বাঙালির শাড়ি পরার ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের। আমাদের পূর্বপুরুষ, যারা ‘শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পী’ নামে কিংবদন্তি হয়ে আছেন, তাদেরই নান্দনিক সৃজনশীলতার প্রকাশ এতে ঘটেছে। পরিধেয় হিসেবে শুধু পরার বিশেষ পদ্ধতি কিংবা এর বৈচিত্র্যের সঙ্গে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের সামঞ্জস্যপূর্ণ মেলবন্ধনে নয়, নারীর সহজাত দেহসৌন্দর্যে স্বকীয়তা সৃষ্টিতেও এর মৌলিকতা ও শ্রেষ্ঠত্ব নিহিত। সবচেয়ে বিস্ময়কর, পৃথিবীর যে কয়টি প্রাচীন পোশাক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে, বাঙালির শাড়ি সেগুলোর একটি। বহু আগে থেকে বাংলাদেশের কয়েকটি অঞ্চলে তাঁতে শাড়ি বোনার প্রচলন ছিল এবং সেই চর্চা এখনো চলছে; এগুলোর মধ্যে টাঙ্গাইলের শাড়ি গুণে ও মানে আজও অনন্য। আমাদের ঐতিহ্য আর গৌরবের অতুল্য সম্পদ এই বিশেষ বয়নশিল্প। তাঁতে বোনা শাড়ির জমিনে লুকিয়ে থাকে বহমান জীবনের সুখ-দুঃখ, আশা-নিরাশা, আনন্দ-বেদনা আর প্রজন্ম-পরম্পরা ও বিবর্তনের ইতিহাস। তাঁতের ছন্দোবদ্ধ চলনে আবর্তিত মাকুর মৌতাতবোনা আওয়াজে কান পেতেছেন বাংলাদেশের কারুশিল্পের অনুসন্ধিৎসু গবেষক, লেখক ও ডিজাইনার চন্দ্র শেখর সাহা

জ্যাকার্ড বুটি শাড়ি: রতন বসাক
আর্য সমাজে বস্ত্রবয়নের সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবীরা তন্তুবায় নামে পরিচিত ছিলেন। কথিত আছে, এই তন্তুবায় সম্প্রদায় সিন্ধু নদের তীর থেকে ক্রমে সরে আসতে আসতে একসময় মুর্শিদাবাদে বসতি স্থাপন করে। অবশ্য সম্প্রদায়টির একটা বড় অংশ আবার কলকাতা পত্তনের আগে সুতানুটি ও গোবিন্দপুরে বসবাস শুরু করে। তারা বস্ত্রবয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন কি না, তা সঠিকভাবে জানা যায় না। তবে মুর্শিদাবাদে অবস্থানকারীরা বস্ত্রবয়ন পেশায় ছিলেন। তাদেরই একটা অংশ তৎকালীন পূর্ববঙ্গে নিজেদের শাখা ছড়ায়। এদের মুর্শিদাবাদ ছেড়ে আসার সঠিক কারণ জানা যায় না। অসমর্থিত একটি সূত্রমতে, ঢাকার নবাব এদের তৈরি কাপড় উপহার পেয়ে মুগ্ধ হন এবং নিজের রাজ্যে এই বয়নশিল্পীদের নিয়ে আসেন। যদিও এই তন্তুবায় সম্প্রদায় বা বসাকদের এ দেশে আসার গতিপথ আগের কারণকে সমর্থন করে না। তারা মুর্শিদাবাদ থেকে প্রথমে দিনাজপুর এবং পরে রাজশাহীতে আসেন। পরবর্তীকালে নতুন ঠিকানার সন্ধানে চলে আসেন কিশোরগঞ্জে। সেখানে কিছুসংখ্যক বয়নকর্মী থেকে গেলেও তাদের বড় অংশটা এসে ওঠে ঢাকার তাঁতীবাজারে। সেখানেও তারা স্থায়ী হননি। চলে যান ঢাকার অদূরে ধামরাই ও পার্শ্ববর্তী চৌত্থ গ্রামে। এই দুটি গ্রামেই মূলত তারা বসবাস শুরু করেন। কিন্তু এই জায়গাও তাদের স্থায়ী আবাসনের জন্য পছন্দ হয়নি। কাজেই নতুন ঠিকানার সন্ধানে তারা আবার পথে নামেন। জনশ্রুতি রয়েছে, স্থানীয় কলহই তাদের আরও