অন্দরমহল I আশ্বিন অন্বেষণ
জানালার ওপাশে সাদা মেঘ, অথচ ঘরের ভেতর জমে থাকা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ আর ভারী আবহ যেন ঋতুবদল উপভোগের একটু বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই গুমোটভাব কাটিয়ে সতেজ আবহ তৈরি করতে পারে মোমের ছোট্ট শিখা আর তার সঙ্গে মিশে থাকা প্রিয় কোনো সুবাস
ভাদ্র ফুরাতে বাকি নেই বেশি দিন। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া পাশ কাটিয়ে ঘরে ঢুকবে আশ্বিনা বাতাস। এমন সময়ে বাড়ির অন্দরে জমে বাষ্প, কিছুটা মনেও বৈকি! ঘর ও মনের অন্দরের এই ড্যাম্পনেস উড়িয়ে দিতে জাদুর মতো কাজ করতে পারে প্রাকৃতিক সুগন্ধযুক্ত মোমবাতিগুলো। ল্যাভেন্ডার, বেলি ফুল, লেমন গ্রাস, চন্দন, জুঁই, গোলাপের মতো আলাদা সুবাসযুক্ত ক্যান্ডেলগুলো অন্দরের গুমোট হাওয়াকে শরতের তুলো মেঘে রূপান্তর করতে পারে সহজে। এসব সুগন্ধির কোনোটি মানসিক চাপ কমায় তো কোনোটি মনঃসংযোগ বাড়িয়ে দেয়, কোনোটি আবার ইনস্ট্যান্ট মুড বুস্টে একাই এক শ।
ক্যান্ডেলস বাই সাবিনার স্বত্বাধিকারী সাবিনা সাবি এ বিষয়ে বলেন, অন্দরের সাজসজ্জা ফুটিয়ে তুলতে রূপক ও আক্ষরিক—উভয় অর্থেই প্রাসঙ্গিক হতে পারে ক্যান্ডেল লাইট। আর্দ্র পরিবেশে মোমের আলো যেমন স্নিগ্ধ উষ্ণতা আনতে পারে, তেমনি ঘরের গুমোট গন্ধ দূর করতেও সুগন্ধি মোমবাতিগুলো ভালো চয়েস। দ্বিপ্রহরের নিমন্ত্রণ হোক বা ক্যান্ডেল লাইট ডিনার—অতিথির মেজাজে বাড়তি অ্যাসথেটিক যোগ হয় এতে।
আয়োজন অনুযায়ী নানা ঢঙের মোমবাতির কথাও উঠে এসেছে সাবির কথায়। পিলার ক্যান্ডেল আকারে মোটা হয় এবং এগুলো ঝামেলা ছাড়াই দাঁড় করিয়ে রাখা যায়। অন্যদিকে ট্যাপার ক্যান্ডেল লম্বা ও সরু; ব্যবহৃত হয় মোমদানিতে। আবার ছোট আকারের ডাইনিং টেবিল, ট্রে কিংবা মিনিমাল সাজসজ্জায় ভোটিভ ও টিলাইট ক্যান্ডেলগুলোর জনপ্রিয়তার বাড়বাড়ন্ত। এগুলো সাধারণত ক্যান্ডেল জার বা পাত্রের মধ্যে থাকে।
ফ্লোরাল ক্যান্ডেল, ল্যাভেন্ডার বা ক্যামোমাইল সুবাসের মোমবাতিগুলো রিডিং কর্নারে শান্ত মেজাজ এনে দিতে পারে। লিভিং রুমের কফি টেবিলের পুরো আমেজটাই পাল্টে দেয় সুগন্ধি কনটেইনার ক্যান্ডেল। বেডরুমেও মোলায়েম ঘ্রাণযুক্ত ক্যান্ডেল ব্যবহার করা সম্ভব। তবে ঘুমিয়ে পড়ার আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলা নিরাপদ। স্নানঘরটাও আলোকিত হতে পারে মোমের আলোতে। ছোট কনটেইনার ক্যান্ডেল বা টিলাইট ক্যান্ডেল বাথরুমে স্পার আমেজ এনে দেয়। এ ক্ষেত্রে সিটরাস বা ইউক্যালিপটাসের মতো ভেষজ ঘ্রাণগুলো পছন্দের তালিকায় রাখেন অনেকে।
বর্তমানে ডিআইওয়াই ক্যান্ডেলগুলো বেশ জনপ্রিয়। ঘরেই বানানো যায় বলে এখানে মোমের রং, আকার, ঘ্রাণ—সবকিছু নিজের অন্দরমহলের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া সম্ভব। পুরোনো গ্লাস জার, ছোট সিরামিক কিংবা অব্যবহৃত কনটেইনারকে মোমদানি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। সয়া ওয়াক্সের সঙ্গে পছন্দমতো ঘ্রাণের তেল মিশিয়ে তৈরি করা যায় পছন্দসই সুগন্ধি মোমবাতি। আর যদি আপনি হয়ে থাকেন ঘ্রাণের প্রতি সংবেদনশীল; তাতেও সমস্যা নেই। চাইলে মোম রাখা যায় সম্পূর্ণ ঘ্রাণহীন। মিনিমালিস্ট ঘরের জন্য সাদা বা মাটিরঙা, রাস্টিক ভাব দেওয়ার জন্য অ্যাম্বার গ্লাস জার আর উৎসবের সাজে ড্রাইড ফ্লাওয়ার বা সতেজ মেজাজের ডিজাইন—এভাবেই হাতে বানানো মোমদানিতে ঘরের নিজস্ব স্বাক্ষর থাকতে পারে স্পষ্ট। যা মন ভালো করবে; সুন্দর রাখবে ঘরও।
শ্রেয় চৌধুরী
ছবি: ইন্টারনেট
