skip to Main Content

তেলেসমাতি I নারকেলে নজর

শিশুর শরীরে প্রথমবার মালিশ থেকে কারও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, উপাসনা থেকে রান্না—লোকাচার, পারিবারিক ঐতিহ্য আর সাংস্কৃতিক অভ্যাসে জড়িয়ে নারকেল তেল। জনপ্রিয় এই তেল ঘিরে রয়েছে নানা বিতর্ক, জল্পনা আর ভ্রান্ত ধারণা

ফিলিপাইন থেকে সামোয়া—নারকেলগাছকে বলা হয় জীবনবৃক্ষ। বিশেষত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জসহ নাতিশীতোষ্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে এর ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো। রান্নার পাশাপাশি চিকিৎসা, ত্বক ও চুলের পরিচর্যা এবং ধর্মীয় আচারে অনেক কাল ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে নারকেলের তেল।
মিথের মোচন
অনেকের ধারণা, এই তেল খেলে ওজন কমে। আবার কেউ মনে করেন, হৃদ্যন্ত্রের জন্য উপকারী। বিজ্ঞান বলে, এর ফ্যাটি অ্যাসিড বিপাকক্রিয়ায় সামান্যই প্রভাব ফেলে। স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত গ্রহণে হৃদ্স্বাস্থ্য থাকে ঝুঁকিতে। চুল ও ত্বকযত্নেও অতিরঞ্জিত কিছু জল্পনা প্রচলিত। চুলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং প্রোটিনের ক্ষয় সামলাতে কার্যকরী হলেও চুল পড়া রোধে এর তেমন ভূমিকা নেই। আরেকটি ভ্রান্তি হলো, ভার্জিন তেল যেহেতু কম প্রক্রিয়াজাত, ইচ্ছেমতো খাওয়া যায়। অথচ বাস্তবে এতেও স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। তাই সুপারফুড হিসেবে দেখার বদলে পরিমিত গ্রহণই শ্রেয়।
তেলে তফাত
বাজারে চার ধরনের নারকেল তেল পাওয়া যায়। শুকনো নারকেলের শাঁস থেকে তৈরি হয় রিফাইন্ড কোকোনাট অয়েল। পরিশোধনের ফলে যার গন্ধ ও স্বাদ হালকা। বেশি তাপে রান্না বা বাণিজ্যিক ব্যবহারে জনপ্রিয়। তাজা নারকেলের শাঁস থেকে কম তাপে বানানো হয় ভার্জিন কোকোনাট অয়েল। নারকেলের স্বাদ, গন্ধ ও প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এতে তুলনামূলক বেশি থাকে। ফ্র্যাকশনেটেড কোকোনাট অয়েল বিশেষ প্রক্রিয়ায় ফ্যাট অপসারণের পর তৈরি করা হয়। সাধারণত প্রসাধনী, মাসাজ অয়েল আর ত্বকযত্নে ব্যবহারের চল রয়েছে এর; তবে রান্নায় নয়। অন্যদিকে নারকেল তেলের ক্ষেত্রে এক্সট্রা ভার্জিন নামে আন্তর্জাতিক কোনো স্বীকৃত মান নেই। ফলে এই চটকদার শব্দযুগল আসলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপণনকৌশল ছাড়া অন্য কিছু নয়।
করণীয় কথকতা
নারকেল তেল কেনার সময় উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ ও প্যাকেজিং দেখে নেওয়া জরুরি। ঠান্ডা, শুষ্ক ও অন্ধকার জায়গায় সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের পর ঢাকনা ভালোভাবে বন্ধ করে রাখলে দীর্ঘদিন ভালো থাকে। অতিরিক্ত তাপে ধোঁয়া ওঠা পর্যন্ত গরম না করা এবং একই তেলের পুনর্ব্যবহার এড়িয়ে চলা উত্তম। তেলের গন্ধ বা স্বাদ অস্বাভাবিক মনে হলে তা ব্যবহার না করাই মঙ্গল।

 ফুড ডেস্ক
ছবি: ইন্টারনেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top