একবার ঠাঁইনাড়া করে। পরিণতিতে ধামরাই আর চৌত্থ থেকে বসাকেরা চলে আসেন টাঙ্গাইলে। ধলেশ্বরীর অববাহিকায়। প্রথমে তারা এসে ওঠেন গাততলা গ্রামে। সে সময়ে পাথরাইল ও চণ্ডীর মাঝে ছিল ক্ষীণতোয়া নদী। এর চর পরিচিত ছিল চরচণ্ডী নামে। এখানেই মূলত ধামরাই থেকে আসা বসাকেরা বসতি স্থাপন করেন স্থায়ীভাবে। চৌত্থ থেকে আসা বসাকেরাও কাছেপিঠে ঠিকানা করে নেন। এরপর তারা ছড়িয়ে পড়েন টাঙ্গাইলের বাইশ গ্রামে। বর্তমানে সেই তাঁতি সম্প্রদায় ছড়িয়ে আছে ৩০টি গ্রামে। এমনকি বসাকদের কাছ থেকে কাজ শিখে টাঙ্গাইলে মুসলমানরাও সম্প্রতি তন্তুবায় হয়ে উঠেছেন। ধামরাই থেকে আসা বসাকেরা ধামরাইয়া আর চৌত্থধ থেকে আসা বসাকেরা চৌহাট্টাইয়া বসাক নামে পরিচিত। অন্যদিকে, ধামরাইয়ে এখনো এরা থাকলেও পুরুষানুক্রমিক তন্তুবায় পেশায় তারা নেই। যদিও সামাজিক রীতির নানা সম্পর্ক তাদের মধ্যে রয়েছে আজও।
তন্তুবায় সম্প্রদায়

মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া
এই তন্তুবায় সম্প্রদায় সনাতন ধর্মাবলম্বী। তবে বর্তমানে তাদের আনুপাতিক সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে মুসলমানদের এই পেশায় আগ্রহের কারণে। আদতে ১৯৫৫ সাল থেকে মুসলমানরা টাঙ্গাইলের তাঁতবস্ত্রবয়নে সংশ্লিষ্ট হতে শুরু করেন। তাদের এই পেশায় আসার কারণ একাধিক। আসলে ভারত বিভাগের পূর্ব ও পরবর্তী সময়, এমনকি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদকেন্দ্রিক সাম্প্রদায়িক টানাপোড়েনের অপ্রীতিকর বাস্তবতায় তাঁতিদের খুব বড় একটা অংশ ভারতে চলে যায়। ফলে এই শিল্পে সৃষ্ট আকস্মিক শূন্যতাই মুসলমানদের তাঁতি হয়ে ওঠার অনুঘটক হয়। অন্যদিকে এই অঞ্চলে পেশা বলতে ছিল কৃষিকাজ ও ঘোড়ার গাড়ি চালানো। নতুন পেশায় নিজেদের সম্পৃক্ত করতে সেই সময়ের বিকল্প পেশার অপ্রতুলতা তাদের এই কাজে আগ্রহী করে। তবে চিত্রটা ক্রমেই বদলে যাচ্ছে বর্তমানে বাজারদরের চেয়ে তাঁতিদের মজুরি কম বলে এবং বিকল্প পেশার নতুন নতুন দিক উন্মোচিত হওয়ায় কারণে। মুসলমান তাঁতি এখন ৬০ শতাংশ বলে জানা গেছে।
বর্তমানে টাঙ্গাইলের তিন থানার ৩০টি গ্রামে তাঁতের কাজ হয়ে থাকে। এই গ্রামগুলো হলো কালিহাতী থানার সহদেবপুর, বাংরা, কোকডহরা, উতরাইল, টেরকি ও পাঠন। টাঙ্গাইল সদর থানার সুরুজ, বড়রিয়া, কোসাই জোয়াইর, নেগি জোয়াইর, ভুকতা, ভাতকুড়া, তারোটিয়া, বাজিতপুর, বেড়াই ও গাড়াইল। আর দেলদুয়ার থানার পাথরাইল, চণ্ডী, নলসোধা, ভাবকি, চরপাড়া, মঙ্গলহোড়, চীনাখোলা, বড়টিয়া, দেওজান, গাদতলা, টেগুড়ি, বান্দাবাড়ি ও ডুমুরিয়া। উল্লেখ্য, টাঙ্গাইলের কিছু কিছু গ্রাম বিশেষ বিশেষ শাড়ি বোনার জন্য বিখ্যাত।
রকমফের

ইক্কত: রাধেশ্যাম নীল কমল বসাক
