skip to Main Content

সঙ্গানুষঙ্গ I দারুণ দাপ্তরিক

অফিসের সাজ বলতে একটা নির্দিষ্ট ছবিই চোখে ভাসত। পরিপাটি শাড়ি-ব্লাউজ, স্ট্রাকচার্ড ব্লেজার-ট্রাউজার আর জুয়েলারি। যত কম তত ঠিকঠাক। এখনো কি তাই? নাকি নতুন অধ্যায়ে নতুন সাজ জুতসই

ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স এখন দারুণ ট্রেন্ডি টার্ম। জীবন আর কাজের সমন্বয়ের এই সময়ে সাজ অনুষঙ্গ পাচ্ছে আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব। সাহসহীনতা বোঝাতে একসময় ব্যবহার করা হতো একটি অবজ্ঞাসূচক বাক্য—‘চুড়ি পরে বসে থাকো।’ কিন্তু সেটি আর ধোপে টিকছে না। কারণ, চুড়ি হাতেই একের পর এক কাজের কাজ করছেন কর্মীরা। তা-ও আবার শুধু নারী কর্মী নন, পুরুষের হাতেও নজর কাড়ে চুড়িপ্রাণিত নানা অনুষঙ্গ। গায়ে গয়না নিয়ে কাজ চলছে দারুণ ছন্দে।
ওয়ান-স্টেটমেন্ট রুল
একটি নির্দিষ্ট জুয়েলারি পিসে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। হয়তো গলার চেইন অথবা কানের দুল। তাতে নজর কাড়বে সহজে। কারণ, পোশাক যেটাই বেছে নেওয়া হোক, নেকলাইন আর কান—এই দুই জায়গার গয়না অনায়াসে পরিধানকারীর ব্যক্তিত্ব ধরে রাখতে পারে। আবার এই দুই-ই বাদ দিতে চাইলে করতে পারেন রিং স্টাক। সে কেমন? আঙুল ভর্তি আংটি যেমন! সে ক্ষেত্রে ব্রেসলেট অথবা চুড়ি সরল নকশার হলেই ভালো। কারণ, প্রফেশনাল ড্রেসিংয়ের ক্ষেত্রে কী কী পরেছেন, তা যতটা গুরুত্বপূর্ণ; সচেতনভাবে কী কী পরেননি, তার গুরুত্বও কম নয়।
লকেট লজিক
সহজ নকশার চেইন চলতেই পারে। তবে সেখানে ফোকাস করতে চাইলে লকেটই সই। মিনিমাল ডিজাইনকে রাখতে পারেন সামনে। কারণ, এখানে অতিরঞ্জন মানাবে না; বরং অতিরিক্ত হিসেবে বিরক্তও লাগতে পারে। জ্যামিতিক নকশা, ছোট ফুল কিংবা স্টোনই সই। এর বেশি দরকারি নয়।
ব্রেসলেট বেনিফিট
পোশাক যদি হয় শর্ট স্লিভের অথবা অভ্যাস থাকে রোলড আপ করে রাখার, তাহলে হাতে পরে নেওয়া যেতে পারে একটি লাইট ওয়েট ব্রেসলেট। নিজের হাতের দিকে চোখ চলে গেলে মনের ছন্দের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে বেশ লাগবে! চাইলে চুড়িও বেছে নেওয়া যায়। তবে সে ক্ষেত্রে নকশা পাঁচমিশালি না হলে ভালো। সহজ-সরল নান্দনিকেই হতে পারে বাজিমাত।
রাইট রিং
সবকিছু বাদ দিয়ে শুধু আংটিও বেছে নেওয়া যেতে পারে। একের পর এক আঙুল জুড়ে হলেও খারাপ দেখাবে না। আবার শুধু অনামিকার বিশেষ আংটিতে খুশি থাকতে চাইলেও তা কম কিছু নয়। দুই রকমের আয়োজনই মানাবে।
সোনালি, রুপালি নাকি অন্য কিছু
ওয়ার্কপ্লেস লুকের ক্ষেত্রে গয়নার রং গুরুত্বপূর্ণ। মেটাল চয়েজ আর স্টাইলিং—দুই-ই মুড বদলে ভূমিকা রাখে। ওয়ার্ম গোল্ড টোন সাধারণত পোশাকে কোমলতা যোগ করে। আর রুপালি রং তীক্ষ্ণতার তির ছুড়ে দেয়। সেখানে পাওয়া যায় সমকালের স্পর্শ। মিক্সড মেটালে মেলে ফ্যাশন ফরোয়ার্ড লুক।
স্টে কনফিডেন্ট
নো রুল বুক। কোথাও কোনো নিয়ম লেখাজোখা নেই। কেউ ছোট দুলে আত্মবিশ্বাসী তো কেউ একটু ভারী নকশার লকেটে। কেউ দীর্ঘদিন একই গয়না ব্যবহার করেন আবার কেউ ইচ্ছা অনুযায়ী বদলে নেন। পুরোটাই ব্যক্তিগত। কারণ, প্রফেশনাল স্টাইলের উদ্দেশ্য অন্যদের চেয়ে বেশি নজর কেড়ে নেওয়া নয়; বরং নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করা, যাতে কাজের জায়গায় স্বস্তির সঙ্গে আপস না করে সুন্দর থাকা যায়। এখনকার চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেক ব্র্যান্ড তৈরি করছে ইউনিসেক্স জুয়েলারি। কারণ, অলংকার শুধুই নারীর জন্য—এমন তকমা মিলিয়েছে সময়ের বাঁকে। পুরুষও মজেছেন গয়নার প্রেমে। বাহুল্য বর্জনেই ভোট বেশি। অতিরঞ্জনে আপত্তি বেশির ভাগের। তাই সারল্য সাধনেই সমাধান।

 সারাহ্‌ দীনা
মডেল: ক্যারিন
মেকওভার: পারসোনা
ওয়্যারড্রোব: সিকোসো
ছবি: জিয়া উদ্দীন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top