কনটেন্ট I পর্দা প্রসঙ্গ
সমসাময়িক টিভি সিরিজ কিংবা চলচ্চিত্র নিয়ে পাঠকমনে আগ্রহের কমতি নেই। সংক্ষেপে রইল তিনটির আলাপ
রেসিডেন্ট ইভিল
ভিডিও গেম থেকে সিনেমা—এই যাত্রা খুব কম ফ্র্যাঞ্চাইজি সফলভাবে পার করেছে। রেসিডেন্ট ইভিল সেই তালিকায় এক অদ্ভুত ব্যতিক্রম। সমালোচকদের বিচারে খানিক পিছিয়ে থাকলেও বক্স অফিসে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে। ক্যাপকমের জনপ্রিয় ভিডিও গেম রেসিডেন্ট ইভিল অবলম্বনে নির্মিত এই ফিল্ম ফ্র্যাঞ্চাইজি, মূল গেমের পরিধি থেকে কিছুটা সরে এসে নিজের একটা জগৎ তৈরি করেছে। মূল গেমের আমব্রেলা করপোরেশন, টি-ভাইরাস এবং জোম্বি-মিউটেন্টের দুনিয়া বহাল থাকলেও সিনেমার গল্পে নতুন চরিত্র অ্যালিসের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। মিলা ইয়োভোভিচ অভিনীত এই চরিত্র এক সুতোয় বেঁধে রাখে পুরো ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। গল্পের মান ওঠানামা করলেও এই অভিনেত্রীর শারীরিক উপস্থিতি, আত্মবিশ্বাসী অভিনয় এবং অ্যাকশন দৃশ্যগুলো দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখে। মিশেল রদ্রিগেজ, আলী লারটার, সিয়েনা গিউলরি ও শন রবার্টসের মতো অভিনেতারাও আছেন বিভিন্ন চরিত্রে। ২০০২ থেকে ২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া ছয়টি সিনেমার এই ফ্র্যাঞ্চাইজির লেখক ও প্রযোজক ছিলেন পল ডব্লিউ এস এন্ডারসন। এগুলোর মধ্যে চারটিরই সঙ্গেই পরিচালক তিনি। টোয়াইলাইট ও দ্য হাঙ্গার গেমসের পাশাপাশি এটিও নারী নেতৃত্বাধীন বিলিয়ন ডলার আয় করা বিরল চলচ্চিত্র সিরিজগুলোর একটি।
একটা টুইস্ট দিয়ে ইভিল আলাপ শেষ করা যাক। ২৪ জুলাই নতুন রেসিডেন্ট ইভিল সিনেমার ট্রেলার প্রকাশ করেছে সনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্ট। পরিচালক হিসেবে আছেন স্নায়ুবিধ্বস্তকারী সিনেমা ওয়েপনস এবং বারবেরিয়ান খ্যাত জ্যাক ক্রেগার। এই সিনেমার গল্প কোন দিকে এগোবে, সেটা ট্রেলার দেখে বোঝা না গেলেও ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ফিল্মটি মুক্তি পাবে ১৮ সেপ্টেম্বর।
হাউস অব ড্রাগনস
ডুম অব ভ্যালেরিয়া থেকে রক্ষা পাওয়া একমাত্র ড্রাগনলর্ড বংশের পরবর্তী ৩০০ বছরের রাজনীতি, শাসন ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব নিয়ে এইচবিওর সিরিজ হাউস অব ড্রাগনস। গেম অব থ্রোনসের প্রিকুয়াল সিরিজটি শুরু হয় রাজা ভিসেরিসের শাসনকাল থেকে। তার মৃত্যুর পর রাজত্বের দাবিদার বড় মেয়ে রেনেইরা হলেও বেঁকে বসে দ্বিতীয় স্ত্রী অ্যালিসান্ট হাইটাওয়ার এবং হ্যান্ড অটো হাইটাওয়ার। সাত রাজ্যের রাজত্ব নিয়ে এরপর শুরু হয় আগুন আর রক্তপাতের গৃহযুদ্ধ।
বলার অপেক্ষা রাখে না, সিরিজটির রেনেইরা চরিত্রে তাক লাগানো অভিনয় করেছেন এমা ডার্সি। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকে মঞ্চনাটকে নিয়মিত ছিলেন এই ব্রিটিশ অভিনেত্রী। মঞ্চের আরেক পরিচিত মুখ ম্যাট স্মিথ আছেন প্রিন্স ডেইমন চরিত্রে। অলিভিয়া কুক, জেমস নরটন, ম্যাথিউ নিডহ্যাম, ফ্যাবিয়ান ফ্রাংকেলদের মতো পরীক্ষিত অভিনেতারাও আছেন বিভিন্ন চরিত্রে। রেনেইরার অন্যতম প্রধান প্রতিপক্ষ এগন দ্য সেকেন্ড চরিত্রে টম গ্লিন কার্নির অভিনয় দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এই সিরিজের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো ড্রাগন। ভ্যাগার, ভার্মিথর, মিরাক্সেস, সিলভারউইং, ড্রিমফায়ার, সাইরাক্স, শিপ্সটিলার, সানফায়ারসহ আরও অনেক ড্রাগনের দেখা মেলে। নামের মতোই তাদের আকার, আকৃতি ও স্বভাবে রয়েছে ভিন্নতা। একটা মজার তথ্য দিই। ডুম অব ভ্যালেরিয়া থেকে বেঁচে আসা একমাত্র ড্রাগন ছিল ব্যালেরিয়ন দ্য ব্ল্যাক ড্রেড। পরে ড্রাগনস্টোনে জন্ম নেয় ভ্যাগার ও মিরাক্সেস। এরপর ৩০০ বছর টার্গেরিয়ানরা যত ড্রাগন ব্যবহার করেছে, সেগুলো মূলত এই তিন ড্রাগনের বংশধর।