টাঙ্গাইলের আদি শাড়ি বলতেই সুতি শাড়ি। মিলের সুতা আসার আগে তা অবশ্যই হাতে কাটা সুতায় বোনা হতো। বাঙালির সামাজিক রীতিনীতি অনুযায়ী টাঙ্গাইলে আগে তিন ধরনের শাড়ির প্রচলন ছিল। বিধবাদের জন্য থান শাড়ি, পুরুষের জন্য চুড়িপাড় ধুতি আর সধবা ও কুমারীদের জন্য নকশাপাড় এবং বুটি শাড়ি। শাড়ির সামগ্রিক পরিকল্পনা, বয়নকৌশলের সঙ্গে আবহাওয়া উপযোগী ব্যবহারের স্বচ্ছন্দের কারণে সেই সময়ে ভারতবর্ষজুড়ে এই সুতি শাড়ির চাহিদা ছিল অকল্পনীয়। পূর্ববর্তী সময়ে ১২ থেকে ১৫ ঝাপের (শাফ”ট) কৌশলে নকশাগুলো শাড়ির দুই পাড়ে বোনা হতো। আঁচলে তিন থেকে চারবার হাইসা অর্থাৎ মোটা ও চিকন লাইন বুনে শাড়ি বোনা শেষ করা হতো। বুটি শাড়ি দুই ঝাপে তৈরি হতো; হাতের সাহায্যে টানার সুতার গণনার মাধ্যমে তাঁতির সৃজনমান নকশার সঙ্গে গণনার সাহায্যে শাড়ির জমিনে বুটির আকৃতিগুলো বয়নের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে মূর্ত হতো। প্রকৃতির অনুপ্রেরণায় জ্যামিতিক নকশাগুলোর সঙ্গে জামদানি নকশার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। শাড়ি তৈরির সময়কাল নির্ধারিত হতো বুটির মোটিফের জটিলতা ও শাড়িতে রুটির পরিমাণের ওপর। সেই সময়ে টাঙ্গাইল শাড়ি সবার কাছে টাঙ্গাইল বিটি শাড়ি নামে বিশেষভাবে পরিচিত ছিল। সেখানকার বসাকেরা একসময় হাতে কাটা ৩০০-৪০০ কাউন্ট সুতায়ও কাপড় বুনেছেন। এখনো জীবিত অশীতিপর তাঁতশিল্পী মনমোহন বসাক বুনছেন ২৫০ কাউন্ট সুতায়। এ কথা তার কাছ থেকে শোনা।
টাঙ্গাইলে একসময় আমদানি হয়ে আসা র সিল্ক সুতায় শাড়ি বোনা হতো এই শাড়ি পরিচিত ছিল মসলিন বলে। পাকিস্তান আমলেও ছিল এই মসলিন শাড়ি। স্বচ্ছতার কারণেই সম্ভবত এই পরিচিতি। আশির দশকের শুরুতে নতুন সংযোজন হাফসিল্ক। সিল্কের সঙ্গে সুতি সুতার সহাবস্থানে এই কাপড় বোনা শুরু হয়। নব্বই দশকে আসে ডাবল জ্যাকার্ড বুনন। প্রথমে সিল্কে ও পরে সুতিতে। জ্যাকার্ডে কৌশলগত প্রয়োগের বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়ে থাকে। সেদিক থেকে বলতে হয়, জ্যাকার্ড বুননের কৌশল অপরিবর্তিত রয়েছে। কিন্তু এতে নকশা আগে শুধু পাড়ে হতো, এখন তা ছড়িয়েছে জমিন ও আঁচলে। এতে করে শাড়ি আরও দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। তাঁতিদের সৃজনশীলতার সঙ্গে কারিগরি কৌশলের অপূর্ব মেলবন্ধন তাঁতজাত এই শিল্পকর্ম ভোক্তাদের মুগ্ধ করে চলেছে প্রতিদিন। মজার কথা, টাঙ্গাইল শাড়িতে কখনোই ব্লাউজ পিস ছিল না। এটি এসেছে সময়ের প্রয়োজনে। প্রথমে বাতিল শাড়ি কেটে ব্লাউজ পিস করা হতো, এরপর এটি শাড়ির সঙ্গে বোনা শুরু হয়। অর্থাৎ ১২ হাত শাড়ি তৈরি হলো ১৪ হাত দৈর্ঘ্যে। কৌশলগত দিক থেকে প্রধানত শাড়ি তিন ধরনের—ভাইটাল, জ্যাকার্ড (নকশাপাড়) ও বুটি। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সংযোজনের মাধ্যমে টাঙ্গাইল শাড়িতে নতুন নতুন রূপান্তর ঘটেছে আমাদের স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে। এই বিষয়গুলোর সঙ্গে উপকরণের ব্যবহারবিধির বহুমুখিতার বদৌলতে আজ টাঙ্গাইল শাড়িতে ‘ধরনের’ বৈচিত্র্য তৈরি হয়েছে অনেক। ফলে, ক্রেতার অন্তহীন নতুনত্বের প্রতি আগ্রহ প্রশমিত হলে তা সময়ের বহমানতায় উৎপাদকদের জন্য শাপে বরের মতোই ধরা দিয়েছিল।
