ফরহিম I নিত্য পারিপাট্য
এলোমেলো চুল এখন আর তেমন ট্রেন্ডি নয়। গুছিয়ে চলাতেই স্বছন্দ হচ্ছেন পুরুষেরা। হোক তা ক্লাস, অফিস, দাওয়াত কিংবা আড্ডায়
চুলের স্টাইল বদলালেই বদলে যায় পুরো লুক। কখনো ক্ল্যাসিক, কখনো মেসি, আবার কখনো ন্যাচারাল। পছন্দের স্টাইল পেতে শুধু চুল থাকলেই হয় না, দরকার সঠিক যত্ন এবং কিছু প্রয়োজনীয় উপকরণ। চুল ছোট, মাঝারি কিংবা লম্বা; যা-ই হোক, নিজের চুলের ধরন বুঝে কয়েকটি প্রয়োজনীয় সামগ্রী হাতের কাছে রাখলেই গ্রুমিং হয়ে উঠতে পারে অনেক সহজ।
শ্যাম্পু-কন্ডিশনার
স্টাইল করার আগে চুল পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন। নিজের চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু ব্যবহারের পর স্ক্যাল্প পরিষ্কার করুন। এরপর কন্ডিশনার লাগান চুলের মাঝামাঝি অংশ থেকে ডগা পর্যন্ত। এতে চুল নরম হয় এবং স্টাইলিংয়ের সময় সামলানো সহজ হয়। তবে চুল অতিরিক্ত শুষ্ক হলে প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করা যেতে পারে।
তেল
স্টাইলিং প্রোডাক্ট হিসেবে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করলে চুল ভারী ও তৈলাক্ত দেখাতে পারে। তবে চুলের যত্নে নারকেল, আরগান অয়েল বা অন্যান্য উপযুক্ত তেল ব্যবহার করা যায়।
চিরুনি
নিজের মতো করে চুল সাজানোর সবচেয়ে সহজ উপকরণ চিরুনি। ছোট চুলে সূক্ষ্ম দাঁতের চিরুনি দিয়ে সাইড পার্ট বা ক্ল্যাসিক স্টাইল তৈরি করা যায়। লম্বা ও কোঁকড়া চুলে প্রশস্ত দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করলে জট ছাড়ানো সহজ হয় এবং চুলে টানও কম পড়ে। তবে ন্যাচারাল বা মেসি লুক চাইলে চিরুনির বদলে আঙুল দিয়ে চুলে বিভিন্নভাবে গুছিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
জেল
স্লিকড-ব্যাক ক্ল্যাসিক স্টাইলের জন্য জেল বেশ পরিচিত। সামান্য ভেজা চুলে অল্প জেল হাতে নিয়ে দুই হাতের তালুতে ছড়িয়ে চুলে লাগান। এরপর চিরুনি দিয়ে পেছনের দিকে আঁচড়ে দিন। স্পাইক বা নির্দিষ্ট আকৃতির স্টাইলেও জেল ব্যবহার করা যায়।
ওয়াক্স
জেলের তুলনায় হেয়ার ওয়াক্স কিছুটা নমনীয়। শুকনা চুলে অল্প ওয়াক্স হাতে ঘষে নরম করে নিন। এরপর চুলে লাগিয়ে আঙুল দিয়ে পছন্দমতো আকৃতি দিন। ছোট ও মাঝারি চুলে টেক্সচার তৈরি, ফ্রিঞ্জ আলাদা করা কিংবা মেসি লুক তৈরিতে ওয়াক্স ব্যবহার করা যায়।
ক্লে
চুলে চকচকে ভাব পছন্দ না হলে বেছে নিতে পারেন ক্লে। শুকনা চুলে অল্প ক্লে নিয়ে হাতের তালুতে ঘষে নরম করে নিন। এরপর চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত লাগিয়ে আঙুলের সাহায্যে তৈরি করুন পছন্দের টেক্সচার। বিশেষ করে ঘন, ছোট থেকে মাঝারি দৈর্ঘ্যের চুলে ম্যাট ফিনিশ আনতে ক্লে বেশ কার্যকর।
