ফটো ফিচার I বঙ্গভূতের রঙ্গ
সময়ের সঙ্গে ভোল পাল্টেছে বঙ্গদেশের ভূতেদেরও। বদলেছে তাদের চিন্তা-চেতনা। সেই ভূতেদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আবৃতি আহমেদের কল্পনা
মেকওভার: পারসোনা
ছবি: কৌশিক ইকবাল
আইডিয়েশন: টিম ক্যানভাস
শাকচুন্নির নতুন সাধ
লোককথায় প্রচলিত শাকচুন্নির একটাই শখ—সে সংসার করবে। রাঁধবে, বাড়বে আর ঘরের কাজ চালিয়ে যাবে। কিন্তু এই শাকচুন্নি ঠিক তার উল্টো। সংসার খোঁজে না, কারও ধার ধারে না। গলা লম্বা করে আগের মতো অন্যের খবরও রাখে না সে। তবে এখনো গাছের ডালে বসে দোল খায়, রিলস দেখে আর জোরে জোরে হাসে। শরীরের সবুজ রঙেও মাথাব্যথা নেই তার। ব্যবহার করে না কোনো রং ফরসাকারী ক্রিম। সাজে লাল শাড়ি আর লাল টিপে। একদম নিজের ইচ্ছেমতন।
মডেল: রহমান সিনথিয়া
ওয়্যারড্রোব: মাহমুদা শাড়ি হাউজ
বাস্তববাদী ব্রহ্মদৈত্য
বাঙালি ভূতসমাজের সবচেয়ে শক্তিশালী ও শ্রদ্ধাভাজন ভূত হিসেবে দেখা হয় ব্রহ্মদৈত্যকে। ভূতের রাজার তকমাও রয়েছে সঙ্গে। স্বভাবে শান্ত, ন্যায়পরায়ণ, দয়ালু আর সত্যবাদী মানুষকেই বেশি পছন্দ। পরনে পরিষ্কার সাদা ধুতি, পবিত্র পৈতে। মাথায় টিকিটাও আছে আগের মতো। তবে স্বভাবের গম্ভীরতা কাটিয়ে অনেকটাই বাস্তববাদী হয়ে উঠেছেন আজকাল। ভাবছেন মনস্তত্ত্ব নিয়ে। সমাজের সবকিছুতে সাদা আর কালোর বাইরে দেখছেন ছাই রংটাও।
মডেল: সজীব সিং
মাছ রাঁধে মেছো ভূত
আগের মতো কাঁচা মাছে আর ভক্তি হচ্ছে না এ সময়ের মেছো ভূতের। ইউটিউব দেখে তাই নিয়মিত নতুন রেসিপি শিখছে সে। ইলিশ পাতুরি, রুই মাছের দোপেঁয়াজা, ছোট মাছের চচ্চড়ি; আরও কত কী! দেশির পাশাপাশি চলে বিদেশি স্টাইলের রান্নাও। ফিশ বারবিকিউ, কাটলেট, ফিশ অ্যান্ড চিপস। কিছু খেতে ভালোবাসলে সেটা রান্না করা যে খুব কঠিন কাজ নয়, এ ব্যাপারে আজকাল অন্য ভূতেদেরও উৎসাহ দেয় সে। তাকে বলতে শোনা গেছে, রান্না করতে শুধু ইচ্ছা লাগে। আর স্বাদটা নির্ভর করে মনের আনন্দের ওপর।
মডেল: সিয়াম সরকার
ডানপিটে ডাকিনী
তন্ত্রসাধনায় বর্ণিত ডাকিনী প্রচণ্ড শক্তিধর এক নারী প্রেতাত্মা। রূপকথার গল্পে তার রুদ্রমূর্তি আর উগ্রতার কথা বলা হলেও একসময় ‘ডাকিনী’ শব্দটিকে জ্ঞানী, পণ্ডিত ও বিদুষী নারীর সম্মানসূচক উপাধি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এ সময়ের ডাকিনীও তাই। ভালো-মন্দ নিজেই বুঝতে চায়। নিজের মতো চলতে চায়। পোশাক পরতে চায়। সাজতে চায়। আর তাতে কেউ বাধা দিলেই দেখতে হয় তার প্রচণ্ড রাগ। কাবুতে থাকে না জেদ।
মডেল: তাহরিমা
ওয়্যারড্রোব: মাহমুদা শাড়ি হাউজ