শাড়ি তৈরির প্রক্রিয়া

পিটলুম
শাড়ি তৈরির পুরো বিষয়টি কায়িক শ্রমনির্ভর। প্রয়োজনীয় ধাপগুলো তাঁতিদের হাতে ধারাবাহিকভাবেই কার্যকর হয়ে থাকে। ধাপগুলো—১. ডিজাইন ও কালার কম্বিনেশন, ২. প্রসেসিং বা সুতা ধোলাই করা, ৩. সুতা রং করা, ৪. মাড় দেওয়া (পাইরি করা), ৫. নাটাই ও নলি করা, ৬. টানা হাঁটা, ৭. টানা প্যাঁচা (বা নরদে সুতা ভরা), ৮. সানা তৈরি, ৯. সানা প্যাচা (বও ভরা), ১০. তাঁতে জোড়া, ১১. জ্যাকার্ড কৌশলের সংযুক্তি (জ্যাকার্ডের মাধ্যমে নকশার সংযোজন), ১২. শাড়ি বোনা শুরু, ১৩. মাড় দেওয়া (খিল জল দিয়ে মাড় দেওয়া। কাপড় জল দিয়ে ভিজিয়ে খইয়ের মাড় দেওয়া। আর ১ খিল—দেড় হাত), ১৪. শাড়ি কেটে তোলা, ১৫. প্রয়োজনে পলিশ তোলা।
তাঁতের নানা অংশ
কাঠের তৈরি যে যন্ত্র দিয়ে তাঁতিরা এই শিল্পসুষমাময় পণ্য তৈরি করে থাকেন, সেই তাঁতকে নেড়েচেড়ে দেখলে ব্যবহৃত সরঞ্জামগুলোর পরিচিতি মিলবে সহজে। এই যেমন—১. নাতা (কাপড় পেঁচানো থাকে), ২. নরদ (সুতা পেঁচানো), ৩. ফাইসেল [এর তিনটি ভাগ— ক. দোপ্তি (হাতে থাকে), খ. পাখা (দুদিকে দুটো) ও গ. সানা (ভেতরে থাকে)], ৪. মাকু (মাকুর ভেতর থাকে নলি। আর নলিতে পেঁচানো থাকে সুতা), ৫. প্যাঁচা বা নরদ (টানা পেঁচানো থাকে), ৬. জ্যাকার্ড (হুক, পাতা, ডাঙ্গি ও কাগজ কাটা), ৭. প্যাডেল বা পারাপারি, ৮. ঝাঁপ বা শাফট, ৯. ধনুক বা মতিকাটা, যা এখনকার বুননপদ্ধতিতে নেই; ১০. সানা (বর্তমানে সানা তৈরি হয় স্টিল দিয়ে। আগে ছিল বাঁশের), ১১. বও (আগে বও ছিল সুতার। বর্তমানে তৈরি হচ্ছে নাইলন কিংবা জিআই তার দিয়ে)।
উপকরণ

নলি করা
উপকরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষামূলক ব্যবহার ও সহজপ্রাপ্যতা টাঙ্গাইল শাড়ির বৈচিত্র্য তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে সব সময়। অতীতে উপকরণ বলতে ছিল শুধু সুতি সুতা। সময়ের ধারায় ক্রমান্বয়ে যুক্ত হয়েছে র সিল্ক, সফট সিল্ক, সুতি, সুতি খদ্দর, খাদি সিল্ক বা এন্ডি, জুট, তসর, পালেক্স, পলিয়েস্টার, কৃত্রিম সিল্ক, নাইলন, গ্যাস সিল্ক (মার্সেরাইজড কটন), জরি, আর্ট সিল্ক ইত্যাদি।
বর্ণের বিন্যাস
শাড়ি তৈরির আগে রঙের কম্বিনেশন কী হবে, তা স্থির করে থাকেন প্রধান তাঁতি, উদ্যোক্তা অথবা মহাজন নয়তো ডিজাইনার। এ ক্ষেত্রে ডিজাইনারের সম্পৃক্ততা বেশ কম। অন্তত বাংলাদেশের সামগ্রিক শাড়ি উৎপাদনের দিক থেকে।
