skip to Main Content

তনুরাগ I এড়িয়ে জিরিয়ে

এতশত পণ্য আর কৌশলের ভিড়ে প্রয়োজনটুকু বেছে নেওয়ার চেষ্টায় স্কিপ কেয়ার এখন চর্চায়। বিস্তারিত লিখেছেন আবৃতি আহমেদ

সৌন্দর্যচর্চার পণ্য হোক কিংবা কৌশল, প্রথমেই বলতে হয় কে-বিউটির কথা। স্কিন কেয়ারের সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেন্ডগুলোও আসে সেখান থেকে। স্কিপ কেয়ারও তা-ই। একের পর এক পণ্য আর একেক সময় একেক কৌশলে যত্ন করতে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠা ত্বককে একটুখানি স্বস্তি দিতে পারে এই পদ্ধতি। ইংরেজি ‘স্কিপ’ শব্দটির বাংলা ‘বাদ দেওয়া’ বা ‘এড়িয়ে যাওয়া’। এই পদ্ধতিতে অপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং বহুমুখী পন্থা বাদ দিয়ে যথাসম্ভব মিনিমালিস্টিক কৌশল মেনে চলা হয়। অর্থাৎ, যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু; যা বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করেই ত্বকের সমস্যাগুলোর সমাধান সক্ষম।
অল্পেই তুষ্ট
যত বেশি, তত ভালো—ত্বকযত্নের ক্ষেত্রে এখনো পুরোনো হয়নি এই ম্যাক্সিমালিস্ট মনোভাব। এর পেছনে রয়েছে বাজারে আসা একের পর এক নতুন পণ্য আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে ইনফ্লুয়েন্সারদের বানানো নানা কৌশল। কখনো একের পর এক পণ্যের স্তর দিয়ে টেন-স্টেপ মেথড, তো কখনো ত্বকে ভ্যাসলিনের প্রলেপযোগে স্কিন স্লাগিং টেকনিক। ধৈর্য ধরে একটি ব্যবহার করার পরিবর্তে নতুন নতুন পণ্য ব্যবহারের প্রবণতা আজকাল প্রবল হয়ে উঠেছে। এই স্রোতের বিপরীতে চলে স্কিপ কেয়ার। এর মূল বার্তা হলো, যত কম তত ভালো। স্কিন কেয়ার করতে গিয়ে অতিরিক্ত পণ্য ও অপ্রয়োজনীয় কৌশলের চাপ যে সব সময় লাভজনক নয়, তারই প্রতিফলন স্কিপ কেয়ারের ধারণা। তা ছাড়া দৈনন্দিন ব্যস্ততার কারণে কম সময়ে এবং অল্প পণ্যে ত্বকযত্ন সারতে পারলে বেঁচে যান অনেকে। তাই স্কিপ কেয়ার পদ্ধতিকে বেশ লাভজনক বলা যায়।
জনপ্রিয়তা যে জন্য
ত্বকযত্নের ম্যাক্সিমালিস্ট আবহে মিনিমালিস্ট এই পদ্ধতির জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে আরও বেশ কিছু কারণ।
 প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য ব্যবহারে ত্বকের ব্যারিয়ার বা সুরক্ষা স্তর দুর্বল হয়ে ত্বকে তৈরি করতে পারে বাড়তি সংবেদনশীলতা। পরিণামে সমাধানের বদলে উল্টো সমস্যা তৈরি হতে পারে।
 বেশি পণ্য ব্যবহার করলেই যে ভালো ফল মিলবে, ত্বকযত্নে এমন কোনো প্রমাণ নেই।
 বাড়তি পণ্য মানেই খরচের ধাক্কা। এগুলো ব্যবহারে ব্যয় হয় লম্বা সময়, যা নিয়মিত ত্বকযত্নের ক্ষেত্রে অনেকের কাছে অসম্ভবপ্রায়।
সচেতন যত্ন পন্থা
নেট দুনিয়ায় আলোচিত স্কিন মিনিমালিজম মতবাদের অংশ হিসেবেও ধরা যেতে পারে স্কিপ কেয়ারকে, যা নিখুঁত ও অতিরিক্ত পরিচর্যা করা ত্বকের আকাঙ্ক্ষার বদলে স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর ত্বককে উদ্‌যাপন করে। শুধু তা-ই নয়, ক্রেতারাও এখন অনেক বেশি সচেতন হয়ে উঠেছেন পণ্যের মধ্যে থাকা উপকরণ নিয়ে। শুধু ইন্টারনেটে ভাইরাল হলেই সেই পণ্যের ব্যবহারকে যুক্তিযুক্ত মনে করেন না তারা। কোনো কিছু কেনার বা ব্যবহারের আগে পণ্যের ইনগ্রেডিয়েন্ট লিস্ট দেখে নেওয়ার পাশাপাশি, ত্বকে সেগুলোর প্রয়োগ ও প্রয়োজন সম্পর্কে সব ধরনের তথ্য তারা ইন্টারনেটের সাহায্যে খুঁজে বের করেন।
বহুমুখী পণ্য প্রসার
একটি পণ্যে একাধিক কার্যোদ্ধার হলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্যের ব্যবহার এমনিতেই কমিয়ে আনা সম্ভব। সেই সূত্রে বাড়ছে মাল্টিফাংশনাল পণ্যের সংখ্যা। এমন একটি ফেসওয়াশ, যা ত্বক পরিষ্কার করার পাশাপাশি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতেও সহায়ক হবে; কিংবা এমন একটি সেরাম, যা ত্বক উজ্জ্বল করার পাশাপাশি সানস্ক্রিনের কাজও করবে। এ ধরনের পণ্য ব্যবহার অনেকের জীবনে সাধারণ ব্যাপার হয়ে উঠেছে।
স্কিপ কেয়ার পদ্ধতিতে প্রথমে শোনা চাই ত্বকের কথা। কোনটি প্রয়োজন এবং কোনটি নিষ্প্রয়োজন, তা বুঝে তৈরি করা যেতে পারে স্কিন কেয়ার রুটিন। সুস্থ ত্বক বা ব্যারিয়ার স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলে নতুন কোনো কৌশল বা পণ্য স্কিপ করাই ভালো। আর নতুন কিছু যোগ করতে চাইলে প্যাচ টেস্ট জরুরি। স্কিপ কেয়ারের মূল বার্তা এটাই। ত্বকযত্নে সচেতনভাবে পণ্য ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় সবকিছু এড়িয়ে যাওয়া।

মডেল: ক্রিস্টাল
মেকওভার: পারসোনা
ছবি: জিয়া উদ্দীন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top