skip to Main Content

সাপ্লিমেন্ট I আয়রন অন্তরাল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ফার্মেসি এবং সুপারশপে বিভিন্ন ধরনের আয়রন ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, সিরাপ ও ড্রপ সহজে পাওয়া যায়। তবে বিজ্ঞাপনের চমকে না ভুলে সতর্কতার সঙ্গে সঠিক পণ্য বেছে নেওয়া প্রয়োজন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পুষ্টিগত সমস্যাগুলোর মধ্যে আয়রন ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়ার অবস্থান শীর্ষে। বাংলাদেশেও বিশেষ করে নারী, অন্তঃসত্ত্বা, কিশোরী এবং ছোট শিশুদের মধ্যে এই স্বাস্থ্যসমস্যা উল্লেখযোগ্য হারে রয়েছে। ফলে আয়রন সাপ্লিমেন্টের ব্যবহার অনেক বেড়েছে।
শরীরের দুর্বলতা বা রক্তস্বল্পতার পেছনে আয়রনের ঘাটতিই যে দায়ী, তা পরীক্ষা ছাড়া নিজে নিজে সমাধানের চেষ্টা করা একদম ঠিক নয়। কেননা ভিটামিন বি১২ বা ফলেটের অভাব, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ, দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, থ্যালাসেমিয়া, দীর্ঘদিনের রক্তক্ষরণসহ নানা কারণে অ্যানিমিয়া হতে পারে। অবশ্য, আয়রন আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। এটি হিমোগ্লোবিন ও মায়োগ্লোবিন তৈরিতে সহায়ক, যা শরীর ও মাংসপেশিতে অক্সিজেন পরিবহন করে। এ ছাড়া শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ, স্মৃতিশক্তি আর মনোযোগ ধরে রাখতে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও মেধাবিকাশেও এটি অপরিহার্য।
আয়রনের চাহিদা পূরণের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সুষম খাদ্য গ্রহণ। গরু বা খাসির চর্বিহীন মাংস, কলিজা, মাছ, ডিম, ডাল, ছোলা, মসুর, শিমজাতীয় খাবার, পালংশাকসহ গাঢ় সবুজ শাকসবজি, তিল, কুমড়ার বীজ এবং আয়রন-সমৃদ্ধ ফর্টিফাইড ফুড এর ভালো উৎস। এ ক্ষেত্রে নন-হিম বা উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রন শরীরে ভালোভাবে শোষিত হওয়ার জন্য খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল; যেমন পেয়ারা, কমলা, মাল্টা, আমলকী বা লেবু খাওয়া উপকারী।
বাজারে সহজলভ্য বিভিন্ন ধরনের আয়রন সাপ্লিমেন্টের মধ্য থেকে কারও ক্ষেত্রে ট্যাবলেট, কারও সিরাপ বা অন্য কোনো ধরনের ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখা চাই, আয়রন যেমন জীবনধারণে অপরিহার্য, তেমনি অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত আয়রন গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে লিভার, হৃদ্‌যন্ত্র, অগ্ন্যাশয়সহ অন্ত্রে দীর্ঘ মেয়াদে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে, শিশুদের জন্য অতিরিক্ত আয়রনে বিষক্রিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তাই আয়রন ট্যাবলেট সব সময় শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা জরুরি।
সুস্থ থাকার জন্য কোনো সাপ্লিমেন্টই সুষম খাদ্যের বিকল্প নয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি। তাই চিকিৎসক বা অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক সাপ্লিমেন্ট নির্বাচন করা চাই।

 নিশাত শারমিন নিশি
প্রধান পুষ্টিবিদ ও বিভাগীয় প্রধান, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ছবি: ইন্টারনেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top