ঋতু, উৎসব এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক দিবস মাথায় রেখেই আসলে শাড়িতে রঙের বর্ণবিন্যাস করা হয়। এ ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশের ডিজাইনের অনুসরণ এবং অনুকরণ ঘটে থাকে। তবে একটা কথা বলতেই হয়, বিপণনের নতুন সম্ভাবনায় রঙের ভূমিকা আসলে উদ্যোক্তা ও ডিজাইনারের মিলিত নির্দেশনার সুফল। তবে ক্রেতার সন্তুষ্টিও একটি পরোক্ষ প্রভাব তৈরি করে থাকে। অতীতে নির্দিষ্ট কয়েকটি রঙের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতেন শাড়ির পরিকল্পনাবিদ তাঁতিরা। পরবর্তী ৩০ বছরে ফ্যাশন-উদ্যোক্তা ও ডিজাইনারদের প্রভাবে অপ্রচলিত রঙের কম্বিনেশন, একই রঙ থেকে শেডের তারতম্যের মাধ্যমে অন্য রংগুলোর ব্যবহার এবং একই শাড়ির জমিনে বিন্যাসবৈচিত্র্য, গ্রুপ রঙের কম্বিনেশন, একই শাড়িতে কপার, সিলভার, গোল্ডেন জরির ব্যবহার ইত্যাদি সৃজনক্ষম বর্ণিল সম্ভার তৈরির প্রণোদনায় এক নতুন ধারার শাড়ি তৈরিতে তাঁতিরা সচেষ্ট থেকেছেন। একই ডিজাইনের শাড়িতে কয়েক ধরনের কম্বিনেশনের কারণে সমন্বয়ের কাজটিও এক সীমাহীন সম্ভাবনার পরিসর হিসেবে তাঁতিদের কাছে আজ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণীয় হয়েছে।
সামগ্রিক পরিকল্পনা

সিল্ক ভাইটাল: রঘুনাথ বসাক
শাড়ি তৈরির সামগ্রিক পরিকল্পনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ। কাজটি মূলত প্রধান তাঁতিই এতকাল করে এসেছেন। এখনো করছেন। আর তা হয়ে থাকে বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়ায় যারা সরাসরি জড়িত, তাদের মাধ্যমে কিংবা উৎপাদকের সিদ্ধান্তে। তবে লিখিত বা আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রধান তাঁতির কাছে পৌঁছায় মোট উৎপাদনের মাত্র ৫ শতাংশ।
ধরন অনুযায়ী নকশার প্রচলিত নাম রয়েছে। তাঁতিরা একই নকশাকে বিভিন্ন নামেও শনাক্ত করে থাকেন। মহাজন অথবা প্রধান তাঁতি কিংবা নকশার মাস্টার কারিগর প্রতিটি ধরনের একটা নাম দিয়ে থাকেন। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে নকশাভেদে নির্দিষ্ট নামের প্রচলন করে থাকেন তাঁতিরা। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত নকশা বা মোটিফগুলোর ছবি না দেখেই শুধু নামের মাধ্যমে তাঁতিরা তা শনাক্ত করতে পারেন সহজে। জমিন আর পাড়ের নকশারও রয়েছে আলাদা নাম। এমন কিছু প্রচলিত নকশার নাম এখানে উল্লেখ করা হলো।
জমিনের নকশা: কল্কা, নাতা, চূড়া, টেম্পল, আম, পদ্ম, মাছকাঁটা, ভুমরি, চোচা, দাঁত, চাটাই, শসাবীচি, ফুলঝাড়, তেছরি, ভাসাপদ্ম, শাপলাবুটি, বলবুটি, মাছিবুটি, সূর্যবুটি, চমচমবুটি, কলমীবুটি, বরফি, সাতপাতা পদ্ম, গোল্লাবুটি, পালকিবুটি, প্রজাপতিবুটি, ময়ূরবুটি ইত্যাদি।
পাড়ের (স্থানীয় উচ্চারণে পাড়কে পাইর বলা হয়) নকশা: গোলাপপাইর, পালকিপাইর, পাছাপাইর, তিনপাইর, রানপাইর, কাঁচাইপাইর, লতাপাইর, কলসিপাইর, প্রজাপতিপাইর, মহিষপাইর, ময়ূরপাইর, দাঁতপাইর, ধানছড়াপাইর, কাঁকইপাইর, কলকাপাইর ইত্যাদি। চমচমবুটি, কলমীবুটি, বরফি, সাতপাতা পদ্ম, গোল্লাবুটি, পালকিবুটি, প্রজাপতিবুটি, ময়ূরবুটি ইত্যাদি।