বিশাল সেট, পোশাকসজ্জা, স্পেশাল ইফেক্ট এবং যুদ্ধের দৃশ্যগুলোতে বাজেটের শক্তি বোঝা গেলেও হাউস অব ড্রাগনসের গল্প নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সমালোচক গোষ্ঠী। দ্য নিউইয়র্কার বলছে, গেম অব থ্রোনসের সেই চার্ম ও সূক্ষ্ম রসবোধের ঘাটতি দেখা গেছে এই সিরিজে। ধীরগতির গল্প নিয়েও হয়েছে আলোচনা। তবে তৃতীয় সিজনের ব্যাটেল অব গালেট এবং ব্যাটেল অব টাম্বেলটনের মতো বড় সংঘর্ষ গল্পকে আবার আগের গতিতে ফিরিয়েছে। তৃতীয় সিজনের পর সিরিজের সামনে এখন শেষ অধ্যায়। টার্গেরিয়ানদের ইতিহাসের শেষ অধ্যায় দেখা যাবে ২০২৮ সালে, চতুর্থ সিজনে।
মির্জাপুর
আমাজন প্রাইমের ভারতে নির্মিত তৃতীয় অরিজিনাল সিরিজ হিসেবে ২০১৮ সালে আত্মপ্রকাশ করে মির্জাপুর। পূর্ব উত্তর প্রদেশের ছোট শহর মির্জাপুরের অস্ত্র কারবার নিয়ে এর গল্প। ‘অ্যাটাক মে ভি গান, ডিফেন্স মে ভি গান’—গুড্ডুর মুখে বলা এই সংলাপই এককথায় মির্জাপুর সিরিজকে বয়ান করে। দেশি বন্দুক থেকে বড় রাইফেল, একে ৪৭, লাইসেন্সবিহীন কিংবা সরকারি পিস্তল—সব ধরনের অস্ত্রের এক বিশাল সাম্রাজ্য দেখা যায় এখানে, যার হর্তাকর্তা পঙ্কজ ত্রিপাঠী অভিনীত আখান্ডানন্দ ত্রিপাঠী ওরফে কালীন ভাইয়া। তার ছেলের চরিত্রে দিব্যেন্দু শর্মা অভিনীত মুন্না ভাইয়া চরিত্রটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে পুরো সিরিজে।
অভিনয়ের জায়গায় আরও কিছু চমক রয়েছে। শহুরে ও পরিশীলিত চরিত্রে অভ্যস্ত বিক্রান্ত ম্যাসিকে ছোট শহরের যুবকের ভূমিকায় দেখতে পাওয়াটা দর্শকের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে গুড্ডু চরিত্রের জন্য পাশের বাড়ির ছেলে সদৃশ আলী ফজল নিজের শরীর করেছেন ভারী। আর আখান্ডানন্দ চরিত্রে পঙ্কজ ত্রিপাঠী বরাবরের মতোই দুর্দান্ত। ছোট শহরের গ্যাংস্টার চরিত্রে তার অভিনয় গ্যাংস অব ওয়াসিপুরের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। তবে ওয়াসিপুরের পঙ্কজ ত্রিপাঠীর সুলতান ভীষণ আক্রমণাত্মক হলেও মির্জাপুরের কালীন ভাইয়া সংযত, ঠান্ডা মেজাজের এবং প্রায় ভদ্রলোকসুলভ। সিরিজজুড়ে আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কুলভূষণ খারবান্দা, রসিকা দুগাল, রাজেশ তৈলাং, শিবা চাড্ডা, শুভ্রজ্যোতি ভারত, শ্বেতা ত্রিপাঠীসহ শক্তিশালী অভিনেতারা মানসম্মত অভিনয় উপহার দিয়েছেন।
অভিনেতাদের এমন দীর্ঘ সারির পরেও সমালোচক পাড়ায় সিরিজের গল্পের মান নিয়ে আলোচনা হয়েছে ভরপুর। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের মতে, গ্যাংস্টার-ড্রামার পুরোনো ছককে নতুন করে সাজিয়েছে মির্জাপুর। অপ্রয়োজনীয় সহিংসতা, রক্তপাত ও অশ্লীল ভাষাও মূল গল্পের ধারা থেকে দর্শকের মনোযোগ সরিয়ে দেয়। কাহিনিবিন্যাসে তৃতীয় মৌসুমের পর ক্ষমতার সমীকরণ নতুনভাবে বদলে গেছে। এবার আসছে মির্জাপুর-দ্য মুভি। মির্জাপুরের সিংহাসনের লড়াইয়ে আর কত রক্তক্ষরণ হবে, তা জানা যাবে ৬ সেপ্টেম্বর।
শ্রেয় চৌধুরী
ছবি: ইন্টারনেট
