skip to Main Content

ত্বকতত্ত্ব I বিউটি ব্যালেন্স

অ্যান্টি-এজিং এখন পুরোনো পুরাণ। বরং গুরুত্ব পায় বয়স উদ্‌যাপন। সুস্থতার সঙ্গে যাপন করা হচ্ছে প্রতিটি পরিবর্তন। তাৎপর্য তাই শিকড়ে। যেখানে মেলে প্রাণশক্তির খোঁজ

শুরুটা স্কুলের সেই সাধারণ বিজ্ঞান বই থেকে করা যাক। মাইটোকন্ড্রিয়া মূলত কোষের পাওয়ারহাউস। পুরো শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্কিন কেয়ারের ক্ষেত্রেও অগ্রগণ্য, যা সর্বজনস্বীকৃত। রাসায়নিক অণু এটিপি উৎপাদন করে শরীরকে দেয় জৈব আর তাপশক্তি। বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে পাওয়া যায় পানি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড। এই শক্তি থেকে আসে কোলাজেন তৈরির রসদ; কোকের পুনরুৎপাদন। ত্বককে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি এবং পরিবেশের ক্ষতিকর উপাদান থেকে নিরাপদ রাখার দায়িত্বও নেয় কাঁধে।
এ নিয়ে গবেষণা হয়েছে একাধিক। বিজ্ঞানীদের মতে, মাইটোকন্ড্রিয়াল ফাংশন উন্নত হলে স্কিন স্ট্রাকচার, হাইড্রেশন ও ইলাস্টিসিটি ভালো থাকে। এ বিষয়ে একটি উক্তি পাওয়া যায় অন্তর্জালে। অ্যাসথেটিক মেডিসিন এবং সার্জারি বিশেষজ্ঞ ইওগেনিয়া বনেলি বলেন, এটি ত্বকের সেই অবস্থা, যেটি নিজেই নিজেকে সারিয়ে তুলতে পারে। এই মাইটোকন্ড্রিয়া যখন কর্ম সম্পাদনে নিরুৎসাহিত হয় কিংবা বাধা পায়, তখন ত্বকে বয়সের ছাপ, মলিনতা উঁকি দেয়, স্থিতিস্থাপকতাও নষ্ট হয়। এই পরিবর্তন রাতারাতি ঘটে না। নাটকীয়তা নেই সেখানে। খুব ধীরে বদলায়। কোষ তখন কম শক্তি উৎপাদন করে। কোলাজেন সিনথেসিস কমিয়ে আনে। একই সঙ্গে কোষের পুনরুজ্জীবন বাধাগ্রস্ত হয়। স্কিন ম্যাট্রিকসের ব্রেকডাউন স্পষ্ট হয় খুব ধীরে। যেখানে মলিনতার সঙ্গে তৈরি হয় বলিরেখাও। একসময় ত্বক নিজেকে সুস্থ করে তোলার মন্ত্র ভুলে যায় যেন। কিন্তু এই সমস্যা ঠিক কী কারণে ঘটে, তা-ও কম জটিল নয়। সরল নামের কঠিন অঙ্কের মতোই বলা চলে! সেখানে সমাধান এক লাইনে নয়, মেলে ধাপে ধাপে।
প্রথমে এ ক্ষেত্রে আসে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কথা; যা মাইটোকন্ড্রিয়াকে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম। বহু বাহ্যিক কারণ এর সঙ্গে যুক্ত। এই তালিকা থেকে উল্লেখ করা যায় সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি, দূষণ এবং মেটাবলিক প্রসেসের কথা। এতে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস আরও বেশি উৎপাদিত হয়। সেখান থেকে ইনফ্লামেশন তৈরিসহ আনইভেন টেক্সচার বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কোমল ও সুন্দর ত্বক হারাতে পারে ভালো থাকার শক্তি। রোসাসিয়া, পিগমেন্টেশন, প্রি-ম্যাচিউর এজিংয়ের মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে ত্বকে।
ভিটামিন সি, ভিটামিন ই এবং পলিফেনলস মাইটোকন্ড্রিয়াল ড্যামেজকে সারিয়ে তুলতে কাজ করে। পুনরায় কাজে উৎসাহী হয় এই বিপুল শক্তির আধার। এতে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমে আসে। সেলুলার এনার্জি প্রোডাকশন বাড়ে। সরাসরি মাইটোকন্ড্রিয়াকে বুস্ট করার মতো কিছু ঘটে না। ভোজবাজির মতো আমূল বদলে দেয় না; বরং ধীরে ধীরে উজ্জীবিত করে তোলে। যার প্রভাব পড়ে ত্বকের গভীরে। যেন এক দীর্ঘ ক্লান্তিকর যাত্রা শেষে পানির দেখা পেল বেদুইন! তেমনি ত্বক আবারও সতেজ হতে শুরু করে।
এই নতুনে মন্ত্রমুগ্ধ করে যেসব উপাদান, সেসবের তালিকা করা হলে প্রথমে জায়গা করে নেয় কো এনজাইম কিউ টেন; যা মাইটোকন্ড্রিয়ার এনার্জি চেইনকে ঠিক রাখতে সহায়ক। অক্সিডেটিভ ড্যামেজ কমিয়ে আনে। নিয়াসিনামাইডও রাখে সক্রিয় ভূমিকা, যা পাওয়া যায় ভিটামিন বি৩-এ। এনএডি প্লাস লেভেল ঠিক রাখায় সেলুলার রিপেয়ার সহজ হয়। রেসভেরাট্রল উপাদান মাইটোকন্ড্রিয়াল রিনিউয়ালে যেভাবে ভূমিকা রাখে, তেমনি দীর্ঘ সময় যেন কাজ করতে পারে, তা নিয়েও চেষ্টা থাকে। আর এই মাইটোকন্ড্রিয়ার এনার্জি মেটাবলিজমকে সহায়তা করে এল কারনিটাইন। ভোগ ম্যাগাজিনের আরব সংস্করণে ড. বনেলি বলেছেন, আলাদা কোনো উপাদান মাইটোকন্ড্রিয়াল ফাংশনের পুরো দায়িত্ব নিতে পারে না। সেখানে প্রয়োজন সিস্টেমেটিক সাপোর্ট।
প্রশ্ন জাগতে পারে, এসবে কি আদতে সুন্দর হয় ত্বক, লাবণ্য বাড়ে, নাকি সাময়িক ত্বকযত্নেই সারাই সম্ভব। উত্তরে জানাতে হচ্ছে, টপিক্যাল স্কিন কেয়ারের লিমিট থাকে। স্কিনের সুপারফিশিয়াল লেয়ারস সেখানকার সেলুলার ফাংশনকে সাপোর্ট করে। কিন্তু বেশির ভাগ ভেতরের অংশে যেতে না পারায় মাইটোকন্ড্রিয়াকে সমর্থন জোগানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই কোলাজেন উৎপাদনও গতি পায় না। ঠিকঠাক কাজের জন্য প্রয়োজন পড়ে পুষ্টি, ঘুম, হরমোন ব্যালেন্স এবং মেটাবলিক হেলথ। সবকিছু ছন্দে থাকলেই মাইটোকন্ড্রিয়া দেখাতে পারে ম্যাজিক।

 সারাহ্ দীনা
মডেল: ভিক্টোরিয়া
মেকওভার: পারসোনা
ছবি: জিয়া উদ্দীন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top