লেবেল অ্যালার্ট I ক্লোথিগো
শহরে নতুন ক্লদিং ব্র্যান্ড। দুজন মিলে একত্র যাত্রা। উদ্যোক্তারা শিল্পমনা। তরুণ। প্রমাণ মেলে পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন—সবেতে
পোশাকে আরাম খুঁজে বেড়ান যারা, তাদের জন্য ক্লোথিগো নিয়ে এসেছে জেন-ওয়্যার নামের নতুন পোশাক; যেটা আসলে লুঙ্গির আদলে বানানো। এই নতুন রকম পোশাকের পেছনে আছেন দুজন আরামপ্রিয় মানুষ মোরশেদ মিশু ও মামনুন। মামনুন আবার প্রিয়জনের কাছে পরিচিত দ্য শিক্ষিত দরজি নামে।
আরামদায়ক হওয়ায় লুঙ্গি পরতে পছন্দ করেন অনেকে। এই বিষয়কে একটা কমফোর্টেবল অ্যাটায়ারে নিয়ে এসেছে ক্লোথিগো। ১৫ বছর ধরে গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং টেকনোলজি নিয়ে কাজ করছেন ক্লোথিগোর ফাউন্ডার মামনুন। তবে এর শুরুটা বেশ আগে হলেও জেন-ওয়্যারের পেছনের গল্পের শুরুটা হয়েছে এই বছরের আগস্ট থেকে। মোরশেদ মিশুর ১০০ ফিট বাই ৪২ ফিটের একটা মেসির হ্যান্ডপেইন্টে কাজ করার সময় স্পন্সর হিসেবে যুক্ত ছিলেন মামনুন। সেখান থেকে পরে জেন-ওয়্যারের আইডিয়া।
পোশাক মানুষকে কতটা স্বস্তি দিতে সক্ষম, তা বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। সেখানে নকশা আর ফ্যাব্রিক; দুই-ই সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি ছাড়া অন্যটি ফিকে। আবার একেকজনের দেহের গঠন আলাদা। সবার জন্য এক নকশা উপযুক্ত হবে—এমন কোনো সর্বজনীন সূত্র নেই। তাই প্রত্যেকের উচ্চতা-গঠন মাথায় রেখে মেলাতে হয় আরামের অঙ্ক। পাশাপাশি ম্যানুফ্যাকচারিংটাও গুরুত্বপূর্ণ। ডেভেলপমেন্ট স্যাম্পলিং, সেকেন্ড সাবমিশন, রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট—সবকিছুর পাশাপাশি সেলাইয়ের সময় কতখানি যত্ন ঢালা হচ্ছে কাপড়ে, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই এসব মাথায় রেখে জেন-ওয়্যারের ডিজাইন করা হয়েছে। মায়া মিশিয়ে মিনিমাল ডিজাইনের এই নতুন পোশাক তৈরি করা হয়েছে। ওজনে বেশ হালকা এবং নকশায় ঢিলেঢালা। শুরুটা আপাতত বেসিক লে-আউটের একটা সিরিজ নিয়ে কাজ হলেও পরে আরও দুটি মজার সিরিজ ঝুলিতে আছে তাদের। অল্পশিল্প এবং ভরপুরশিল্প নামের এই দুই সিরিজে বিভিন্ন ডিজাইনের ভ্যারিয়েশন পাওয়া যাবে।
অল্পশিল্প সিরিজে বেসিক কালারের ওপর কিছু হালকা ডিজাইন যুক্ত হবে। এসব ডিজাইনের কোনোটা থাকতে পারে কলারে, হাতায় বা পেছনের অংশটাতে।
ভরপুরশিল্পতে এসে এই ডিজাইনগুলো আরও ভরাট হবে। ব্যাক এরিয়ার গোটা অংশই রূপ নিতে পারে একটা ক্যানভাসে। থাকতে পারে পেইন্টিং। আবার কোনো ডিজাইন এক হাতা থেকে শুরু করে আরেক হাতায় গিয়ে শেষ হতে পারে। অর্থাৎ, মজার মজার ব্যতিক্রমী নকশা খুঁজে পাওয়া যাবে সেখানে। অলংকরণেও দেখা যাবে মুনশিয়ানা। ডিজাইনের পাশাপাশি কাপড়ের ওরিয়েন্টেশনেও মডিফিকেশন আসতে পারে—জানালেন দুই উদ্যোক্তা।
আরাম-আয়েশের এই কাপড়গুলো পেতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন ক্লোথিগোর ওয়েবসাইট অথবা ফেসবুক পেজে।
শ্রেয় চৌধুরী
ছবি: অগ্নিলা আহমেদ অরণী
