হেঁশেলসূত্র I পঞ্চফুলের রন্ধনশৈলী
এই বর্ষায় প্রকৃতির মতন থালাও সেজে উঠুক ফুলের ছোঁয়ায়। বাংলাদেশের পাঁচটি ভোজ্য ফুলের দৃষ্টিনন্দন ও অতুলনীয় স্বাদের রেসিপি দিয়েছেন নাজিয়া ফারহানা
ছবি: হুমায়রা আরমিন পৃথী
তিল, বাদাম ও কুমড়া ফুলের বড়া
উপকরণ: কুমড়া ফুল ১২টি, বেসন ১ কাপ, চালের গুঁড়া ২ টেবিল চামচ, কর্নফ্লাওয়ার ১ টেবিল চামচ, সাদা তিল ৩ টেবিল চামচ, ভাজা চিনাবাদাম (মোটা গুঁড়া) আধা কাপ, আদাবাটা ১ চা-চামচ, রসুনবাটা ১ চা-চামচ, কাঁচা মরিচের কুচি ২টি, হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ, মরিচগুঁড়া আধা চা-চামচ, ভাজা জিরাগুঁড়া আধা চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, বেকিং পাউডার এক চিমটি (ঐচ্ছিক), ঠান্ডা পানি প্রয়োজনমতো, সরিষার তেল বা সয়াবিন তেল (ভাজার জন্য) প্রয়োজনমতো।
প্রণালি: কুমড়া ফুলের ভেতরের পরাগ অংশ ফেলে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। একটি পাত্রে বেসন, চালের গুঁড়া, কর্নফ্লাওয়ার, তিল, চিনাবাদাম, আদা-রসুনবাটা, হলুদ, মরিচগুঁড়া, জিরাগুঁড়া, কাঁচা মরিচ, লবণ এবং প্রয়োজনমতো পানি দিয়ে মাঝারি ঘন ব্যাটার তৈরি করুন। ফুলগুলো ব্যাটারে ডুবিয়ে গরম তেলে মাঝারি আঁচে সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভেজে তুলুন। সস কিংবা চাটনির সঙ্গে গরম-গরম উপভোগ করুন।
শাপলা ফুল-নারকেল গ্যানাশ ট্রাফল
উপকরণ: হোয়াইট চকলেট ২০০ গ্রাম, ফ্রেশ ক্রিম ৮০ মিলি, নারকেলকুচি ৩০ গ্রাম, শাপলা ফুলের নির্যাস ১ চা-চামচ (ঐচ্ছিক), সাদা চকলেট (কোটিংয়ের জন্য) প্রয়োজনমতো।
প্রণালি: গরম ফ্রেশ ক্রিমের সঙ্গে হোয়াইট চকলেট মিশিয়ে মসৃণ গ্যানাশ তৈরি করুন। এতে নারকেলকুচি ও শাপলা ফুলের নির্যাস মিশিয়ে ঠান্ডা করা চাই। এরপর ছোট ছোট বল তৈরি করে আবার ঠান্ডা করুন। শেষে গলানো সাদা চকলেটে কোট করে সেট হতে দিন ফ্রিজে। ব্যস, হয়ে গেল শাপলা ফুলের মজাদার নারকেল গ্যানাশ ট্রাফল।
লোটাস স্টেম অ্যান্ড ব্লসম গ্যালেট
উপকরণ (ডো-এর জন্য): ময়দা ২ কাপ, ঠান্ডা বাটার ১০০ গ্রাম, লবণ আধা চা-চামচ, ঠান্ডা পানি ৪-৫ টেবিল চামচ।
উপকরণ (ফিলিংয়ের জন্য): পদ্মের ডাঁটা (পাতলা স্লাইস) ১ কাপ, পদ্মফুলের পাপড়ি আধা কাপ, রিকোটা বা ক্রিম চিজ আধা কাপ, অলিভ অয়েল ১ টেবিল চামচ, রসুনকুচি ১ চা-চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া আধা চা-চামচ, লবণ স্বাদমতো, থাইম বা অরিগানো আধা চা-চামচ।
