সাপ্লিমেন্ট I প্রোবায়োটিক প্রয়োজনীয়তা
অন্ত্রের সুস্বাস্থ্য নিয়ে মানুষ এখন বেশ আগ্রহী। বেড়েছে প্রোবায়োটিকের জনপ্রিয়তা
আধুনিক জীবনে নানা শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি বেড়ে চলছে গাট হেলথের সমস্যা। এটি নিরূপণেই বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, আমাদের অন্ত্রে বসবাসকারী কোটি কোটি উপকারী অণুজীব শুধু খাবার হজমেই নয়; বরং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা, মেটাবলিজম এবং কিছু ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত। এই উপকারী অণুজীবগুলোকে পাওয়া যায় প্রোবায়োটিক হিসেবে। বিশ্বজুড়ে ওয়েলনেস সাপ্লিমেন্ট হিসেবে এর অবস্থান শীর্ষে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি দেশের বড় বড় ফার্মেসি, সুপার শপসহ প্রায় সবখানেই প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল, স্যাশে, ড্রপসহ বিভিন্ন ধরনের দইয়ের প্রচার চোখে পড়ে।
সব ধরনের রোগে বা সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের উপকার পাওয়া যায় না। এ ছাড়া সব রোগের সমাধান হিসেবে প্রোবায়োটিক গ্রহণেরও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে নিয়মিত প্রোবায়োটিক হিসেবে ন্যাচারাল টক দই গ্রহণই যথেষ্ট। মনে রাখা চাই, সুষম খাদ্য গ্রহণ মানে পরিমিত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও মিনারেলসের সমারোহ। এই সুষম খাদ্যতালিকা তৈরিতে দুধ বা দুধজাতীয় খাদ্য রাখা জরুরি। যার ভেতরে দই রাখা যেতে পারে দুধের বিকল্প হিসেবে। এতে ব্যালেন্স ডায়েটের পাশাপাশি প্রোবায়োটিকও পাওয়া সম্ভব।
অ্যান্টিবায়োটিক-সম্পর্কিত ডায়রিয়ার ঝুঁকি এবং কিছু সংক্রামক ডায়রিয়ার সময়কাল কমাতে প্রোবায়োটিক সহায়ক। কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের কিছু উপসর্গ; যেমন পেটব্যথা বা পেট ফাঁপা কমাতে পারে। এ ছাড়া অন্ত্রের উপকারী অণুজীবের ভারসাম্য বজায় রাখে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্নভাবে প্রোবায়োটিক পাওয়া যায়। যেমন লাইভ কালচারযুক্ত টক দই, ফর্টিফায়েড দই ও ফারমেন্টেড দুগ্ধজাত পণ্য, ফার্মেসিতে পাওয়া প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল, স্যাশে ও ড্রপ, শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্ট।
তবে শুধু প্রোবায়োটিক লেখা থাকলেই কোনো পণ্য ভালো, এমনটি নয়। এর কার্যকারিতা নির্ভর করে স্ট্রেইনের ওপর। প্রতিটি স্ট্রেইনের কাজ ভিন্ন। তাই পণ্যের লেবেলে জেনাস, স্পেসিস এবং নির্দিষ্ট স্ট্রেইনের নাম উল্লেখ থাকা চাই। যেমন শুধু ল্যাকটোব্যাসিলাস লেখাসংবলিত অথচ নির্দিষ্ট স্ট্রেইনের নাম উল্লেখ না থাকা পণ্যের কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া কঠিন। এ ছাড়া লেবেলে সিএফইউ উল্লেখ থাকা গুরুত্বপূর্ণ; যা নির্দেশ করে, পণ্যটিতে কতসংখ্যক জীবন্ত ও সক্রিয় অণুজীব রয়েছে।
সুস্থ মানুষের জন্য অধিকাংশ প্রোবায়োটিক নিরাপদ বিবেচিত হলেও কারও কারও ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। শুধু বিজ্ঞাপন দেখে বা অন্যের পরামর্শে দীর্ঘদিন গ্রহণ করা ঠিক নয়। এ ছাড়া বাজারের সব পণ্যের গুণগত মান সমান না হওয়ায় বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের পণ্য বেছে নেওয়া মঙ্গল। মনে রাখা চাই, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি গ্রহণ আমাদের অন্ত্র সুস্থ রাখে। গুরুতর অসুস্থ এবং আইসিইউতে ভর্তি রোগীর পাশাপাশি যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা খুব কম, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রোবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত নয়।
নিশাত শারমিন নিশি
প্রধান পুষ্টিবিদ ও বিভাগীয় প্রধান, পিএমসিএইচ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক, এএনডিএসএস
ছবি: ইন্টারনেট
