টেকসহি I দিগন্তে দহন
প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে আবহাওয়া। বাড়ছে তাপ। প্রায়ই শোনা যাচ্ছে এল নিনোর কথা। প্রভাব পড়ছে ত্বকে
চলতি বছর সুপার এল নিনো হওয়ার শঙ্কা প্রবল। এতে ব্যাহত হতে পারে ভূপৃষ্ঠের স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় সঞ্চরণ ব্যবস্থা। অঞ্চলভেদে দেখা দিতে পারে এর তাণ্ডব। কখনো খরা, কখনোবা অতিবৃষ্টি। স্বাভাবিক ভারসাম্য হারাতে পারে জলবায়ু। তীব্র তাপমাত্রার সঙ্গে হানা দিতে পারে বাতাসের অসহনীয় আর্দ্রতা; জোরালো হওয়ার শঙ্কা প্রবল সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির। সমুদ্র ছাড়িয়ে ভূপৃষ্ঠ, অতঃপর এল নিনো এসে হানা দিতে পারে ত্বকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের পাবমেড জার্নালে প্রকাশিত ২০১৫ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এল নিনোর সময় পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে নানা রকম ত্বকের রোগ দেখা দিতে পারে। যেমন অ্যাকটিনিক কেরাটোসিস, ছত্রাকজনিত সংক্রমণ, পিটিরিয়াসিস ভার্সিকালার, ঘামাচি, ফলিকুলাইটিস, রোসেসিয়া এবং পেডেরাস ইরিটানস থেকে সৃষ্ট ডার্মাটাইটিস। আরও দেখা দিতে পারে স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়া, সোরায়সিস, প্যাপুলার আর্টিকারিয়া এবং আঁচিলের মতো চর্মরোগ।
এল নিনোর প্রভাবে ত্বকে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যা তৈরি হতে পারে, তা হলো শুষ্কতা। কারণ, আবহাওয়ার পরিবর্তন ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা শুষে নিচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, শুষ্ক ত্বককে জেরোসিস বলা হয়, যা আরও গুরুতর চর্মরোগের কারণ হতে পারে। আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় খুব বেশি সময় ধরে এবং গরম পানি দিয়ে গোসল করলে, ক্লোরিনযুক্ত সুইমিংপুলে ঘন ঘন সাঁতার কাটলে, কড়া সাবান ব্যবহারে, ত্বক অতিরিক্ত ঘষে পরিষ্কারে, বেশি সময় রোদে থাকলে এবং পর্যাপ্ত পানি পান না করলে জেরোসিস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বয়সও একটি কারণ হতে পারে। কারণ, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বক স্বাভাবিকভাবে আর্দ্রতা হারায়। তাই বয়স ৪০ বছরের বেশি হলে জেরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এ ছাড়া যাদের একজিমা ও সোরায়সিসের মতো চর্মরোগ রয়েছে, তাদের গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক ত্বকে ভোগার শঙ্কা অনেক।
সমস্যা জটিল হলেও সমাধান বেশ সহজ। নিয়মিত ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করলেই হলো! ত্বক বুঝে ব্যবহার করা যেতে পারে ক্রিম, লোশন এবং পেট্রোলিয়াম জেলি ও সেরাম।
বেশ কয়েক দিন ধরে অসহ্য গরম, আবার হুট করে তাপ কমে গিয়ে বৃষ্টি। আবহাওয়ার এই দ্রুত রূপান্তরে নিয়মিত স্কিন কেয়ার রুটিনেও ঘটতে পারে বিপত্তি। পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পারলে অবস্থা হতে পারে বেসামাল। ত্বকে ঘাম, তেল ও ময়লা আটকে ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা আর সূর্যের প্রখর তাপে ত্বকে দেখা দিতে পারে পোড়া ও কালচে ভাব। তাই সেভাবেই নেওয়া চাই যত্ন, আগের চেয়ে আরেকটু সচেতনভাবে, সময় নিয়ে।
জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানো সম্ভব না হলেও, ত্বককে সুস্থ ও সুন্দর রাখা অসম্ভব নয়। এল নিনোর প্রভাবে ঘটতে থাকা পরিবর্তনগুলো চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী স্কিন কেয়ার কৌশল মেনে চলা চাই। এর পাশাপাশি কিছু প্রাথমিক যত্নে দেওয়া প্রয়োজন মনোযোগ।
দিনে দুবার মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করা যেতে পারে। এর বেশি কিছুতেই নয়। কেননা অতিরিক্ত ফেসওয়াশ বা হার্শ ক্লিনজার ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর নষ্ট করে।
গরম আবহাওয়ায় ত্বক তৈলাক্ত দেখালেও ভেতরে শুষ্কতা বাড়তে পারে। তাই হালকা জেলভিত্তিক ময়শ্চারাইজার, হায়ালুরনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন বা একটোইন সমৃদ্ধ পণ্য ব্যবহার করা মঙ্গল।
এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করা শ্রেয়। তার কমে কার্যকর হবে না যত্ন। বাইরে থাকলে ২-৩ ঘণ্টা পর পর রি-অ্যাপ্লাই জরুরি।
ভিটামিন সি, নিয়াসিনামাইড বা গ্রিন টি এক্সট্র্যাক্ট ত্বককে পরিবেশগত স্ট্রেস থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়ক।
তাপ ও পরিবেশগত চাপের কারণে স্কিন ব্যারিয়ার দুর্বল হয়ে যায়। সেরামাইড, প্যানথেনল ও একটোইনযুক্ত পণ্য এ ক্ষেত্রে উপকারী।
ভারী ক্রিম বা অতিরিক্ত তেলভিত্তিক পণ্য এড়িয়ে চলাই ভালো। নন-কমেডোজেনিক ফর্মুলা এ সময়ে কার্যকর হতে পারে।
আবৃতি আহমেদ
মডেল: উর্পিকা
মেকওভার: পারসোনা
ছবি: জিয়া উদ্দীন