পেস্ট
ক্লে বা ওয়াক্সের তুলনায় পেস্টে পাওয়া যায় তুলনামূলক নমনীয় স্টাইলিং। পাতলা বা ফ্ল্যাট চুলে অল্প পরিমাণ পেস্ট ব্যবহার করে সহজে যোগ করা যায় ভলিউম ও টেক্সচার। চুলকে অতিরিক্ত শক্ত না করে স্বাভাবিক লুক রাখতে চাইলে পেস্ট হতে পারে ভালো পছন্দ।
ক্রিম
মাঝারি থেকে লম্বা বা কোঁকড়া চুলে শক্ত হোল্ড সব সময় প্রয়োজন হয় না। এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে ক্রিম। সামান্য ভেজা চুলে অল্প ক্রিম লাগিয়ে আঙুল দিয়ে চুলের ওয়েভ বা কার্লকে নিজের মতো করে সাজিয়ে নিন।
সি সল্ট স্প্রে
চুল ফ্ল্যাট দেখালে সি সল্ট স্প্রে দিয়ে কিছুটা ভলিউম ও টেক্সচার আনা যায়। হালকা ভেজা চুলে স্প্রে করে হাত দিয়ে চুল চেপে ধরে আকার দিন। এরপর ড্রায়ার বা ডিফিউজারে শুকিয়ে নিন। মেসি, ওয়েভি কিংবা বিচ-ওয়েভ লুক তৈরিতেও এটি বেশ কার্যকর।
ড্রায়ার ও ডিফিউজার
চুল শুকানোর পাশাপাশি স্টাইলিংয়েও হেয়ার ড্রায়ার বেশ কার্যকর। ভলিউম চাইলে চুলের গোড়ায় বাতাস দিন এবং ব্রাশ বা আঙুল দিয়ে চুলের দিক ঠিক করুন। কোঁকড়া এবং ওয়েভি চুলে ডিফিউজার ব্যবহার করলে বাতাস তুলনামূলকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক কার্ল ধরে রেখে চুল শুকানো সহজ হয়। তবে যেকোনো হিট স্টাইলিংয়ের আগে হিট-প্রোটেক্টর ব্যবহার করা ভালো।
হেডব্যান্ড ও হেয়ার টাই
হেডব্যান্ড বা হেয়ার টাই ব্যবহৃত হয় লম্বা চুল নিয়ন্ত্রণে রাখতে। জিম বা খেলাধুলার সময় চুল সামনে চলে আসে অনেকের। এমন সমস্যায় এটি বেশ কার্যকর।
হেয়ার স্প্রে
কোনো স্টাইল দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে চাইলে হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করা যায়। চুল থেকে কিছুটা দূরে রেখে অল্প স্প্রে করুন।
মনে রাখতে হবে, সব প্রোডাক্ট সবার জন্য নয়। পাতলা চুলে সি সল্ট স্প্রে ও হালকা পেস্ট ভলিউম দিতে পারে। ঘন চুলে ক্লে বা ফাইবার দিতে পারে ভালো হোল্ড। লম্বা ও কোঁকড়া চুলে ক্রিম ও ডিফিউজার বেশি উপযোগী। আর ক্ল্যাসিক স্লিকড-ব্যাক লুকের জন্য জেল বা পমেড বেছে নেওয়া যায়। তাই ভালো হেয়ারস্টাইলের জন্য প্রোডাক্টের সংখ্যা নয়, প্রয়োজন সঠিক ব্যবহার। নিজের চুলের ধরন বুঝে সঠিক টুল ও প্রোডাক্ট বেছে নিন, আর আয়নার সামনে একটু সময় দিন। সেলুনের বাইরে, নিজের হাতেই তৈরি হতে পারে আপনার সিগনেচার হেয়ারস্টাইল।
আবু সালেহ শাহ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ
মডেল: জুহায়ের
মেকওভার: পারসোনা মেনজ
ছবি: জিয়া উদ্দীন
