ ছাড়া নির্মাতারা অগভীর অধঃক্ষেপণ অববাহিকার আগে বাওলি (ধাপযুক্ত কূপ) ও হাউস (দিঘি) ব্যবহার করতেন, যা ভূগর্ভস্থ জল পরিশোধনের জন্য প্রাকৃতিক পলি ফাঁদ হিসেবে কাজ করত। শাহজাহানাবাদে গুরকানি প্রকৌশলীরা উচ্চ-নির্ভুল ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই ব্যবস্থাগুলোকে আরও উন্নত করেন। তারা একটি দ্বৈত-চ্যানেল ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করেন, যেখানে ‘নাহ্‌র-ই-বিহিশ্তে’র মতো বিশুদ্ধ জলের জলপ্রণালি থেকে বর্জ্য জলের নালিগুলোকে কঠোরভাবে পৃথক করা হয়েছিল। ঢালু দেয়াল নালার (পর্নালা) মাধ্যমে আবাসিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো হয়েছিল, যা ব্যবহৃত বর্জ্য জলকে ঢাকা দেওয়া রাস্তার নর্দমায় প্রবাহিত করত। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য, শহরের দেয়ালের নিচে বিশাল পাথরের প্রধান নর্দমা নির্মাণ করা হয়েছিল, যা দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্যকে জলাভূমিতে বা ‘লাল কিলা’ থেকে যমুনা নদীর ভাটিতে নিয়ে যেত।
মধ্যযুগে ঢাকার জল ব্যবস্থাপনা ছিল তৎকালীন নগর-পরিকল্পনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রাক্-গুরকানি ও গুরকানি—এই দুই যুগে জল নিষ্কাশন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এলেও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে শহরকে সুরক্ষিত রাখার কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল। চতুর্দশ থেকে ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত সুলতানি আমলে ঢাকা ছিল একটি নদীকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এ সময়কার জল ব্যবস্থাপনা ছিল মূলত প্রবাহভিত্তিক। সুলতানেরা কৃত্রিম নির্মাণের চেয়ে প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল ছিলেন বেশি। বসতি স্থাপনের জন্য উঁচু ভূমি (প্লাইস্টোসিন সোপান) নির্বাচন করা এবং নিচু এলাকা ও জলাভূমিগুলোকে ‘স্পঞ্জ’ হিসেবে রেখে দেওয়া হতো, যা বর্ষার অতিরিক্ত জল ধারণ করত। ছোট ছোট খাল ও মাটির বাঁধের মাধ্যমে তারা জল নিষ্কাশন ও পরিবহনের সুবিধা নিশ্চিত করতেন। এটি ছিল জলপ্রবাহের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার এক পরিবেশবান্ধব ও বিকেন্দ্রীভূত পদ্ধতি।