পাড়ের (স্থানীয় উচ্চারণে পাড়কে পাইর বলা হয়) নকশা: গোলাপপাইর, পালকিপাইর, পাছাপাইর, তিনপাইর, রানপাইর, কাঁচাইপাইর, লতাপাইর, কলসিপাইর, প্রজাপতিপাইর, মহিষপাইর, ময়ূরপাইর, দাঁতপাইর, ধানছড়াপাইর, কাঁকইপাইর, কলকাপাইর ইত্যাদি।
বিশেষত্ব

শাড়িতে মাড় দেয়া
গুণগত মানে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য শাড়ির চেয়ে টাঙ্গাইল শাড়ি শ্রেয়। নাটাই পদ্ধতি অনুসরণ করে কাপড় বোনার কারণে স্রিঙ্কেজ থাকে না বললেই চলে। এই পদ্ধতির কারণে শাড়ি যত ধোয়া হয়, ততই এর জেল্লা বাড়ে। হয়ে ওঠে আরামদায়ক। এ জন্য টাঙ্গাইল শাড়ি অন্য যেকোনো শাড়ির চেয়ে আলাদা ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। তা ছাড়া আবহাওয়াও একটা বড় ফ্যাক্টর। এখানকার নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়াই শাড়ি তৈরির জন্য আদর্শ। এ জন্যই টাঙ্গাইল শাড়িকে পশ্চিমবঙ্গের নবদ্বীপ বা ফুলিয়ার শাড়ির চেয়ে এগিয়ে রাখেন তাঁতিরা। এই আবহাওয়াই হয়তোবা নানা জায়গা ঘুরে শেষ পর্যন্ত টাঙ্গাইলেই থিতু করেছিল বসাকদের।
পশ্চিমবঙ্গের ফুলিয়ার কারিগরদের শাড়ির সঙ্গে আমাদের তৈরি শাড়ির পার্থক্য মূলত উপকরণের সূক্ষ্মতা। ওরা মিহি সুতা দিয়ে বোনে বলেই ফিনিশিং ভালো। তবু বাংলাদেশের শাড়িকে এগিয়ে রেখেছেন টাঙ্গাইলের তাঁতিরা। এ ক্ষেত্রে আবহাওয়াকে প্রধান একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তাঁরা।
তাঁতের বিবর্তন

বুটি শাড়ি: সুশীল বসাক
টাঙ্গাইলের তাঁতিরা বরাবরই ব্যবহার করেছেন পিটলুম। পিটলুমে দুটো মূল লিভার ছাড়াও ১৫টি অতিরিক্ত প্যাডেলের সাহায্যে জটিল নকশা করা হয়। আর এর নিয়ন্ত্রণ থাকে দুই পায়ে। বর্তমানে পিটলুম অস্তিত্বসংকটে ভুগছে। বাংলাদেশে চিত্তরঞ্জন তাঁত এসেছে প্রায় ২০ বছর আগে। শুরুতে চিত্তরঞ্জন তাঁতে শুধু মোটা শাড়ি (সুলেখা, জুয়েল) বোনা হতো। কম দামি শাড়ির চাহিদার কারণে তাঁতিরা ব্যাপকভাবে এই তাঁত ব্যবহার করছেন। চিত্তরঞ্জন তাঁতের দিকে নব্য তাঁতিদের ঝোঁক বেশি। পিটলুম ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। ২০০১ সালের জরিপ অনুযায়ী, টাঙ্গাইলে পিটলুম ছিল ২৭ হাজার ৬৮২টি। বর্তমানে এর সঠিক পরিসংখ্যান জানা যায় না। তবে প্রতিবছর দ্রুত হারে কমছে ঐতিহ্যবাহী এই তাঁত। যার হার কমপক্ষে ৫ শতাংশ হবে। উল্লেখ্য, বুননে জ্যাকার্ড পদ্ধতি সংযোজনের কৃতিত্ব ব্রিটিশদের। ব্রিটিশ আমলে ন্যাশনাল কোম্পানিই এর উদ্ভাবক।
