skip to Main Content

কুন্তলকাহন I কালার কিক-অফ

অশেষ আনন্দ নিয়ে চলছে বিশ্বকাপ ফুটবল। প্রিয় দলের সমর্থনে শুধু পতাকা উড়িয়েই থেমে থাকছে না উদ্‌যাপন, দেখা মিলছে সমর্থন জানানোর অভিনব কৌশলের। এর অন্যতম হলো পতাকা আর জার্সির রঙে চুল রাঙানো

বিশ্বকাপ মৌসুম চলছে। এমন সময় করতে পারেন টেম্পরারি হেয়ার কালার। অর্থাৎ, সাময়িকভাবে চুলের কিছু অংশ রং করে নেওয়া যেতে পারে প্রিয় দলের পতাকা বা জার্সির রঙে। ছেলে-মেয়ে সবাই, এমনকি ছোট-বড় সব বয়সীরাও। এতে আমুদে দেখায় ভীষণ। যেমন ব্রাজিল হলে হলুদ, সবুজ ও নীল; আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে সাদা ও নীল; জার্মানির সাপোর্টাররা লাল, হলুদ ও কালো। এভাবে জানান দেওয়া সম্ভব দলের প্রতি দৃঢ় সমর্থন, যা বহু গুণে বাড়িয়ে দিতে পারে উদ্‌যাপনের আনন্দ। চুলের কোনো ক্ষতি না করেই এর প্রয়োগ সম্ভব। তবে একটু সাবধানে! কারণ, তা না হলে ঘটতে পারে বিপদ। সামান্য ভুলেও বাজতে পারে চুলের বারোটা।
বিকল্প সম্ভার
অ্যাপ্লাইয়ের আগে জেনে নেওয়া যাক টেম্পরারি হেয়ার কালার করার বেশ কয়েকটি সহজ কৌশল।
হেয়ার চক
পাউডার-বেসড কালার স্টিক দিয়ে তৈরি। এতে সাধারণত কোনো কেমিক্যাল থাকে না। হেয়ার চক দিয়ে চুলে সাময়িকভাবে হাইলাইটস বা ওমব্রে ইফেক্ট করা যেতে পারে। লাল, নীল, সবুজ, হলুদ, বেগুনি, সাদা ইত্যাদি নানা রঙিন হেয়ার চক পাওয়া যায়। পরিচিত ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে গার্লজোন, স্প্লাট, ডিজায়ার ডিলাক্স ও পার্পল লেডিবাগ। হাতের তালুতে অল্প অল্প করে চুল নিয়ে চক দিয়ে রং করা যেতে পারে। একসঙ্গে প্রয়োগ সম্ভব একাধিক রং। চুলে চক ব্যবহারের পর সময়ের সঙ্গে রং হালকা হতে শুরু করে। তবে ভালো দিক হলো, এটি একদম অস্থায়ী। তাই ইচ্ছেমতো রং করা সম্ভব। পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেই উঠে যায়।
কালার স্প্রে
অস্থায়ী এবং ধুয়ে ফেলা যায়—এমন হেয়ার ডাই দিয়ে তৈরি। চুলের গোড়ায় স্থায়ী ডাইয়ের মতো প্রবেশ করে না; বরং বাইরের অংশে রঞ্জক পদার্থ দিয়ে আস্তরণ গড়ে তোলে। শ্যাম্পু করলে ধুয়ে যায়। কোনো প্রকার ব্লিচ করানো ছাড়াই চুল এনে দিতে সক্ষম উজ্জ্বল ও গাঢ় রং। ব্যবহারের সময় স্প্রের ক্যান ভালোভাবে ঝাঁকানো চাই। পুরোনো তোয়ালে বা কাপড় দিয়ে পোশাক ঢেকে নিলে দাগ পড়ার ঝুঁকি কমে। চুল থেকে ক্যান ১০-১২ ইঞ্চি দূরে ধরে স্প্র্রে করলে হালকা স্তর তৈরি হবে। বেশি স্প্রে করলে চুল শক্ত বা খসখসে লাগতে পারে। এই পণ্য সাধারণত অ্যামোনিয়া ও পারক্সাইড-মুক্ত। তাই কুসুম গরম পানি ও শ্যাম্পু দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ধোয়া সম্ভব। তবে অসুবিধা হলো, পুরোপুরি শুকানোর আগেই পোশাক বা বালিশের কভারে রং লেগে যেতে পারে। ধোয়ার আগপর্যন্ত চুল কিছুটা শুষ্ক বা শক্ত অনুভূত হতে পারে। তাই কালার স্প্রে ব্যবহারের পর চুলে ভালোভাবে শ্যাম্পু ও কন্ডিশন ব্যবহার করা জরুরি।
ক্রিম বা ওয়াক্স ডাই
চুলের বাইরের স্তরে সাময়িকভাবে রং করতে ব্যবহার সম্ভব কালার ক্রিম বা ওয়াক্স ডাই। এটি মেকআপের মতোই অস্থায়ী। শ্যাম্পু করলে রং পুরোপুরি ধুয়ে যায়। ভেজা বা শুকনো চুলে সরাসরি হাত, চিরুনি অথবা ব্রাশ দিয়ে প্রয়োগ করা যেতে পারে। যেহেতু কেশের আসল রং পরিবর্তন না করে শুধু উপরিভাগে বসে, তাই এটি হালকা ও গাঢ়—উভয় রঙের চুলেই সমানভাবে কার্যকরী।
কন্ডিশনার ও মাস্ক
