skip to Main Content

ইভেন্ট I বি-বিউটি টেক এক্সপো

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত বিউটি টেক এক্সপোর আয়োজন ছিল জমজমাট। দেশের পাশাপাশি বিদেশি বেশ কিছু লেবেলও দেখা গেছে সেখানে। সৌন্দর্য পসরা জমেছিল বেশ। তিন দিন চলে এই ইভেন্ট। ১৬ জুলাই দুপুরে ওয়েম বাংলাদেশ লিমিটেড আয়োজিত এই এক্সপো উদ্বোধন করেন এফবিসিসিআই মহাসচিব মো. আলমগীর হোসেন। এক্সপোতে দেশি-বিদেশি ৫৫টি স্টলে ৩০০টির বেশি ব্র্যান্ড এবং ১৬০টির বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। মেলায় মূলত ৮টি প্রধান ক্যাটাগরিতে প্রসাধন ও রূপচর্চার পণ্য প্রদর্শিত হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে টয়লেট্রিজ, সুগন্ধি, স্কিন কেয়ার, হেয়ার কেয়ার, অ্যাসথেটিক লন, হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িং, ন্যাচারাল অ্যান্ড অর্গানিক প্রোডাক্টস এবং পুরুষদের প্রসাধনসামগ্রী।
পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি মেলায় উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ও প্যাকেজিংয়ের আধুনিক উদ্ভাবন তুলে ধরা হয়েছে। দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক পেশাদার রূপবিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের পদচারণে মুখর ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। বিশ্বব্যাপী সৌন্দর্যের যে নতুন বিপ্লব ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসছে, তার সঙ্গে দেশীয় বাজারের সংযোগ ঘটাতেই এই প্রদর্শনীর আয়োজন। তাৎক্ষণিক পণ্য বিক্রি বা কোনো বড় কার্যাদেশ পাওয়া নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সুগন্ধির বাজারে নতুন বিজনেস পার্টনার এবং যৌথ ব্যবসায়িক উদ্যোগ গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য বলে জানান দুবাইভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী পারফিউম প্রস্তুত ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান শেখ মোহাম্মদ সাইদ গ্রুপের মার্কেটিং ম্যানেজার শঙ্করেশ ব্যানার্জী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের পারফিউম আগে থেকে পাওয়া যায়। সেই অবস্থান থেকে এবারের এক্সপোতে অংশ নিয়েছি। এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের বাজারে যারা পারফিউম মার্কেটিং করছে, তাদের পণ্যের নিরিখে আমাদের পণ্যের পারফরম্যান্স কেমন, তা যাচাই করা এবং ক্রেতাদের সঙ্গে আরও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা।’
বিক্রয়ের নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য অর্জনের চেয়ে তাদের প্রধান মনোযোগ পণ্যের গুণগত মানে; জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ কোয়ালিটি বা গুণগত মানকে ভীষণ পছন্দ ও মূল্যায়ন করে। তাই বাজারে বেশ কিছু নতুন সুগন্ধি লঞ্চ করেছি। আমরা চাই, এ দেশের মানুষ এই নতুন সুগন্ধিগুলো ব্যবহার করে দেখুন এবং তাদের মতামত আমাদের কাছে তুলে ধরুন। এর ফলে বাংলাদেশের বাজারে যেমন নতুন ও বৈচিত্র্যময় সুগন্ধি আসবে, তেমনি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিও নিশ্চিত হবে।’
বাড়তি খরচ করে বিদেশের পারফিউম যাচাই করার বদলে বরং সেই অভিজ্ঞতা দেশেই হচ্ছে—জানালেন ঢাকার বাজারে পারফিউম বাজারজাতকারী আমিরুল ইসলাম। তিনি জানান, এক ছাদের নিচে বিভিন্ন দেশের বিখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর পারফিউম মিলেছে এই আয়োজনে। এর মাধ্যমে পণ্যের মানের পাশাপাশি দামের বিষয়ে জানা গেছে।
আয়োজকেরা জানান, চলতি বছরের মধ্যে বাংলাদেশের বিউটি ও পারসোনাল কেয়ার মার্কেট সব প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যাবে। যেগুলোর মধ্যে শুধু পারসোনাল কেয়ার খাতেই প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে প্রায় অর্ধেক। বর্তমানে দেশে এই খাতে মাথাপিছু খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ৫৬ ডলারে। গত ৫ বছরে এই শিল্পে বার্ষিক ৮ দশমিক ১ শতাংশ হারে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। পাশাপাশি ই-কমার্সের কল্যাণে সৌন্দর্যপণ্যের মোট বিক্রির প্রায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশই এখন অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে।
 বিউটি ডেস্ক
ছবি: আয়োজকদের সৌজন্যে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top