ফরহিম I ফুকুৎসুজি মেথড
ঘাম না ঝরিয়ে কিংবা কোনো ভারী সরঞ্জাম ছাড়াই শরীরের গঠন ঠিক রাখা সম্ভব। একটি সাধারণ তোয়ালের জাদুকরি কৌশল বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসচেতনদের নজর কাড়ছে
অফিসে টানা ৮-১০ ঘণ্টা বসে থাকা, বাইক চালিয়ে জ্যাম ঠেলে ঘরে ফেরা, কিংবা কাঁধে ভারী ব্যাগ, দিন শেষে পিঠের টানটান ব্যথা আর পেটের বাড়তি মেদ অনেকেরই নিত্যদিনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যস্ততায় জিমে যাওয়ার সময় মেলে না কারও কারও, শরীরটাও নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। ঘাবড়াবেন না! দামি যন্ত্রপাতি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা কসরত বা কঠিন ডায়েট ছাড়াই একটি সাধারণ তোয়ালে দিয়ে অনুশীলন করে এই সমস্যাগুলোর চমৎকার সমাধান পাওয়া সম্ভব।
শরীরের ভঙ্গি ঠিক রাখার এই জাপানি স্ট্রেচিং টেকনিকের নাম ফুকুৎসুজি মেথড। একটি বাথ টাওয়েলের সাহায্যে মেঝের ওপর নির্দিষ্ট নিয়মে শুয়ে প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিট সময় দিলেই ব্যস! এটি মেরুদণ্ডকে টানটান এবং সোজা রাখার পাশাপাশি পেটের জমে থাকা চর্বি দূর করতে দারুণভাবে কাজের।
বিশেষ এই পদ্ধতির উদ্ভাবক জাপানি রিফ্লেক্সোলজিস্ট ও বিশেষজ্ঞ ডা. তোশিকি ফুকুৎসুজি। গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, দীর্ঘক্ষণ ভুল ভঙ্গিতে বসে কাজ করার কারণে আমাদের পেলভিক হাড় ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলো নিজস্ব অবস্থান থেকে সামান্য সরে যেতে পারে। ফলে শরীর সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ার পাশাপাশি পেটের মেদ বাইরের দিকে বেরিয়ে আসার ঝুঁকি তৈরি হয়। ফল—পিঠে তীব্র ব্যথা। তার লক্ষ্য ছিল খুব সাধারণ উপায়ে শ্রোণীচক্র বা পেলভিসের অসংগতি সংশোধন করা। এই সমস্যার একটি সহজ ও কার্যকর প্রাকৃতিক সমাধান দিতেই তিনি এই স্ট্রেচিং পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। তার এই গবেষণা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে একটি বই, ‘নেরু দাকে কোৎসুবানমাকুরা দাইয়েত্তো’ (সরল ইংরেজিতে, ‘স্লিপ-অন পেলভিক পিলো ডায়েট’) শিরোনামে। বিশ্বব্যাপী লাখ লাখ কপি বিক্রি হয়ে ফিটনেস দুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে এটি।
সূত্রে সুন্দর
এই ব্যায়াম পদ্ধতি বেশ সহজ। প্রথমে একটি সাধারণ গোসলের তোয়ালকে শক্তভাবে গোলাকার রোল করে নিতে হবে। রোলটি লম্বায় প্রায় ১৫ ইঞ্চি এবং পুরুত্বে ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি হলে ভালো। প্রয়োজনে সুতা বা রাবার দিয়ে রোলটি শক্ত করে আটকে রাখতে পারেন।
এরপর নরম তোশক বা সোফার বদলে মেঝেতে একটি ইয়োগা ম্যাট পেতে নিন। রোল করা তোয়ালেটি নাভির ঠিক পেছনের পিঠ বরাবর রেখে ধীরে ধীরে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। শরীর যেন সোজা ও স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
এবার দুই পা কাঁধের সমান দূরত্বে ছড়িয়ে দিতে হবে। গোড়ালির মধ্যে ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি ফাঁক থাকা চাই। তবে দুই পায়ের বুড়ো আঙুল যেন একে অপরকে আলতো স্পর্শ করে রাখে।
এরপর মাথার ওপর দুই হাত সোজা করে মেঝেতে ছড়িয়ে দিন। হাতের তালু মেঝের দিকে থাকবে এবং দুই হাতের কনিষ্ঠা আঙুল একে অপরকে স্পর্শ করবে। পুরো শরীর যতটা সম্ভব শিথিল রাখা শ্রেয়।
এই অবস্থায় প্রায় ৫ মিনিট শুয়ে থাকুন। শুরুতে একটানা ৫ মিনিট থাকা কঠিন হলে ২ থেকে ৩ মিনিট দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় বাড়াতে পারেন। সময় শেষ হলে হুট করে উঠে বসবেন না। প্রথমে ধীরে এক পাশে কাত হয়ে, তারপর সাবধানে উঠে বসুন।
পুরুষের জন্য এই ব্যায়াম পিঠ ও কোমরের পেশিতে হালকা স্ট্রেচ তৈরি করে অস্বস্তি কমাতে এবং পশ্চার ঠিক রাখতে সহায়ক। সঠিক ভঙ্গির কারণে কোমর ও পেট তুলনামূলক সুঠাম দেখায়। তবে সরাসরি পেটের চর্বি কমায় না। নিয়মিত চর্চায় শরীরের নমনীয়তা ও দৈনন্দিন চলাফেরায় স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝেও পাঁচ মিনিট নিজের শরীরের জন্য বরাদ্দ রাখতে পারেন। তবে মেরুদণ্ড বা হাড়ের কোনো জটিলতা, চোট কিংবা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা থাকলে অনুশীলনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
আবু সালেহ শাহ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ
মডেল: সুকানন
মেকওভার: পারসোনা মেনজ
ছবি: জিয়া উদ্দীন
