skip to Main Content

তনুরাগ I নব্বই মিনিটে ফিনিশ

ফুটবল ম্যাচ মানেই উত্তেজনা, আবেগ আর অপেক্ষা। সব মিলিয়ে ৯০ মিনিট যেন অন্য এক জগৎ। কিন্তু এই সময়ব্যাপ্তি কি শুধু খেলা দেখার জন্য নির্ধারিত? যদি ত্বকের যত্নেও কাজে লাগানো যায়, কেমন হয়

সৌন্দর্যচর্চার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ সময় বের করা। অফিস, পরিবার, সামাজিক ব্যস্ততা—সবকিছুর ভিড়ে অনেকে নিয়মিত স্কিন কেয়ারের জন্য আলাদা সময় পান না। এদিকে একটি ফুটবল ম্যাচের সাধারণ সময়ব্যাপ্তি ঠিক ৯০ মিনিট। অর্থাৎ, আপনি যখন মাঠের লড়াই দেখছেন, তখন আপনার ত্বকও নিজের একটি ছোট্ট ম্যাচ খেলতে পারে ক্লান্তি, শুষ্কতা আর নিস্তেজতার বিরুদ্ধে।
প্রি-ম্যাচ প্রিপারেশন
খেলা শুরু হওয়ার আগে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় নিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নেওয়া যেতে পারে। সারা দিনের ধুলো, ঘাম ও মেকআপের অবশিষ্টাংশ ত্বকের ওপর থাকলে মাস্ক বা স্কিন কেয়ার পণ্যের কার্যকারিতা কমে যায়। মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধোয়ার পর হাইড্রেটিং টোনার ব্যবহার করতে পারেন। এরপর ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিন শিট, জেল কিংবা ক্রিম—যেকোনো একটি মাস্ক। শুষ্ক ত্বকের জন্য হায়ালুরনিক অ্যাসিড আর তৈলাক্ত ত্বকে নিয়াসিনামাইড বা গ্রিন টি সমৃদ্ধ মাস্ক হতে পারে ভালো বিকল্প।
ফার্স্ট হাফ
রেফারির প্রথম বাঁশির সঙ্গে শুরু হবে ম্যাচ। একই সময়ে শুরু হতে পারে ত্বকের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াও। শিট মাস্ক সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিনিট রাখাই যথেষ্ট। এই সময়ে ত্বক আর্দ্রতা শোষণ করে এবং সাময়িকভাবে আরও সতেজ ও প্রাণবন্ত দেখায়। যদি শিট মাস্ক ব্যবহার না করেন, তাহলে হাইড্রেটিং জেল মাস্ক একটু বেশি সময় ধরে রাখা যেতে পারে। খেয়াল রাখুন, ম্যাচ দেখার সময় পানীয় হিসেবে সফট ড্রিংকের বদলে পানি বা ফল মেশানো ইনফিউজড ওয়াটার বেছে নেওয়া স্বাস্থ্যকর। কেননা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ভেতর থেকে হাইড্রেশনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
হাফ টাইম
ফুটবলে যেমন হাফটাইম হলো বিশ্রাম নেওয়া এবং কৌশল বদলের সময়, তেমনি স্কিন কেয়ারেও এটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। শিট মাস্ক খুলে ফেলে অবশিষ্ট সেরাম আলতো করে ত্বকে মাসাজ করা যেতে পারে এ সময়ে। অনেকে মাস্ক খোলার পর মুখ ধুয়ে ফেলেন; কিন্তু অধিকাংশ হাইড্রেটিং মাস্কের ক্ষেত্রে এর প্রয়োজন নেই। এ সময় একটি হালকা ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। ঠোঁটের জন্য লিপ বাম এবং চোখের নিচে ক্লান্তি থাকলে কুলিং আই প্যাচও বেশ কার্যকরী। মাত্র কয়েক মিনিটের এই বিরতি ত্বককে পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত করবে।
সেকেন্ড হাফ
দ্বিতীয়ার্ধে খেলা যত এগোয়, ত্বকের ক্ষেত্রে ততই শুরু হয় আর্দ্রতা ধরে রাখার লড়াই। ময়শ্চারাইজার ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা আগের ধাপগুলোর উপকারী উপাদান আটকে রাখতে সহায়ক। যদি ম্যাচটি রাতের দিকে হয়, তাহলে শেষ বাঁশি বাজার আগেই স্লিপিং মাস্ক বা নারিশিং নাইট ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। ফলে খেলা শেষ হওয়ার পর আর আলাদা স্কিন কেয়ার রুটিনের প্রয়োজন পড়বে না; সরাসরি ঘুমানোর জন্য প্রস্তুত থাকবেন।
ম্যাচ বুঝে, স্কিন বুঝে
সব ফুটবলপ্রেমীর অভিজ্ঞতা এক নয়; তাই স্কিন কেয়ারও অভিন্ন হওয়ার দরকার নেই। যারা রাত জেগে ম্যাচ দেখেন, তাদের জন্য ক্যাফেইনযুক্ত আই প্যাচ বা ডি-পাফিং জেল উপকারী হতে পারে। যারা বন্ধুদের সঙ্গে ম্যাচ পার্টি করেন, তারা খেলা শুরুর আগে ইনস্ট্যান্ট গ্লো মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। আর যাদের ত্বক সহজে শুষ্ক হয়ে যায়, ম্যাচজুড়ে হাইড্রেশন-কেন্দ্রিক রুটিন অনুসরণ করা তাদের জন্য ভালো।
শেষ বাঁশি, শেষ নয়
ফুটবল ম্যাচ শেষ হতে পারে ৯০ মিনিটে, কিন্তু ত্বকযত্নের সুফল আরও দীর্ঘস্থায়ী। সৌন্দর্যচর্চা সব সময় জটিল বা সময়সাপেক্ষ হতে হবে, এমন নয়। কখনো কখনো একটি ম্যাচ, একটি মাস্ক এবং কিছু সচেতন সিদ্ধান্তই যথেষ্ট। তাই পরেরবার যখন প্রিয় দল মাঠে নামবে, তখন শুধু স্কোরলাইন নয়, নিজের ত্বকের দিকেও একটু নজর দিতে পারেন। কে জানে, ম্যাচ শেষে প্রিয় দলের পাশাপাশি আপনার ত্বকেরও হতে পারে জয়।

 সারাহ্ দীনা
মডেল: জেরিন
মেকওভার: পারসোনা
ছবি: জিয়া উদ্দীন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top