প্রণালি: ময়দা, বাটার ও লবণ একসঙ্গে মিশিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে ডো তৈরি করুন। ৩০ মিনিট ফ্রিজে রেখে দিন। অলিভ অয়েলে রসুন হালকা ভেজে পদ্মের ডাঁটা ৩-৪ মিনিট সঁতে করে নিন। এরপর ডো বেলে মাঝখানে ক্রিম চিজ ছড়িয়ে দিন। তার ওপর পদ্মের ডাঁটা ও পদ্মফুলের পাপড়ি সাজিয়ে চারপাশের অংশ ভাঁজ করে, ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৩৫-৪০ মিনিট বেক করুন। পরিবেশনের আগে সামান্য অলিভ অয়েল ব্রাশ করে নিন।
ফুলেল রত্নরোল
উপকরণ (পুরের জন্য): কলার মোচা (সেদ্ধ ও কুচি করা) ১ কাপ, ঘন দুধ আধা কাপ, ক্ষীর বা খোয়া ১০০ গ্রাম, চিনি ৩ টেবিল চামচ, এলাচিগুঁড়া আধা চা-চামচ, গোলাপজল ১ চা-চামচ, শুকনা গোলাপ পাপড়ির গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, পেস্তা ও কাজুবাদামকুচি ২ টেবিল চামচ।
উপকরণ (বাইরের আবরণের জন্য): ক্ষীর বা ছানা ২০০ গ্রাম, কর্নফ্লাওয়ার ১ টেবিল চামচ, কমলা ও হলুদ ফুড কালার (ঐচ্ছিক) পরিমাণমতো, গোলাপ পাপড়ির জ্যাম ২ টেবিল চামচ।
উপকরণ (কোটিংয়ের জন্য): নারকেল কোরানো, পেস্তাগুঁড়া, ভোজ্য গোলাপ পাপড়ি এবং গোল্ড ডাস্ট (ঐচ্ছিক) প্রয়োজনমতো।
প্রণালি: প্রথমে সেদ্ধ কলার মোচার পানি ভালোভাবে ঝরিয়ে নিন। প্যানে মোচা, চিনি, ক্ষীর ও এলাচিগুঁড়া দিয়ে নেড়ে শুকিয়ে এলে গোলাপজল, গোলাপ পাপড়ির গুঁড়া ও বাদামকুচি মিশিয়ে ঠান্ডা করুন। অন্যদিকে ছানা বা ক্ষীর মসৃণ করে মেখে কর্নফ্লাওয়ার মিশিয়ে নিন। চাইলে দুই ভাগ করে হালকা রং ব্যবহার করতে পারেন। এরপর ছানার স্তর পাতলা করে বিছিয়ে মাঝখানে মোচার পুর দিয়ে রোল করা চাই। ৩০ মিনিট ফ্রিজে রেখে সেট করে ২-৩ সেন্টিমিটার আকারে টুকরা করুন। শেষে নারকেল কোরানো বা পেস্তাগুঁড়ায় গড়িয়ে ভোজ্য গোলাপ পাপড়ি ও সামান্য গোল্ড ডাস্ট ছিটিয়ে সাজিয়ে নিন।
কচুর ফুলের ভর্তা
উপকরণ: কচুর ফুল ৫০০ গ্রাম, পেঁয়াজকুচি আধা কাপ, রসুন ৮-১০ কোয়া, শুকনা মরিচ ৬-৮টি, কাঁচা মরিচ ৪-৫টি, সরিষার তেল ৩-৪ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো, ধনেপাতাকুচি ২ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক)।
প্রণালি: কচুর ফুলের শক্ত বাইরের খোসা ও পরাগ অংশ ফেলে ছোট টুকরা করে ধুয়ে নিন। লবণ দেওয়া পানিতে ১২-১৫ মিনিট সেদ্ধ করুন। এরপর পানি ঝরিয়ে নিন। এবার অতিরিক্ত পানি চিপে বের করা চাই। শুকনা মরিচ ও রসুন হালকা ভেজে বা আগুনে পুড়িয়ে নিন। এরপর সেদ্ধ কচুর ফুল, পেঁয়াজ, রসুন, শুকনা মরিচ, কাঁচা মরিচ ও লবণ একসঙ্গে শিলপাটায় অথবা ফুড প্রসেসরে মিহি করে ভর্তা করুন। শেষে সরিষার তেল ও ধনেপাতা মিশিয়ে গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করতে পারেন।
