জেন্টলম্যান’স I মৃদুতে গাঢ়তে
একই রং। তবু এক নয় যেন। কোথাও একটু গাঢ়, কোথাও হালকা। টেক্সচারেও ভিন্নতা। পুরুষের পোশাকে প্রায়ই নজর কাড়ছে এই সূক্ষ্ম সমন্বয়
একটি রঙের হালকা, গাঢ় ও মাঝারি শেডের পোশাক নিখুঁতভাবে মিলিয়ে পরার কৌশল হলো টোনাল ড্রেসিং। ফরাসিতে বলা হয় তোঁ সুর তোঁ। ইংরেজিতে টোন অন টোন। মানে, একটি রঙের অনেক শেড। প্রচলিত মনোক্রোম্যাটিক পোশাকের চেয়ে আলাদা। কারণ, মনোক্রোমে এক রঙের সঙ্গে স্টাইল করা হয় একই বা কাছাকাছি শেডের। টোনাল স্টাইলিংয়ে একই কালার ফ্যামিলির বিভিন্ন শেডের ব্যবহার ঘটে। যেমন গাঢ় নেভি ব্লু ব্লেজারের সঙ্গে কিছুটা হালকা নীল ট্রাউজার আর ভেতরে আকাশি শার্ট। একটি রং, ভিন্ন ভিন্ন শেড। শুধু নেভি ব্লু নয়; বাদামি, বেইজ, অলিভ, ক্রিম, ব্ল্যাক, হোয়াইট—সবকিছুতেই হতে পারে টোনাল লুক।
সব সময় একই কালার ফ্যামিলির পোশাক পরলেই যে টোনাল ড্রেসিং হবে, এমন সহজ অঙ্ক নয়। এখানেও রয়েছে সূক্ষ্ম নিয়ম। রংগুলোর আন্ডারটোন একে অপরের পরিপূরক হওয়া চাই। অর্থাৎ শুধু রং কাছাকাছি হলেই চলবে না; টোনাল টোনও মানানসই হওয়া জরুরি। যেমন বাদামি ট্যানের সঙ্গে ওয়ার্ম শেড সুন্দর সামঞ্জস্য গড়ে তোলে। আবার নেভি, চারকোল বা স্লেট গ্রের মতো কুল শেড তৈরি করে ভারসাম্যপূর্ণ লুক।
পুরুষের পোশাকে একই রঙের ব্যবহার অবশ্য নতুন নয়। বিংশ শতাব্দীতে কালো, নেভি ব্লু ও ধূসর স্যুট পেশাদারত্ব আর ক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠেছিল। সময়ের বিবর্তনে কালারে মিনিমালিজম ও নিউট্রালের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। সেই সূত্র ধরে একই রঙের বিভিন্ন শেড নিয়ে ফ্যাশন দুনিয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে। এরই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক ফ্যাশন হাউসগুলোর সংগ্রহে বাদামি, বেইজ, অলিভ, ক্রিম, নেভি ও ধূসর ফ্যামিলির টোনাল কম্বিনেশন করে নেয় জায়গা। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সাময়িকী জি কিউর নজর কাড়েন আমেরিকান ফুটবল তারকা কোলিন কেপার্নিক। তার পোশাকের প্রধান আকর্ষণ ছিল একই রঙের বিভিন্ন শেডের ব্যবহার। পরের বছর প্যারিস ফ্যাশন উইকে আরও একধাপ এগিয়ে যান ফরাসি ডিজাইনার এবং লেমেয়ারের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টফ লুমিয়া।
লেবেলটির স্প্রিং-সামার ২০১৬-এর কালেকশনে মেন’স প্রোডাক্ট লাইনে ছিল অফ হোয়াইট, গাঢ় সবুজ আর নেভির ছোঁয়া। শুধু রং নয়, পোলো শার্টের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল ঢিলেঢালা জ্যাকেট। আবার, কোথাও ব্যাগি প্যান্টের সঙ্গে একই রঙের ট্রেঞ্চ কোট। লুমিয়া বেশ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, টোনাল ড্রেসিং শুধু রং মেলানোর খেলা নয়। আসল খেলাটা লেয়ার তৈরির। একটি পোশাকের ওপর আরেকটি পোশাক। এক শেডের পাশে আরেক শেড। এসব মিলিয়েই তৈরি হয় একটি পূর্ণাঙ্গ লুক।
এ কারণে বলা যেতে পারে, টোনাল ড্রেসিং সব পরিবেশে মানানসই। অফিসে নেভি ব্লু ব্লেজার, মিড-ব্লু ট্রাউজার ও হালকা নীল শার্ট তৈরি করতে পারে পরিমিত পেশাদার লুক। ক্যাজুয়াল দিনে সাজের জন্য ট্যান প্যান্টের সঙ্গে উডেড এক্রে টি-শার্ট ও ব্রাউন ওভারশার্ট। দক্ষিণ এশীয় পোশাকেও এর ব্যবহার বাড়ছে। ঈদ বা বিয়েতে অফ হোয়াইট, ক্রিম, বেইজ কিংবা প্যাস্টেল রঙের পাঞ্জাবি, পায়জামা ও কটির সমন্বয় এনে দিতে পারে আধুনিকতার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী অবয়ব।
দিন শেষে টোনাল স্টাইলিং শুধু ফ্যাশন নয়, ব্যক্তিত্বকে সবচেয়ে মার্জিতভাবে ফুটিয়ে তোলার একটি শিল্প। সঠিক শেডে নিজের রূপ প্রকাশ করতে পারেন টোনাল ফ্যাশনে।
আবু সালেহ শাহ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ
মডেল: সুপ্রভ
মেকওভার: পারসোনা মেনজ
ওয়্যারড্রোব: ট্যাপার্ড
ছবি: জিয়া উদ্দীন
