এক পড়ন্ত বিকেলের আড্ডায় বন্ধুরা মিলে ভেবেছিলেন এমন একটি জায়গার কথা, যেখানে বসে গল্প করা যাবে নিশ্চিন্তে। একটি উন্মুক্ত ও প্রশান্ত পরিসর আর খোলা জানালা। নিশ্বাস নেওয়া যাবে প্রাণভরে। বাংলাদেশি পোশাক ব্র্যান্ড এসো ঠিক তেমনই একটি গল্প, যেখানে উদ্যোক্তা হওয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল একসঙ্গে সুন্দর কিছু করার ইচ্ছা। ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে দলছুট হয়ে পড়েন দুজন। কিন্তু বাকি দুজন হাল ছাড়তে নারাজ। তাদের একজন সুপরিচিত ফ্যাশন ডিজাইনার ও ফ্যাশন হাউস বিবিআনার সহপ্রতিষ্ঠাতা লিপি খন্দকার এবং অপরজন নিউজপোর্টাল প্রাণের বাংলার প্রকাশক ও সম্পাদক আবিদা নাসরিন কলি।
ব্যবসা থেকে লভ্যাংশের অর্ধেক, সমাজসেবায় ব্যয় করার প্রত্যয় নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন এসো। ভাগ্যক্রমে উত্তরায় একটি ফ্ল্যাটও পেয়ে যান। নিজেদের কল্পনার মতো করেই সাজান সেটি। এক শান্ত, নান্দনিক ও আত্মিক স্বস্তির পরিবেশ। ছোট একটি কফি কর্নার। আর বড় খোলা জানালা, যেখান থেকে দেখা যায় পুরো আকাশ। অনলাইনেও দ্রুত জনপ্রিয়তা পেতে থাকে তাদের এই উদ্যোগ।
এসোর নকশায় রয়েছে লিপি-কলির ব্যক্তিগত রুচির প্রভাব। দুজনেরই পছন্দ সারল্য, যা ধীরে ধীরে ব্র্যান্ডের নিজস্ব পরিচয়ে পরিণত হয়েছে।
লিপি খন্দকার বললেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বন্ধুত্ব। আমি ছিলাম চারুকলায় আর কলি আপা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। ডিজাইনের ব্যাপারে তিনি সব সময় আমাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেন।
তিনি আরও বললেন, ‘এসো আমাদের দুজনেরই প্রতিষ্ঠান। এটি আমাদের কাছে বন্ধুত্বের প্রতীক। এসোর লাভের একটি অংশ যায় মানবসেবায়। বিশেষ করে ক্যানসার রোগী এবং সেই সব মধ্যবিত্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি, যারা প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও কারও কাছে সাহায্য চাইতে পারেন না। এসোর গল্প তাই শুধু একটি পোশাক ব্র্যান্ডের নয়; বরং এমন এক বন্ধুত্বের; যেখানে আস্থা, স্বাধীনতা আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ব্যবসার সবচেয়ে বড় মূলধনে পরিণত হয়েছে।’
I ক্যানভাস অনলাইন
ছবি: সংগ্রহ