এদিকে, আশঙ্কাজনক হলেও সত্য, এরই মধ্যে টাঙ্গাইলে পাওয়ারলুমের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। ফলে এখানকার আদি ও ঐতিহ্যবাহী ভাইটাল শাড়ি এখন পাওয়ারলুমেই তৈরি হচ্ছে। প্রয়োজন যদিও চাহিদাকে নির্ধারণ করে না, নিয়ন্ত্রণ করে। তবু মূল্যমান বা ক্রয়ক্ষমতাও প্রয়োজনের পরিমাণকে প্রভাবিত করে। পিটলুমে তৈরি শাড়ির আদলে চিত্তরঞ্জনে শাড়ি তৈরি করা সম্ভব এবং আজ তা তৈরিও হচ্ছে। কিন্তু গুণগত বিবেচনায় চিত্তরঞ্জনে বোনা শাড়ির মান সন্তোষজনক নয়। যদিও এর সহজ পদ্ধতি উৎপাদনমূল্যকে নিম্নগামী করেছে এবং তাতে উৎপাদন ও মুনাফা বেশি। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা, তার সঙ্গে তাঁতিরাও এতে প্রলুব্ধ হচ্ছেন। এই পরিবর্তনের কারণে গুণগত মানের অবনতি হয়েছে।
পরিসংখ্যানের জটিলতা
বাংলাদেশে মোট বস্ত্র চাহিদার ৪৭ শতাংশ পূরণ করে টাঙ্গাইল। বর্তমানে এখানকার মোট উৎপাদনের ৪০ শতাংশ ভারতে রপ্তানি হয়, আর ৬০ শতাংশ দেশের বাজারে বিক্রি হয়। প্রতি মাসে এখানে উৎপাদিত শাড়ির সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার পিস। এ ছাড়া রয়েছে নতুন ভাবনার পণ্য সালোয়ার-কামিজ ও পাঞ্জাবির কাপড় এবং দোপাট্টা। আর গড়ে প্রতি মাসে সুতা লাগে অন্তত ৮০ হাজার পাউন্ড।
অন্যদিকে এই পেশায় এখন নিয়োজিত কয়েক লাখ নারী-পুরুষ। আসলে পেশাটা পারিবারিক। এখানে পরিবারের সবাই কোনো না কোনোভাবে জড়িত। ২০০১ সালের হিসাব অনুযায়ী এই শিল্পে নিয়োজিত পুরুষের সংখ্যা তিন লাখের বেশি। মহিলা এক লাখের কাছাকাছি আর অপ্রাপ্তবয়স্কদের সংখ্যা অর্ধলাখ। টাঙ্গাইলে মহিলা তাঁতির সংখ্যা বর্তমানে নগণ্য। কারণ, এ পেশা শ্রমসাধ্য, যা নারীর শারীরিক কাঠামোর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তবে তাঁতশিল্পের সঙ্গে নারীর সম্পৃক্ততা ওতপ্রোত। কারণ, নলি, ববিন, নাটাই করে মেয়েরা। পরিবারভিত্তিক সম্মিলিত কর্মপ্রক্রিয়ায় বাড়ির মহিলাদের অংশগ্রহণ এখানকার ঐতিহ্যের ধারাকেই তুলে ধরে।
মূল্যমানের মূল্যায়ন

বালুচরি: হরেন্দ্রনাথ বসাক
বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের টাঙ্গাইল শাড়ির উৎপাদন মূল্যে দৃষ্টিপাত করা যেতে পারে। তবে সুতার দামের যা ঊর্ধ্বগতি, তাতে এই বাস্তবতা কত দ্রুত বদলাবে, তা বলা দুষ্কর।
ভাইটাল শাড়ি- সুতি: ৪০০-৯০০ টাকা, সিল্ক: ২৮০০-৩০০০ টাকা
বুটি শাড়ি- সুতি: ১০০০-৫০০০ টাকা, সিল্ক: ৩০০০-১৫০০০ টাকা জ্যাকার্ড শাড়ি- সুতি: ৫০০-২০০০ টাকা, সিল্ক: ২৪০০-৮৫০০ টাকা, হাফ সিল্ক: ১৪০০-২৫০০ টাকা, চোষা সিল্ক: ২০০০-৩৫০০ টাকা, তসর ৩০০০-৮০০০ টাকা, জুট: ২৫০০-৫০০০ টাকা।
কাটিং জামদানি শাড়ি- সুতি: ১০০০-২০০০ টাকা, সিল্ক: ২২০০-৪০০০ টাকা।
নিজস্ব উৎসব
উৎসব ও অনুষ্ঠান তাঁতিদের সংস্কৃতিকে পরিচিত করে অন্যভাবে। তবে এখানকার বসাক সম্প্রদায়ের একেবারে নিজস্ব কোনো উৎসব নেই। অন্য কারুশিল্পীদের মতো তারাও বিশ্বকর্মাপূজা করে থাকেন। পাশাপাশি বার্ষিক পূজা আর নামসংকীর্তন মহোৎসব উদ্যাপনও তাদের সংস্কৃতির অংশ। যদিও এসব পূজা বা অনুষ্ঠানে সব ধর্মের মানুষের আপ্যায়নে কোনো বাধা থাকে না।
প্রজন্ম পরম্পরায়
