দেশ-বিদেশ I সিংহলী সুর
ভারত মহাসাগরের বুকে অশ্রুবিন্দুর মতো ছোট্ট একটি দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। মাত্র ৬৫ হাজার বর্গকিলোমিটারের দেশটির পরতে পরতে মুক্তাদানার মতো লাবণ্য ছড়ানো। এই পর্বে থাকছে উপকূলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অপার্থিব কিছু সৈকত
ইউনেসকো স্বীকৃত একাধিক বিশ্ব ঐতিহ্য, আড়াই হাজার বছরের পুরোনো সভ্যতা আর দিগন্তবিস্তৃত নৈসর্গিক সৌন্দর্য। উপকূলজুড়ে অসংখ্য সৈকত, যার প্রতিটিরই রয়েছে মোহনীয় রূপ। নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া আর নিরাপদ ভ্রমণ কিংবা অবকাশ যাপন—গন্তব্য হিসেবে শ্রীলঙ্কার এসব সৈকত যেন একেকটি ভূস্বর্গ।
বেনতোটা
দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে এই সোনালি বালুকাবেলা। সারি সারি নারকেলগাছ আর ভারত মহাসাগরের শান্ত নীল জলরাশি। জেট স্কিইং, উইন্ডসার্ফিং হাতের নাগালে। কাছেই রয়েছে বেনতোটা নদী—ম্যানগ্রোভ বন আর বন্য প্রাণী দেখার সুযোগ।
উনাওয়াতুনা
গালে শহরের কাছাকাছি উনাওয়াতুনা সৈকত। অর্ধচন্দ্রাকৃতির উপকূলরেখা ও নীলাভ স্বচ্ছ পানি। প্রবালপ্রাচীর ঢেউগুলোকে শান্ত রাখে। সাঁতার ও স্নরকেলিংয়ের জন্য দারুণ উপযোগী। তীর ঘেঁষে ছোট ছোট ক্যাফে ও সি-ফুড রেস্তোরাঁ। সূর্যাস্তের সময় উনাওয়াতুনা যেন ইন্দ্রপুরী।
মিরিসা
দক্ষিণ উপকূলে মিরিসা প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য। কোমল বেলাভূমি আর দুলতে থাকা নারকেলগাছ মিলে তৈরি করে পোস্টকার্ডের মতো এক দৃশ্য। নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এখানে তিমি ও ডলফিন দেখার মৌসুম।
আরুগাম বে
শ্রীলঙ্কার পূর্ব উপকূলের এই বেলাভূমি বিশ্বের অন্যতম সেরা সার্ফিং গন্তব্য হিসেবেও পরিচিত। মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এখানকার ঢেউ আন্তর্জাতিক মানের সার্ফিংয়ের জন্য উপযুক্ত। পাশাপাশি নিশ্চুপ পরিবেশ, বিস্তীর্ণ বালুচর, ব্লু লেগুন এবং বন্য প্রাণী সংরক্ষণ এলাকা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও অমোঘ আকর্ষণের।
নীলাভেলি
ত্রিঙ্কোমালির উত্তরে নীলাভেলি সম্ভবত শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে নির্মল ও প্রশান্ত সৈকত। সাদা বালু আর স্বচ্ছ ফিরোজা রঙের পানি একে দিয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য। এখান থেকে খুব কাছে পিজন আইল্যান্ড। প্রবালপ্রাচীর, রঙিন সামুদ্রিক মাছ এবং স্নরকেলিংয়ের অসাধারণ অভিজ্ঞতা নিতে পারেন ভ্রমণপিয়াসিরা। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে দেখা মিলতে পারে তিমির।
লাইফস্টাইল ডেস্ক
ছবি: ইন্টারনেট
