skip to Main Content

ত্বকতত্ত্ব I নাইট টু লাইট

বিউটি স্লিপের তোয়াক্কা না করেই চলছে গোল উদ্‌যাপন। ওদিকে রাত গড়িয়ে সকাল না হতেই অনিয়মের প্রভাব পড়তে পারে ত্বকে। সমাধান খোঁজা যাক

বিশ্বকাপ মানেই যেন রাত জেগে খেলা দেখা। উল্টোপাল্টা খাওয়া-দাওয়া আর গোল হলেই উল্লাস! এ সময় খুব নিয়মনিষ্ঠজনেরও নিয়মের ব্যাঘাত হয়। আমেজটাই এমন। কিন্তু সকাল হলেই ঘুমহীন রাতের সাক্ষ্য দেয় ত্বক। কারণ, পরিমিত ঘুম ত্বক সুস্থ ও সুন্দর রাখতে সহায়ক। পর্যাপ্ত না ঘুমালে ত্বক মলিন দেখানোর ঝুঁকি থাকে। শরীরের ক্লান্তি ফুটে উঠতে পারে ত্বকে। থাকে স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারানোর শঙ্কা। ফলে ত্বক টানটান ও শুষ্ক অনুভূত এবং রাত জাগলে শরীরে রক্ত সঞ্চালনের ভারসাম্য প্রভাবিত হতে পারে। চারপাশে তরল জমে ফোলা দেখাতে পারে চোখ। আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে চোখের নিচের ডার্ক সার্কেল। ঘুমের অভাব কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা ত্বকের তেল উৎপাদন বাড়িয়ে রোমকূপ বন্ধ করে ব্রণের কারণ হতে পারে। প্রদাহের জন্য ত্বকের সংবেদনশীলতা ও লালচে ভাব বাড়ার ঝুঁকি থাকে।
কার্যকর কৌশল
এক রাত নির্ঘুম কাটালে খুব একটা সমস্যা না হলেও, ঘুমের নিয়মিত অনিয়মে ত্বকের ক্ষতি সুনিশ্চিত। তাই রাত জেগে খেলা দেখার পরিকল্পনায় থাকা চাই সঠিক ত্বকযত্নও।
নো মেকআপ টু বেড
খেলা দেখতে কত আয়োজন। প্রিয় দলের জার্সি আর পতাকার রঙে সাজতে ভালোবাসেন অনেকে। কেউ মেকআপ করেন, কেউ রংতুলি দিয়ে পতাকা আঁকেন গালে। খেলা শেষে যত ক্লান্তিই অনুভূত হোক না কেন, ত্বক থেকে সব সাজ তুলে ফেলাই মঙ্গল। সারা রাত ধরে জমে থাকা তেল, ঘাম ও ময়লা দূর করতে ব্যবহার সম্ভব ফেসওয়াশ বা ক্লিনজার। ত্বকের ধরন অনুযায়ী। ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কারের জন্য প্রয়োগ করতে পারেন ক্লিনজিং অয়েল অথবা বাম। স্ক্রাব দিয়ে ঘষে ত্বক পরিষ্কার না করাই উত্তম। অন্যথায় ত্বকে সংবেদনশীলতা দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া ত্বক পরিষ্কার থাকলে অর্ধেক সমস্যা এমনিতেই কমে যায়।
রি-হাইড্রেশন
ঘুমের অভাবে হারানো আর্দ্রতা ত্বকে ফিরিয়ে আনতে পারে রি-হাইড্রেশন পদ্ধতি। শুষ্ক, রুক্ষ ও টানটান মনে হলে বোঝা চাই, ত্বকে স্বাভাবিক আর্দ্রতা নেই। তাই খেলা দেখা শেষে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মুখে বেশি করে পানির ঝাপটা নিলে ত্বক পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে। বেশি করে পানি পান করলেও শরীরে হাইড্রেশন লেভেল ভেতর থেকে পুনরুদ্ধার হয়, যার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায় ত্বকে। স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। ত্বক বেশি শুষ্ক মনে হলে ব্যবহার করা সম্ভব হাইড্রেটিং ফেশিয়াল মাস্ক। হায়ালুরনিক অ্যাসিড, ল্যাকটিক অ্যাসিড, ক্যাফেইন ও গ্লিসারিনের মতো হাইড্রেটিং উপাদান ত্বকের হারানো আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক।
ডিপাফ টেকনিক
রাত জাগার প্রভাব প্রথমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে চোখের চারপাশে। দেখা দিতে পারে পাফিনেস। ক্লান্ত দেখাতে পারে মুখ। দূরীকরণে ব্যবহার করতে পারেন ঠান্ডা আই জেল, কুলিং আই প্যাচ বা কোল্ড কম্প্রেস। এতে ফোলাভাব কমে যাবে। ত্বকও সতেজ হয়ে উঠবে।
ব্যারিয়ার রিপেয়ার
ঘুমের অভাবে শুষ্ক ত্বক আরও শুষ্ক এবং তৈলাক্ত ত্বকে বাড়তি তেলতেলে ভাব দেখা দিতে পারে। এতে ত্বকের সুরক্ষা স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্নেইল মিউসিন, সেরামাইড, নায়াসিনামাইড, স্কোয়ালেইন, হায়ালুরনিক অ্যাসিডের মতো উপাদানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারিয়ারকে পুনরুদ্ধারে সক্ষম।
সুরক্ষা বালাই
লাইফস্টাইলে কিছু পরিমার্জন এনে ত্বকের ক্ষতি সারাই করা সম্ভব।
সানস্ক্রিন
নির্ঘুম ত্বকের ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সূর্যের আলোতে সহজে ট্যান হতে পারে। তা থেকে ডিফেন্স মেকানিজম হিসেবে সানস্ক্রিন বা সানব্লক ব্যবহার করা ভালো; বিশেষ করে বাইরে যাওয়ার সময়। এতে ত্বক বাড়তি ক্ষতি থেকে সুরক্ষা পাবে।
পাওয়ার ন্যাপ
বলা হয়, যেকোনো স্কিন কেয়ারের চেয়ে ত্বকের জন্য অনেক বেশি উপকারী হতে পারে ঘুম। কখনো কখনো অল্প সময়ের পাওয়ার ন্যাপই যথেষ্ট। খেলা দেখা শেষে খানিক ঘুমিয়ে নিতে পারলে শরীরের সঙ্গে ত্বকেও ফিরতে পারে সতেজতা।

 আবৃতি আহমেদ
মডেল: মেহরিন
মেকওভার: পারসোনা
ছবি: জিয়া উদ্দীন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top