সংরক্ষণ সমাধান I মিষ্টিময়
উৎসব হোক কিংবা অতিথি আপ্যায়ন; মিষ্টি ছাড়া বাঙালির ঘরে আনন্দটাই অসম্পূর্ণ। তবে মিষ্টি কেনার পর সেই স্বাদ ও সতেজতা ধরে রাখা বেশ কষ্টসাধ্য। জেনে নিন, কোন মিষ্টি কীভাবে সংরক্ষণে রাখবেন
রসাল মিষ্টি
রসগোল্লা, চমচম বা রাজভোগের মতো মিষ্টি সিরায় ডুবে থাকে। তুলনামূলক বেশি আর্দ্র। তাই দীর্ঘ সময় বাইরে না রেখে পরিষ্কার, ঢাকনাযুক্ত পাত্রে সিরাসহ ফ্রিজে রাখাই উত্তম। লক্ষ রাখতে হবে, মিষ্টি যেন পুরোপুরি সিরায় ডুবে থাকে। কারণ, সিরার বাইরে থাকা অংশ শুকিয়ে যেতে পারে এবং সেখানে জন্মাতে পারে ছত্রাক।
রসমালাই ও কাঁচাগোল্লা
নরম ছানা, রসমালাই ও কাঁচাগোল্লা বেশি আর্দ্রতায় দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। কেনার পর যত দ্রুত সম্ভব ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বায়ুরোধী পাত্রে ফ্রিজে রাখা উচিত। তবে কাঁচাগোল্লা সাধারণত ৩-৪ দিন এবং রসমালাই ২-৩ দিনের মধ্যে খেয়ে নেওয়া ভালো। এসব মিষ্টি দীর্ঘদিন ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা ঠিক নয়। বরফের স্ফটিক ছানার স্বাদ নষ্ট করে দেয়।
সন্দেশ
সন্দেশের সংরক্ষণ নির্ভর করে কতটা পাক দেওয়া হয়েছে তার ওপর। নরম পাকের সন্দেশ তুলনামূলক বেশি আর্দ্র। তাই বায়ুরোধী পাত্রে ফ্রিজে রাখা ভালো। সাধারণত ৪-৫ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে। খোলা অবস্থায় রাখলে শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায়।
ফিরনি
দুধ, চাল বা সেমাই ও চিনির মতো উপাদানে তৈরি হয় পায়েস ও ফিরনি। এতে আর্দ্রতা থাকে বেশি। রান্নার পর দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় না রেখে পরিষ্কার, ঢাকনাযুক্ত পাত্রে দ্রুত ফ্রিজে রাখা ভালো। গরম পায়েস বা ফিরনি বড় পাত্রে দীর্ঘ সময় ঠান্ডা না করে দ্রুত সংরক্ষণ করা উত্তম। পরিবেশনের সময় প্রয়োজনমতো বের করে বাকি অংশ আবার ফ্রিজে রাখতে হবে।
কড়া পাকের সন্দেশ
কড়া পাকের সন্দেশে আর্দ্রতা কম থাকায় তুলনামূলক বেশি সময় ভালো থাকে। বাতাসের আর্দ্রতা থেকে দূরে, শুকনা ও বায়ুরোধী পাত্রে রাখলে ঘরের তাপমাত্রাতেও ৭ থেকে ১০ দিন অব্দি খাওয়া যায়।
মণ্ডা
মণ্ডার ক্ষেত্রে নিয়মটা একটু আলাদা। ফ্রিজে না রেখে শীতল ও শুষ্ক জায়গায় বায়ুরোধী পাত্রে রাখা উচিত। ফ্রিজের অতিরিক্ত শুষ্কতা মণ্ডার কোমলতা নষ্ট করে এবং পরে চিনির স্তরও শক্ত ও খসখসে হয়ে যায়। আবহাওয়া অনুযায়ী ১০-১২ দিন ভালো থাকে।
ক্ষীরকদম ও খোয়ার মিষ্টি
ক্ষীরকদম, প্যারা, মাওয়া বরফির মতো খোয়া বা মাওয়া টাইপের মিষ্টিতে আর্দ্রতা তুলনামূলক কম। পরিষ্কার, শুকনা ও বায়ুরোধী পাত্রে রাখা ভালো। অতিরিক্ত আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখলে মিষ্টির স্বাভাবিক গঠন ও স্বাদ দীর্ঘ সময় থাকে।
লাড্ডু ও ঘিয়ের মিষ্টি
লাড্ডু, বুন্দিয়া বা ঘিয়ের মিষ্টির ক্ষেত্রে মূল বিষয় বাতাস ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ। এগুলো শুকনা, পরিষ্কার ও বায়ুরোধী পাত্রে ভালো থাকে। বাতাসের সংস্পর্শে মিষ্টির চর্বি ও ঘিয়ে গন্ধের পরিবর্তন আসে।
কৌশল
দোকান থেকে আনা কাগজের বাক্সে মিষ্টি সরাসরি ফ্রিজে না রেখে ফুড গ্রেড বায়ুরোধী পাত্রে রাখা ভালো।
ভেজা চামচ বা হাতে মিষ্টি না ছোঁয়া ভালো।
রসাল, শুকনা ও ঘিয়ের মিষ্টি একই পাত্রে না রেখে আলাদা সংরক্ষণ করতে হবে।
পাত্রের ঢাকনা বারবার খোলা বা মিষ্টি দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা এড়িয়ে চলতে হবে।
মিষ্টি আমাদের উৎসব ও স্মৃতির অংশ। তাই মিষ্টির ধরন বুঝে একটু যত্ন নিলেই তার স্বাদ, গন্ধ ও কোমলতা আরও কিছুদিন ধরে রাখা সম্ভব।
আবু সালেহ শাহ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ
তথ্য ও ছবি: ইন্টারনেট
