মোটিফ I শীতলপাটি
বুনন, মোটিফ আর নকশাকে গবেষণার মাধ্যমে সমকালীন ফ্যাশন ও ডিজাইনে যুক্ত করার চেষ্টা বাংলাদেশের ফ্যাশন বলয়ে। এর সঙ্গে জড়িয়ে যারা, তাদের ভালোবাসার গল্পকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস সেখানে প্রকাশিত
কবি আরণ্যক বসু লিখেছেন, ‘বুকের মধ্যে মস্তো বড় ছাদ থাকবে/ শীতলপাটি বিছিয়ে দেব;/ সন্ধে হলে বসবো দু’জন।’ বাংলাদেশের মানুষের কাছে চিরচেনা নাম শীতলপাটি। শুধু ঘরের মেঝেতেই নয়; গল্প, উপন্যাস, কবিতা থেকে পৌঁছে গেছে নানা মাধ্যমে। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প ও লোকশিল্প হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। এর শিকড় মূলত সিলেটে। মুরতা নামের একধরনের ঝোপজাতীয় গাছের বেত দিয়ে তৈরি হয়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সিলেটের শীতলপাটিকে বিশ্বের ‘নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে ঘোষণা দেয় ইউনেসকো। সেই পাটির নকশা আর বুনন নিয়ে কাজ হয়েছে ফ্যাশন শিল্পেও। ফ্যাব্রিকের জমিনে দেখা গেছে বাঙালিয়ানা। মুগ্ধ হয়েছেন ক্রেতা। কেননা এর রেশ চিরন্তন।
বাংলাদেশিদের এই শাশ্বত ভালোবাসার শীতলপাটি থেকে পাওয়া যায় বিবিধ মোটিফ। জ্যামিতিক প্যাটার্নের নকশা সেখানে বেশি দৃশ্যমান। পাটির বেতের আড়াআড়ি ও লম্বালম্বি বুননশৈলী থেকে তৈরি হয় চারকোনা বা ডায়মন্ড শেপের মোটিফ। হীরক, দ্বৈত হীরক, চেক, জিগজ্যাগ, ঢেউ, সিঁড়ি, মাছের কাঁটা, ঝিনুক, সর্পিল, ষড়ভুজ, ফুল-লতা-পাতাও আছে সেই তালিকায়। আগেকার দিনের নকশাকারেরা নিত্যপ্রয়োজনীয় উপাদানে খুঁজতেন প্রেরণা। এসব মোটিফও সেই সাক্ষ্য দেয়। যেন শিল্পী তার রোজকার জীবনেই পেয়েছেন সুন্দরতা। জহুরির চোখে যাচাই করেছেন নান্দনিকতা। আর সেটিই বুনেছেন হাতের সৃজনে।
শীতলপাটি গবেষক ও ফ্যাশন ডিজাইনার মো. ফয়সাল এই পাটি থেকে প্রাণিত মোটিফ নিয়ে কাজ করেছেন। জানালেন, শীতলপাটি মোটিফকে ফ্যাশন ও পণ্যের নকশায় রূপ দিতে কিছু নির্দিষ্ট সূত্র মেনে চলতে হয়। প্রথমে মূল পাটির বুনন, রেখা ও মোটিফের গঠন ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে তা ডিজাইনে রূপান্তর করা হয়। এরপর মোটিফের পুনরাবৃত্তি, মাপ, অনুপাত আর বুননের উপযোগিতা ঠিক রেখে সারতে হয় বাকিটা। তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আধুনিকতার সঙ্গে কাজ করলেও যেন শীতলপাটির নিজস্ব ঐতিহ্য ও চরিত্র অক্ষুণ্ন থাকে। শীতলপাটি থেকে পাওয়া গুছিরঙ্গিন, জমিতারা তারা, আসমানা তারা, কমলকোষ, তাজমহল নকশা, বাঘ-হরিণ-হাতি-ঘোড়া নকশা, জায়নামাজ ইত্যাদি নিয়ে এই ডিজাইনার কাজ করছেন নিয়মিত।
ফ্যাশন ডেস্ক
মডেল: ফাইজা, জুহায়ের, ফাবলিহা ও সামসুল
মেকওভার: পারসোনা
ওয়্যারড্রোব: তন্তু কারু
ছবি: জিয়া উদ্দীন
কৃতজ্ঞতা: মো. ফয়সাল
