skip to Main Content

গিক পাঠ I দ্য ইনভাইট দুর্দান্ত ড্রামা! -শাকিব চৌধুরী

আমার আশপাশের লোকজন দ্য ইনভাইট নিয়ে বেশ উদ্দীপিত ছিল। সেথ রোগেন অভিনীত একটি ড্রামা ছবি নিয়ে সম্প্রতি এত আগ্রহ দেখিনি। বুঝলাম, ছবিতে অলিভিয়া ওয়াইল্ড, এডওয়ার্ড নর্টন আর পেনেলোপে ক্রুজ আছেন। তো কী হয়েছে? এত হইচই কিসের?
সবার আগ্রহ দেখে আমিও দ্য ইনভাইট দেখলাম। তারপর বুঝলাম, সবাই কেন এত উৎসাহিত। ছবিটা এককথায় অসাধারণ।
প্রথম পাঁচ মিনিট বাদ দিলে পুরো ছবির ঘটনা ঘটে একটি ফ্ল্যাটের ভেতর। অলিভিয়া ওয়াইল্ড ও সেথ রোগেন বিবাহিত দম্পতি। সারা দিনের কর্মব্যস্ততা শেষে স্বামী বাসায় ফিরে দেখে, স্ত্রী ওপরতলার এক দম্পতিকে দাওয়াত দিয়েছে। সেথ ভীষণ ক্লান্ত, পিঠেও ব্যথা। এই অবস্থায় অপরিচিত কিছু মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর বিন্দুমাত্র ইচ্ছা তার নেই। কিন্তু স্ত্রী অনড়—দাওয়াত যখন দেওয়া হয়েছে, তখন সেটা হবেই। এই ঝগড়ার মাঝেই হাজির হয় ওপরতলার সেই আমন্ত্রিত দম্পতি। আর ঠিক এখান থেকে শুরু হয় অদ্ভুত সুন্দর এবং পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত এক ড্রামা।
শুধু স্ক্রিপ্ট আর পারফরম্যান্স—এই দুটি দিয়েই ম্যাজিক ঘটিয়েছেন নির্মাতা অলিভিয়া ওয়াইল্ড। তিনি যে একজন তুখোড় পরিচালক, তা জানতাম। কিন্তু তার গল্প বলার দক্ষতা যে এত উঁচু মানের, সেটা জানা ছিল না। চার অভিনয়শিল্পীর কেমিস্ট্রি অসাধারণ। প্রায় দুই ঘণ্টা আপনি বুঁদ হয়ে অপেক্ষা করবেন, এরা এখন কী করে, কী বলে। আমি জাস্ট উড়ে গেছি!
পরে একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় জানতে পারলাম। এই ছবির গল্পের জন্ম আসলে থিয়েটারে। স্প্যানিশ ফিল্মমেকার ও প্লেরাইট কেস্ক গের লেখা নাটক লস ভেসিনোস দে আরিবা (দ্য পিপল আপস্টেয়ারস) থেকে ছবিটি এসেছে। ব্যাপারটা জানার পর আরও পরিষ্কার হলো, কেন পুরো ঘটনা একটা বাসার ভেতর।
অলিভিয়া ওয়াইল্ড জানিয়েছেন, তিনি তার ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফির সঙ্গে অনেক অঙ্ক কষেছেন—কীভাবে এটাকে শুধু একটি থিয়েটার নাটকের সিনেমায়িত সংস্করণ না বানিয়ে সত্যিকারের সিনেমা বানানো যায়। অন্য অনেক নাটকের চলচ্চিত্রায়ণে লোকেশন বদলে, গল্পের পরিসর বাড়িয়ে খুব সহজে মঞ্চ থেকে সিনেমার একটা দূরত্ব তৈরি করা যায়। কিন্তু দ্য ইনভাইটের পুরো গল্পটাই একটা বাসার ভেতর। ফলে এখানে সেই সুযোগ নেই। চ্যালেঞ্জটা তাই আরও বড়।
আমার মনে হয়েছে, এই চ্যালেঞ্জ তারা অত্যন্ত সাবলীলভাবে মোকাবিলা করেছেন। ক্রিয়েটিভ সেট ডিজাইন, অত্যন্ত ফ্লুইড ও ডাইনামিক ক্যামেরা অপারেশন এবং স্মার্ট এডিটিংয়ের কারণে গল্পের গতি কখনোই স্থবির হয়নি। আর সঙ্গে আছে ধারালো সংলাপ। ওই যে বললাম, এককথায় অসাধারণ।
অল্প বাজেটে বানানো ছবিটি সিনেমা হলে খুব বেশি আয় না করলেও লাভজনক ব্যবসা করেছে। এ ধরনের ছবি আমাদের নির্মাতাদের দেখা এবং বানানোর চেষ্টা করা উচিত। দেশেও এমন দক্ষ অভিনয়শিল্পী আছেন। দরকার শুধু একটি শক্তিশালী স্ক্রিপ্ট এবং নির্মাতার অঙ্ক কষার প্রতি আগ্রহ।
বাংলাদেশের নির্মাতারা সম্প্রতি ভালো সিনেমা বানানো শুরু করেছেন। এখন দরকার গ্রেটার অ্যাটেনশন টু ডিটেইল। একটা দৃশ্য কীভাবে আরও ভালো করা যায়, একটা লোকেশনকে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, ক্যামেরা কোথায় রাখলে গল্পটা আরও ভালো বলা যায়—এই অঙ্কগুলো কষার আগ্রহ।
অদ্ভুত সুন্দর একটা ড্রামা দেখতে চাইলে এই মুহূর্তে দ্য ইনভাইটের চেয়ে বেটার কিছু নেই বলে ধারণা।

লেখক: ফিল্ম এনথুজিয়াস্ট ও প্রডিউসার
ছবি: ইন্টারনেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top