প্রাচীন রোমের ক্লোয়াকা ম্যাক্সিমা

১৬১০ বা ১৬১২ সালে ঢাকা গুরকানি বাংলার রাজধানী হওয়ার পর জল ব্যবস্থাপনায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। গুরকানিরা শুধু প্রকৃতির ওপর নির্ভর না করে কৌশলগত প্রকৌশলবিদ্যার প্রয়োগ ঘটাতে শুরু করেন। ঢাকায় তাদের জল ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি ছিল ধোলাই খাল। ৩০ মিটার চওড়া খালটি শহরের নিষ্কাশন ব্যবস্থা আধুনিকায়নের পাশাপাশি শত্রু প্রতিরোধে পরিখা হিসেবে কাজ করে। লালবাগ দুর্গের মতো স্থাপনায় তারা উন্নত পারসিক জলবহনের প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। ‘দ্য প্যানোরামা অব দ্য সিটি অব দ্য ডাক্কা’য় বা চার্লস ড’য়লির স্কেচে পারসিক জল-চাকার (‘চার্‌খ-ই-চাহ্‌’) দুটি স্তম্ভ দেখা যায়। কেল্লার ভেতরে বেষ্টন ও মসজিদেও মাঝামাঝি এলাকায় আর হাম্মামখানায় ভূগর্ভস্থ পোড়ামাটির পাইপের মাধ্যমে জল সরবরাহ ও বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থার দেখা মেলে এখনো। হাম্মাম ও শৌচাগার থেকে তরল বর্জ্য সরাসরি প্রধান পয়োনিষ্কাশন নালীতে পরিবহনের জন্য উচ্চ তাপমাত্রায় পোড়ানো কাদামাটি পুড়িয়ে তৈরি পাইপ মাটির নিচে স্থাপন করা হতো। পারসিক ‘কানাৎ’ প্রক্রিয়ায় ভূগর্ভস্থ চ্যানেল তৈরি করা হয়েছিল, যার সঙ্গে ছিল উল্লম্ব বায়ু চলাচল খাদ, যেটি মাটির দুই থেকে তিন ফুট উপরে উঠে থাকত। এগুলো বিষাক্ত গ্যাস বের হতে দিত, অভ্যন্তরীণ হাইড্রোলিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখত আর মধ্যযুগীয় পৌরকর্মীদের জন্য আবর্জনার স্তূপ পরিষ্কার করার প্রবেশপথ হিসেবেও কাজ করত। আবার প্রকৌশলীরা ‘চার্‌খ-ই-চাহ্’ ব্যবহার করে নদীর জল উঁচু জলাধারে তুলতেন। এরপর এই জল ইচ্ছাকৃতভাবে দ্রুত গতিতে চ্যানেলের মধ্য দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হতো কৃত্রিম স্রোত তৈরি করার জন্য, যা শহরের নর্দমা থেকে জমে থাকা পলি পরিষ্কার করে দিত। বড় জলাধার নির্মাণ এবং হাম্মামখানা স্থাপন ছিল তাদের প্রকৌশল দক্ষতার প্রমাণ। নদীর তীরে নির্মিত বিশাল ঘাটগুলো একদিকে ভূমিক্ষয় রোধ করত, অন্যদিকে সামাজিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখত।
দিল্লি ও ঢাকা—দুই জায়গাতেই, দুই যুগের জল ব্যবস্থাপনার মৌলিক পার্থক্য হলো সুলতানি আমল ছিল প্রাকৃতিক অভিযোজনের যুগ, যেখানে মানুষ জলপ্রবাহের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিত। অন্যদিকে, মুঘল আমল ছিল সাম্রাজ্যিক নিয়ন্ত্রণ ও সক্রিয় প্রকৌশলের যুগ, যেখানে বিশাল খাল খনন, দুর্গ নির্মাণ এবং অত্যাধুনিক জলবাহী প্রযুক্তির মাধ্যমে শহরকে সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছিল। উভয় ব্যবস্থাপনাই ঢাকার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে সে সময়ের জনপদগুলোকে প্রতিকূল প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে নগরসভ্যতার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল।
আবার সেই আদিকাল থেকে মধ্যযুগ পর্যন্ত, মহেন-জো-দারো থেকে শুরু করে সম্মিলিতভাবে, এই উদ্ভাবনগুলো বিশুদ্ধ জলের বিতরণ এবং কার্যকর বর্জ্য নিষ্কাশন নিশ্চিত, মহামারি প্রতিরোধ এবং একই সঙ্গে ঐতিহাসিক শহরগুলোর কাঠামোগত অখণ্ডতা রক্ষা করেছিল। মহেন-জো-দারো থেকে শুরু করে ফেজ দিল্লি ও ঢাকা—প্রাচীন এই নগরগুলো আমাদের শেখায়, স্থায়িত্ব শুধু সৌন্দর্যের ওপর নির্ভর করে না, একটি শহরের দীর্ঘজীবী হওয়ার মূলমন্ত্র লুকিয়ে থাকে মাটির নিচে নির্মিত অদৃশ্য সুড়ঙ্গগুলোতে। আধুনিক মেগাসিটিগুলো যখন জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো সংকটের মুখোমুখি, তখন হাজার বছরের পুরোনো এই ভূগর্ভস্থ প্রকৌশলের শিক্ষাগুলোই আমাদের স্থিতিস্থাপক শহর গড়ার পথ দেখাতে পারে। কেননা সভ্যতার প্রকৃত উচ্চতা আকাশচুম্বী অট্টালিকায় নয়; বরং সেই সভ্যতার বর্জ্য ও জলের সুব্যবস্থাপনার গভীরতায় প্রোথিত।

ছবি: ইন্টারনেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top