এই শিল্পে প্রজন্মান্তর-প্রক্রিয়া একে আগামীতে চলিষ্ণু রাখার পূর্বশর্ত, যা প্রাচীনকাল থেকে ছিল। সেই সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে আর্থসামাজিক বাস্তবতার কারণে। অন্য পেশায় শ্রমের তুলনায় উপার্জন এই কাজের চেয়ে বেশি। ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে পারিবারিক পেশার আকর্ষণ গৌণ হয়ে যাচ্ছে। তবে নতুন তাঁতি যে একেবারে তৈরি হচ্ছে না, তা নয়। সেটাও বাস্তবতার কারণে।
উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি, জীবনযাপনের চাহিদার কারণে ব্যয়ের সঙ্গে উপার্জনের অসংগতি পেশাজীবী তাঁতি সম্প্রদায়কে আজ প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। যত নান্দনিক গুণসম্পন্নই হোক না কেন, প্রতিদিনের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আর রূঢ় বাস্তবতাই শ্রমসাধ্য এই তাঁতশিল্পে তাদের আগ্রহে ভাটার সৃষ্টি করছে। নতুন কিশোর আর যুবকদের মানসিকতা বদলে গেছে, তাদের কাছে বংশপরম্পরাগত ঐতিহ্য কোনো আকর্ষণই সৃষ্টি করে না। একটা ছোট চায়ের দোকানের ব্যবসা, শহরে গার্মেন্টস শ্রমিকের কাজ অথবা ভ্যান চালানো কিংবা বিদেশের শ্রমবাজার তার কাছে অনেক আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
সম্মাননা ও স্বীকৃতি

সুতি ভাইটাল: রঘুনাথ বসাক
টাঙ্গাইলে রয়েছে দ্য টাঙ্গাইল বসাক সম্মিলনী। এর প্রতিষ্ঠা ১৯৪২ সালে। শুরু থেকে প্রতিবছর তাঁতশিল্পীদের স্বীকৃতি জানিয়ে আসছে এই সংগঠন। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পী পুরস্কার, শীলু আবেদ কারুশিল্প পুরস্কার, অন্যদিন-বেক্সি ফ্যাব্রিকস আজীবন সম্মাননা, সাপ্তাহিক ২০০০-র শাহাদত চৌধুরী আজীবন সম্মাননা, বিসিক পুরস্কার, কে ক্র্যাফটের মুক্তিযোদ্ধা তাঁতশিল্পী সম্মাননা, রঙ-এর রঞ্জনশিল্পী সম্মাননাসহ নানা স্বীকৃতি বিভিন্ন সময়ে তাঁতি, নকশামাস্টার, রঞ্জনশিল্পীদের অর্জনস্মারক।
শেষ কথা
বাঙালি এবং শাড়ি পরে এমন অন্য জাতিগুলোর মধ্যে ভবিষ্যতের নারীদের কাছে আধুনিক ফ্যাশনের সামাজিক প্রেক্ষাপটে শাড়ির ভূমিকা কী হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে আশা করা বাহুল্য হবে না, আমাদের নিজস্ব পোশাক-সংস্কৃতির বিকাশ ও চর্চায় আগামী দিনগুলোতে শাড়ির ভূমিকা থাকবে নিশ্চয়। টাঙ্গাইল শাড়ির যে সহজ সৌন্দর্য ও স্নিগ্ধতা, বাঙালি নারীর ব্যক্তিত্ব প্রকাশে তা যুগ যুগ ধরে সহায়ক হয়ে আছে। এই দিকে দৃষ্টি রেখে বলা যায়, পরিধেয়টি রয়ে যাবে কালোত্তীর্ণ ফ্যাশনের খাতায়।
তথ্যসংগ্রহ: লেখক এবং শেখ সাইফুর রহমান
বিশেষ কৃতজ্ঞতা: মনমোহন বসাক, সুশীল বসাক, রঘুনাথ বসাক, বাদল বসাক, রতন বসাক, রাধেশ্যাম নীল কমল বসাক, খোকন বসাক, হরেন্দ্রনাথ বসাক এবং টাঙ্গাইল তাঁতশিল্পে নিয়োজিত শ্রদ্ধেয় কারুশিল্পীবৃন্দ
মডেল: মেহেক, তাবিনদা, এমিলি, শিলা
মেকওভার: পারসোনা
ছবি: হাদী উদ্দীন রাসেল
