skip to Main Content

ইভেন্ট I শান্তিবাড়িতে জুন ফর গ্রিন

মানুষ প্রকৃতিকে বাঁচায়, নাকি প্রকৃতি নিজেই বাঁচতে জানে? উত্তরের খোঁজে শান্তিবাড়ি ইকো রিসোর্টে

প্রকৃতিকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে, মানে কাগজে-কলমে ভাবনার শুরু সত্তরের দশকে। সুইডেনের স্টকহোমে প্রথমবারের মতো মানুষ ও প্রকৃতিবিষয়ক একটি সম্মেলন করেছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। সময়কাল ১৯৭২ সালের ৫-১৬ জুন। সেই আয়োজনে ৫ জুনকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ঘোষণা করা হয়। প্রথম উদ্‌যাপিত হয় ১৯৭৪ সালে। দিনটি উদ্‌যাপনে এ বছর জুন মাসকে পরিবেশের জন্য উৎসর্গ করেছে শান্তিবাড়ি ইকো রিসোর্ট। ২৬ ও ২৭ জুন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার রাধানগরে অবস্থিত এই রিসোর্টে দুই দিনব্যাপী আয়োজিত হয়েছে ‘জুন ফর গ্রিন’ কর্মসূচি।
শান্তিবাড়ির স্বত্বাধিকারী তানভীরুল আরেফিন লিংকনের আমন্ত্রণে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন দেশের নানা প্রান্তের অতিথিরা। উদ্বোধনী আয়োজনে ফলদ, বনজ, ওষুধি ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ফুলের চারা রোপণ করেন তারা। এরপর ‘পরিবেশের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার’ শীর্ষক একটি সিগনেচার বোর্ডে স্বাক্ষর করেন সবাই। তাতে লেখা ছিল প্রকৃতি রক্ষায় বেশ কিছু করণীয়; যেমন লিভ নো ট্রেস, সেভ এভরি ড্রপ, পাওয়ার ডাউন এবং সে নো টু প্লাস্টিক।
রিসোর্টের রেস্তোরাঁর ডেকে বসেছিল গোলটেবিল বৈঠক। লেখক ও গবেষক আল মারুফ রাসেলের সঞ্চালনায় পরিবেশ-প্রকৃতি এবং শ্রীমঙ্গলের পর্যটনশিল্পের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন অতিথিরা, যাতে পরিবেশ রক্ষায় মানুষের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো উঠে আসে। এতে বলা হয়, বৃক্ষরোপণের চেয়ে বেশি প্রয়োজন বৃক্ষ টিকিয়ে রাখা। আলোচনায় অংশ নেন দেশের স্বনামধন্য পরিব্রাজক, উদ্ভিদবিদ, অভিযাত্রী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, সাংবাদিক, স্থপতি, আলোকচিত্রীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।
বৈঠক শেষে মণিপুরী সম্প্রদায়ের রান্না ও নাচ-গান উপভোগ করেন অতিথিরা। সন্ধ্যায় বসে গল্পের আসর। সেখানে আকাশ পর্যবেক্ষণ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে কথা বলেন বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মশহুরুল আমিন। একপর্যায়ে সৌরজগতের সূর্য, গ্রহ ও নক্ষত্রের সঙ্গে অতিথিদের পরিচয় করিয়ে দেয় দুই খুদে শিক্ষার্থী সুশ্রুত ঐকতান ও নিভৃত নিরূপণ। অতিথিরা এরপর টেলিস্কোপের সাহায্যে আকাশের চাঁদ-তারা পর্যবেক্ষণ করেন। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় বাউলগানের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে আসরের।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম প্রহরে শান্তিবাড়ির দল রওনা হয় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পথে। জঙ্গলের ভেতরে ঘণ্টাখানেক হেঁটে পাহাড়ি পথ পেরিয়ে খাসিয়াপুঞ্জি। সেখানে খাসিয়াদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে সকালের নাশতা করেন অতিথিরা। এ সময় উদ্যানের ভেতর বিভিন্ন বিরল গাছের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম খান। সেখান থেকে মাধবপুর টি-এস্টেট ঘুরে শেষ হয় ব্যতিক্রমী এই আয়োজন। আবৃতি আহমেদ
ছবি: আয়োজকদের সৌজন্যে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top