ট্রেন্ডি টেকনিক I যেন জলরঙে আঁকা
রঙিন চোখের দেখা মিলছে ফ্যাশন রানওয়েতে। ডিওর, শ্যানেল, ভারসাচি আর ভ্যালেন্তিনোর শোতে। মেকআপ ট্রেন্ডের নাম অ্যাকুয়া অ্যাসথেটিক
চোখসাজে ছাড় দিতে নারাজ ফ্যাশনিস্তারা। আজও, অতীতেও। প্রাচীন মিসরের রানি ক্লিওপেট্রার রূপসজ্জার প্রশ্নে প্রথমেই আসে তার গাঢ় নীল রঙে রাঙানো চোখের কথা। আবার খুব বেশি দূরে না গিয়ে ফিরে দেখা যেতে পারে বিশ শতকে। দেশ-বিদেশের সাদা-কালো সিনেমাতেও বোঝা যেত অভিনেত্রীদের চোখের আলো-ছায়াময় সাজ। ষাটের দশকে মেকআপ আর্টিস্টরা প্রচলিত নিউট্রাল শেডের পরিবর্তে ব্যবহার শুরু করেছিলেন প্যাস্টেল নীল, গোলাপি, বেগুনি আর সবুজের বিভিন্ন শেড। সে সময় ফ্যাশন এডিটরিয়াল এবং আভাঁ-গার্দ মেকআপে চোখের সাজে ভিন্ন রঙের সংমিশ্রণকে সম্পূর্ণ আলাদা ও সাহসী সাজ ভাবতে শুরু করেন নারীরা। চিত্রকলার কৌশলে রঙের সঙ্গে রং মিশিয়ে চোখ সাজান তারা। সাজের সেই রঙিন জগৎ সময়ের সঙ্গে রং হারিয়ে মিনিমালিস্ট হয়ে উঠলেও পিছু হটার নন ফ্যাশন ম্যাক্সিমালিস্টরাও। তারই প্রমাণ অ্যাকুয়া অ্যাসথেটিক।
কৌশল বিশ্লেষণ
ট্রেন্ডে থাকা এই কৌশল শিখে নেওয়া সম্ভব খুব সহজে।
চোখের পাতায় কনসিলার ও পাউডার ব্লেন্ড করে একটি বেজ তৈরি করুন। এবার আইশ্যাডো প্যালেট থেকে এমন কয়েকটি রং বেছে নিতে পারেন, যেগুলো পরস্পর মানানসই।
বেছে নেওয়া আইশ্যাডোর শেডগুলোর সঙ্গে সামান্য পানি ব্রাশ দিয়ে মিশিয়ে ছবি আঁকার মতো করে চোখের পাতায় ভালোভাবে ব্লেন্ড করা চাই।
রং বেশি ছড়িয়ে গেলে, ভুল মুছে ফেলতে এবং ব্রাশে পানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করতে পারেন টিস্যু বা পেপার টাওয়েল।
নাটকীয় হলেও ভীষণ কোমল ও শৈল্পিক দেখায় এ ধরনের চোখসাজ। মনের মাধুরী মিশিয়ে ছবি আঁকার এবং কয়েকটি রঙের সমন্বয়ে হালকা-আমুদে আবহ তৈরি করার মতো। হতে পারে থিম বা আবহভিত্তিক। পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, নীলের ভিন্ন ভিন্ন শেড ব্যবহার করে কিংবা গোলাপি-বেগুনি মিলিয়ে। রংধনুর মতো বিভিন্ন রং মিলিয়েও হতে পারে এ সাজ। চোখের পাতায় ও নিচে অস্পষ্ট রঙের পরিবর্তে তৈরি করা সম্ভব স্বচ্ছ স্তর। সাধারণত কোনো দৃশ্যমান গ্রাফিক লাইন আঁকা হয় না এমন সাজে। দেখায় ছড়ানো কোমল জলরঙের মতো। একটি অন্যটির সঙ্গে মিলে যায় ভালোভাবে। হালকা ও স্বচ্ছ দেখায় ফিনিশ।
বিউটি ডেস্ক
মডেল: আশা
মেকওভার: পারসোনা
ছবি: জিয়া উদ্দীন