আর্দ্রতা ফিরিয়ে চুলকে মসৃণ ও ঝলমলে করে তুলতে পারে হেয়ার কন্ডিশনার ও মাস্ক। এ ধরনের এমন কিছু পণ্য আছে, যেগুলোর ব্যবহার চুলে কালার শাইন এনে দিতে সক্ষম। তবে গাঢ় রঙের চুলে এই রং খুব বেশি বোঝা যায় না; হালকা রঙের চুলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অস্থায়ী রং হওয়ায় চুল ধোয়ার পর ধীরে ধীরে উঠে যায়।
কালার জেল
জেল সাধারণত চুল স্টাইলিংয়ে ব্যবহার করা হয়। লম্বা সময় ধরে রাখতে পারে সেই স্টাইল। স্বচ্ছ হেয়ার জেলের পাশাপাশি কালার জেলও পাওয়া যায়, যা ব্যবহারে স্টাইলিংয়ের পাশাপাশি চুলে রংও করা সম্ভব। ধোয়ামাত্রই জেল ও রং একদম উবে যায়।
হেয়ার মাসকারা
চোখের পাপড়িকে আরও ডিফাইন করে তোলে মাসকারা। চুল ঠিক ডিফাইন করার জন্য না হলেও কালারিংয়ের প্রয়োজনে রয়েছে হেয়ার কালার মাসকারা। এটি দিয়ে চুলে অস্থায়ী রং করা সম্ভব।
গ্লিটার ও কালার মেকআপ
হাতের কাছে সঠিক পণ্য না থাকলে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে আইশ্যাডো প্যালেট। সেখান থেকে পছন্দের রং ও গ্লিটার আঙুলে নিয়ে চুলে প্রয়োগ করলে সুফল মিলবে।
প্যাস্টেল ক্রেয়ন
খাতায় যে রং দিয়ে ছবি আঁকা হয়, সেই প্যাস্টেল ক্রেয়ন হতে পারে আরেকটি বিকল্প। একে চুলের ওপর ঘষে কালার ইফেক্ট তৈরি করা যায়।
ক্লিপ এক্সটেনশন
রঙিন হেয়ার এক্সটেনশন ক্লিপ সেঁটে নিলে চুলে বাড়তি কিছু করার দরকার পড়বে না। এমনিতেই হাইলাইটসের মতো দেখবে। আবার সুবিধামতো খুলে রাখলেই হলো। হেয়ার ক্লিপ সাধারণত পুনর্ব্যবহারযোগ্য। তাই যত্ন করে রেখে বারবার ব্যবহার সম্ভব।
আফটার কেয়ার
সময় নিয়ে আলতো হাতে চুল শ্যাম্পু করে নিলেই ধুয়ে যাবে অস্থায়ী রং। ময়শ্চারাইজিং কন্ডিশনার বা হেয়ার মাস্ক ব্যবহারে ফিরবে মসৃণতা। চুলের ফ্রিজিনেস কমাতে এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে করা যেতে পারে লিভ-ইন ট্রিটমেন্ট। ব্যবহার সম্ভব হেয়ার সেরাম বা এসেন্স।
রেড কার্ড
রং যদি অস্থায়ীও হয়, তবু চুলে প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
 চুলে রং ব্যবহারের আগে, পণ্যের প্যাকেটে লেখা নির্দেশাবলি অনুযায়ী একটি প্যাচ টেস্ট করে অ্যালার্জির বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া মঙ্গল।
 অতিরিক্ত তেল, ড্রাই শ্যাম্পু বা স্টাইলিং পণ্য চুলে রং বসতে বাধা দিতে পারে। বেশির ভাগ অস্থায়ী রঙের ক্ষেত্রে পরিষ্কার ও শুকনো চুলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।
 প্রয়োগের সময় ত্বক ও পোশাক সুরক্ষিত না রাখলে রঙের স্পর্শে নষ্ট হতে পারে। এ সময়ে পরে নিতে পারেন পুরোনো কাপড়; মাথায় শাওয়ার ক্যাপ।
 হেয়ারলাইন ও কানের চারপাশে পেট্রোলিয়াম জেলির একটি পাতলা স্তর মেখে নিলে ত্বক সুরক্ষিত থাকবে।
 খালি হাতে প্রয়োগ করলে দাগ বসে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে; তাই গ্লাভস পরে নেওয়া মঙ্গল।
 চুলের ধরন অনুযায়ী কালার ফর্মুলা বেছে নিলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। কারণ, সব পণ্য সব ধরনের চুলে একইভাবে কাজ করে না। যেমন গাঢ় চুলে উজ্জ্বল শেড ফুটিয়ে তুলতে উচ্চ পিগমেন্টযুক্ত স্প্রে বা ওয়াক্স প্রয়োজন হতে পারে। আর ভারী ওয়াক্স বা ক্রিমের কারণে ভারী হয়ে যেতে পারে পাতলা চুল।
 মাত্রাতিরিক্ত রং ব্যবহারে চুল চটচটে বা শক্ত হওয়ার ঝুঁকি, যা ধোয়া মুশকিল।
 রং করার পর তা শুকাতে বা সেট হতে সময় না দিলে যত্রতত্র লেগে যেতে পারে।
 চুলের ক্ষতি এড়াতে রং করার পর চুলে স্ট্রেইটনার বা ড্রায়ারের তাপ ব্যবহার না করাই ভালো।

 আবৃতি আহমেদ
মডেল: ফারিয়া
মেকওভার: পারসোনা
ছবি: জিয়া উদ্দীন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top