skip to Main Content

ত্বকতত্ত্ব I ডিকোডিং সার্ডিন গ্লো

গ্লো-আপের সংজ্ঞা বদলেছে। শুধু মেকআপের ফিনিশিং টাচ কিংবা স্কিন কেয়ারের লেয়ারে নয়, ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা, নমনীয়তা ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বলতা ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় পুষ্টির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে

মাছের তেলে মাছ ভেজেছেন নিশ্চয় অনেকে। এখন মাছের তেলে হবে ত্বকের যত্ন। সম্প্রতি সার্ডিন মাছের হেলথ বেনিফিটস নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে; যা সামাজিক মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছে ‘সার্ডিন গ্লো’ নামে। আকারে ছোট হলেও এই তৈলাক্ত মাছগুলো পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। ত্বক করে সুন্দর, কোমল। গুণের শেষ নেই এই মাছের
ওমেগা-৩
আমাদের ত্বকের বাইরের স্তরটি শরীরের জন্য একধরনের প্রতিরক্ষাবর্ম। নাম স্ট্র্যাটাম কর্নিয়াম। এটি ঠিকঠাক কাজ করলে ত্বক অতিরিক্ত পানি হারায় না এবং বাইরের নানা ক্ষতিকর উপাদান থেকে সুরক্ষা পায়। এই স্তরের স্বাভাবিক কাজকর্মে জরুরি একটি উপাদান হলো ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। শরীরের জন্য অত্যাবশ্যক হলেও আমাদের শরীর এই ফ্যাট পর্যাপ্ত তৈরি করতে পারে না। খাদ্য থেকে গ্রহণ করতে হয়। গবেষণা বলছে, সার্ডিন মাছের মাংসে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের দুটি গুরুত্বপূর্ণ টাইপ ইপিএ এবং ডিএইচএ রয়েছে। আমাদের শরীরে পরিমাণমতো উৎপন্ন হয় না এমন আরও খাদ্য উপাদান; যেমন ভিটামিন বি ১২, ভিটামিন ডি, সেলেনিয়ামে ভরপুর সার্ডিন মাছ।
ভিটামিন বি ১২
শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে ভিটামিন বি ১২। পাশাপাশি নার্ভাস সিস্টেমকে গোড়া থেকে সচল রাখে; যা ত্বকের সুস্থতায় দারুণ গুরুত্বপূর্ণ।
ভিটামিন ডি
ক্যালসিয়ামের মতো জটিল উপাদান মানবদেহ নিজ থেকে পুরোপুরি শোষণ করতে পারে না। এই কাজ করে ভিটামিন ডি। ক্যালসিয়ামের পূর্ণ সুবিধা নিতে সাহায্য করে শরীরকে।
বিশেষজ্ঞ কহেন
ডার্মাটোলজিস্ট শারমিন জাহানের সঙ্গে সার্ডিন নিয়ে আলাপে খানিকটা ভিন্ন সুর পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, সার্ডিন মাছের ত্বকে কিছু পুষ্টিগুণ অবশ্যই থাকতে পারে, কিন্তু এটিকে এখনই কোনো প্রমাণিত অ্যান্টি-এজিং ট্রিটমেন্ট বা মিরাকল স্কিন ফুড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সার্ডিন একটি অয়েলি ফিশ এবং এতে প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন বি ১২, ভিটামিন ডি এবং বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট থাকে। ত্বকে কোলাজেন ও অন্যান্য স্ট্রাকচারাল প্রোটিন থাকতে পারে। এসব পুষ্টি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ত্বকের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ও টিস্যু মেরামতের জন্য পরোক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ডা. শারমিনের মতে, কোনো খাবারে কোলাজেন বা ওমেগা-৩ আছে মানেই সেই খাবার সরাসরি ত্বকের জন্য উপকারী, এমনটা বলা যায় না। খাবারের মাধ্যমে যে প্রোটিন বা কোলাজেন গ্রহণ করা হয়, শরীর সেটি সরল খাদ্যে ভেঙে পুষ্টিগুণ শোষণ করে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন টিস্যুতে ব্যবহার করে। তাই সার্ডিন খেলেই মুখের উজ্জ্বলতা বেড়ে যাবে, এই দাবি খানিকটা অবৈজ্ঞানিক তো বটেই!
এ ক্ষেত্রে যদি মাছটি নিরাপদভাবে রান্না করা হয় এবং অন্য কোনো বিধিনিষেধ না থাকে, তাহলে পুষ্টির ভালো উৎস হতে পারে সার্ডিন। ত্বকের সুস্থতার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি, ঘুম, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা এবং নির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক যত্ন ত্বক ও শরীর—উভয়ের জন্য জরুরি।

 শ্রেয় চৌধুরী
মডেল: অর্মিতা
মেকওভার: পারসোনা
ছবি: জিয়া উদ্দীন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top