ডিজাইনার ডায়েরি I আসাদ সাত্তার
অনুপ্রাণিত করেন তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশনকে। তৈরি করেছেন আর্কা, এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যার ভিত্তি ফ্যাশন ও জীবনের সৃজনশীলতা। একই সঙ্গে ‘আমি ঢাকা’ ও ‘কাঁঠাল’ ব্র্যান্ডের স্বত্বাধিকারী। শুনিয়েছেন তার পথচলার গল্প
ডিজাইনারই হবো—এমন স্বপ্ন ছিল না। তবে নতুন কিছু তৈরির তাগাদা সব সময় অনুভব করতাম। পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলাম। পড়েছি অর্থনীতি নিয়ে। দেশে ফিরে পরিবারের গার্মেন্টস ব্যবসায় যোগ দিয়ে টেক্সটাইল, আরএনডি প্রসেস, ডিজাইনিং—সবই দেখেছি এবং শিখেছি। তারপর নিজে কিছু করার সিদ্ধান্ত নিই। ব্র্যান্ড গড়ে তোলার কথা ভাবতে গিয়ে মনে হলো, বাংলাদেশি ফ্যাশন লেবেলগুলো নির্দিষ্ট কয়েকটি গল্পের বাইরে যেতে পারছে না। হয় পুরোপুরি হেরিটেজ, নয়তো একদম ওয়েস্টার্ন। যারা মাল্টি-কালচারাল ব্যাকগ্রাউন্ডে বড় হচ্ছে, তাদের জন্য কোনো ব্র্যান্ড নেই কেন—এমন চিন্তা থেকে এ পথে চলতে শুরু করেছিলাম। তারপর ফ্যাশন নিয়ে একের পর এক কাজ করেছি। আমাদের ঐতিহ্যের অজানা-অদেখা গল্পগুলো বলার চেষ্টা করেছি।
অনুপ্রেরণা থেকে নতুন ডিজাইন সৃষ্টি হয়। সংকল্প না থাকলে ফ্যাশন লেবেল তৈরি করা বেশ কঠিন হবে জানতাম। থামতে চাইনি শুধু। আমার প্রথম ফ্যাশন লেবেল ‘কাঁঠাল’-এর শুরুটা ২০২৩ সালে। আবার সে বছরেই প্রথমবারের মতো আর্কা কালেকটিভ থেকে আয়োজন করেছি আর্কা ফ্যাশন উইক। আর্কা মূলত একটি লাইফস্টাইল ও কালচারাল প্ল্যাটফর্ম। অনেকের ধারণা, এটি শুধু তরুণদের জন্য; আমার ভাবনায় আর্কা সবার। ফ্যাশন, গান, সংস্কৃতি, জীবনযাপন—সবকিছু নিয়েই কাজ করে এটি।
গেল বছর শুরু করেছি নতুন লেবেল ‘আমি ঢাকা’। আবহের দিক থেকে আমার এই দুই ফ্যাশন লেবেল অভিন্ন নয়; বরং আলাদা। কারণ, একটি নির্দিষ্ট লাইনে ডিজাইনকে আটকে রাখতে চাইনি। নিজেকে একেক সময় একেকভাবে প্রকাশ করতে চেয়েছি। যেমন কাঁঠালের পোশাকের আবহ বেশ এজি। প্যাটার্ন থেকে সিলুয়েটে প্রিমিয়াম ফ্যাব্রিক ও টেক্সচারের বেসিক ডিজাইন দেখা যায় এতে। আর আমি ঢাকা হচ্ছে আমাদের দেশীয় ফ্যাব্রিক ও ডিজাইনে তৈরি আধুনিক ঢাকার প্রতিচ্ছবি। ফ্যাশনের দুটি আলাদা ক্যাটাগরির কারণ, এভাবে কাজ করতে আমার এডিএইচডি মস্তিষ্ক আনন্দ পায়।
গত বছরের আগস্টে ব্রিকস প্লাস ফ্যাশন সামিটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার পর সে বছরই মস্কো ফ্যাশন উইক, তারপর এবারের কলম্বো ফ্যাশন উইকে গিয়েছি। সেখানকার রানওয়েতে শুধু নিজের ডিজাইন উপস্থাপন নয়, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প ও ফ্যাশনের জোরালো অবস্থান দেখেও মুগ্ধ হয়েছি। ডিজাইন যে সত্যিকার অর্থেই একটি সর্বজনীন ভাষা, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছি। আমার মতে ভালো ডিজাইন সেটিই, যার একটি একক সত্তা আছে; যা সবকিছু থেকে আলাদা।
কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় অনেক বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে কী বলল, সেটা ভেবে কাজ বন্ধ করলে চলবে না—এ বিষয়ে নিজের কাছে আমি স্পষ্ট। এই মানসিকতা নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।
অনুলিখন: আবৃতি আহমেদ
ছবি: অগ্নিলা আহমেদ
