skip to Main Content

তনুরাগ I ম্যাজিক্যাল ম্যাগনেশিয়াম

শরীরে প্রয়োজন নানা রসদ। সেগুলোর একটি ম্যাগনেশিয়াম। খনিজ পদার্থ। গুণের শেষ নেই। হাজার কাজের কাজি। স্কিন রিপেয়ারেও দেখায় ভেলকি। পায়ের তলায় কয়েক ফোঁটা আশ্বাসই সই

কেরাটিনোসাইট প্রলিফিরেশন, ফাইব্রোব্লাস্ট মাইগ্রেশন, কোলাজেন সিনথেসিস ও বেরিয়ার ফাংশন—খটমটে এই নামগুলো জুড়ে আছে ত্বকের সমস্যার সঙ্গে। সেসব সারাইয়ে ভূমিকা রাখে ম্যাগনেশিয়াম অয়েল। প্রি-ক্লিনিক্যাল ও ক্লিনিক্যাল টেস্টে জানা যায়, এই উপাদান অ্যাকটোপিক ডারমাটাইটিস, অ্যাকনে, ক্ষত সারাই আর ফটো প্রোটেকশনের ক্ষেত্রে কাজ করে।
ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমাতে গেলেই সকাল সকাল প্রশান্তি ফিরবে—এই ধারণা সব সময় ঠিক নয়। নিদ্রা দেবী যখন আসি আসি, তখনকার একটুখানি যত্নে অবসাদ বদলে যেতে পারে আনন্দে। ম্যাগনেশিয়াম অয়েলের ছোঁয়ায়। নামের সঙ্গে অয়েল থাকলেও আসলে তেল নয়। ম্যাগনেশিয়াম ক্লোরাইডের সঙ্গে পানি মিশিয়ে তৈরি করা হয় এই তরল। ত্বকে ব্যবহারে একধরনের তেলতেলে অনুভূতি হয়ে থাকে। তবে চেনাজানা বডি অয়েলের মতো ত্বকের আর্দ্রতা নিশ্চিত করে না। সে বরং অন্য কাজে পারদর্শী। কী সেটা? রইল তারই বয়ান।
মিনারেল মিরাকল
ম্যাগনেশিয়াম শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মিনারেল; যা মাসল, নার্ভ ফাংশনসহ বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে ভূমিকা রাখে। সাধারণত খাবার ও সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে এই উপাদান পাওয়া যায়। তবে টপিক্যাল ম্যাগনেশিয়াম অর্থাৎ ত্বকে ম্যাগনেশিয়াম প্রয়োগ করে শরীরে এর মাত্রা বাড়ানো যায় কি না, এ নিয়ে গবেষণা এখনো সীমিত। তাই ম্যাগনেশিয়াম অয়েলকে সাপ্লিমেন্টের বিকল্প ভাবার কারণ নেই। অবশ্য বিউটি রিচুয়াল হিসেবে যোগ করা যেতে পারে রোজকার রুটিনে। কারণ, এরই মধ্যে এটুকু বোঝা গেছে, পায়ে ধীরে ধীরে ম্যাগনেশিয়াম অয়েল ব্যবহার করলে মাসল টেনশন কমে আসতে পারে। ক্লান্তিও কর্পূরের মতো উবে যাওয়ার বাড়ে সম্ভাবনা।
ব্যবহার বিস্তারণ
ঘুমের আগে আগে ছোট্ট একটু যত্ন সারা দিনের কষ্ট ভুলিয়ে দিলে সেই সময়টুকু দেওয়া যেতেই পারে, তাই না? এ জন্য প্রথমে শরীর খুব ভালোভাবে ধুয়েমুছে নিলেই প্রস্তুতি শেষ। অর্থাৎ স্নানের পরেই শুরু করা যেতে পারে এই যত্ন; আগে নয়। একটি আরামদায়ক জায়গায় বসে হাত ও পায়ে অল্প করে ম্যাগনেশিয়াম অয়েল স্প্রে করার পর পায়ের নিচ থেকে ওপরের দিকে ধীরে ধীরে মাসাজ করা চাই। গোড়ালি থেকে ঊরু অবধি। একইভাবে হাতেও। একটু বেশি সময় ধরে একই ছন্দে পুরোটা সম্পন্ন করতে পারলে ভালো ফল পাওয়া যায়, মত বিশেষজ্ঞদের। দশ থেকে পনের মিনিটের এই মাসাজের উদ্দেশ্য কোনোভাবেই ব্যথা দেওয়া নয়; বরং আরাম পাওয়া।
ম্যাগনেশিয়াম অয়েল ত্বকে ময়শ্চার যোগ করে না। তাই মাসাজ শেষ হলে বডি লোশন বা বডি অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে এই যত্ন আরও আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে। আর দিনের শেষে কয়েক মিনিট পা উঁচু করে বিশ্রাম নেওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে না থাকা—সবই পায়ের ক্লান্তি দূর করতে সহায়ক।
শরীরে থাকা উল্লেখযোগ্য ক্যাটায়নগুলোর মধ্যে ম্যাগনেশিয়াম চতুর্থ সর্বাধিক। একই সঙ্গে এটি তিন শতাধিক এনজাইমের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শুধু শরীরের বিপাকক্রিয়া ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা নিয়ন্ত্রণেই নয়; ত্বকের সুস্থতার ক্ষেত্রেও ম্যাগনেশিয়ামের অবদান রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ত্বকের কেরাটিনোসাইট কোষের বৃদ্ধি, ফাইব্রোব্লাস্টের কার্যকারিতা এবং কোলাজেন তৈরির প্রক্রিয়া প্রভাবিত করতে সক্ষম। ফলে ত্বকের গঠন, মেরামত ও দৃঢ়তা বজায় রাখতে ম্যাগনেশিয়াম পরোক্ষভাবে সহায়ক। অন্যদিকে, শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে অ্যাটোপিক ডারমাটাইটিস, সোরায়সিস ও ব্রণের মতো কিছু প্রদাহজনিত ত্বকের সমস্যার সম্পর্কও পাওয়া গেছে। তাই ত্বকের জীববিজ্ঞানে ম্যাগনেশিয়ামের ভূমিকা এবং ডারমাটোলজিতে এর সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে আরও গবেষণা চলছে। ভবিষ্যতে ম্যাগনেশিয়ামভিত্তিক চিকিৎসা বা ত্বকযত্নের নতুন পদ্ধতি তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে।
ম্যাগনেশিয়াম অয়েল দারুণ গুণবতী, সন্দেহ নেই। তাই বলে এটি পা টোনড কিংবা লিম্ফেটিক সিস্টেম ডিটক্স করে দিতে সক্ষম, গবেষণায় এমন কোনো ফল এখনো পাওয়া যায়নি।

 বিউটি ডেস্ক
মডেল: মৃদুলা
মেকওভার: পারসোনা
ছবি: জিয়া উদ্দীন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top