skip to Main Content

ত্বকতত্ত্ব I লাবণ্যে লাস্যময়ী

নতুন উপাদানের সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে নিত্যদিন। এবার সেই আসরের মধ্যমণি এক প্রাকৃতিক আশীর্বাদ। খটমট শোনালেও এর স্পর্শে ত্বক হয় কোমল। জাদুর ছোঁয়ার মতোই

ধরণীর নিবেদন অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। করোনাকাল থেকে মূলত এই অধ্যায়ের শুরু। ত্বকের যত্নেও খুঁজে পাওয়া যায় সেই সুর। প্রকৃতির কাছে ফেরা। কপার পেপটাইড নতুন এই তত্ত্বের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কারণ, ত্বকে এর ব্যবহারে নানা উপকারিতা রয়েছে। এটি ফাইন লাইনস ও রিংকেলসের ছাপ কমায় দ্রুত, ইলাস্টিসিটি ধরে রাখে, এমনকি আনইভেন স্কিন টেক্সচার ও টোনকে মসৃণ করে। ন্যাচার’স বোটক্স হিসেবে এই উপাদান সম্প্রতি জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
উপকারিতার তালিকা
কপার পেপটাইড মূলত একটি প্রাকৃতিক উপাদান। খুবই ছোট আকারের প্রোটিন, যা কপার আয়রনের সঙ্গে যুক্ত। মানবদেহের প্লাজমায় এর উপস্থিতি আছে। ত্বকে ব্যবহারে কোলাজেন ও ইলাস্টিন বাড়ায়। ফাইন লাইনস, রিংকেলস, ডার্ক স্পট কমাতে সহায়ক। ত্বকের ক্ষত বা ড্যামেজ সারায় এবং স্কিন টোন ঠিক রাখে। এটি একধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। কোলাজেন প্রমোট করে এবং ইলাস্টিন প্রোডাকশনের বৃদ্ধি ঘটায়। ফাইন লাইনসের ভিজিবিলিটি কমায়। ত্বক সজীব করে তোলে।
কপার পেপটাইডের ক্ষমতা রয়েছে স্কিনের আউটার লেয়ার বা এপিডার্মিসের নিচে কাজ করার। তাই এটি কোলাজেন ও ইলাস্টিন ধরে রাখতে সক্ষম। নিয়মিত ব্যবহারে ফাইন লাইনস ও রিংকেলসের ভিজিবিলিটি কমে; কোলাজেন বাড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত কানেকটিভ টিস্যু রিমুভের পাশাপাশি নতুন টিস্যু তৈরি করে। সান স্পট, অ্যাকনে স্কারস ও আনইভেন টোন কমায়। এতে ত্বক তারুণ্যে উজ্জ্বল হয়।
স্কিন কেয়ার ও মেডিকেল অ্যাপ্লিকেশনে কপার পেপটাইডের কয়েকটি ধরন আছে। এগুলোর মধ্যে জিএইচকে কপার পেপটাইড বেশি পরিচিত। এটি কোলাজেন প্রোডাকশন স্টিমুলেট করে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং ক্ষত সারায়। বেশির ভাগ অ্যান্টি-এজিং স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট, কপার পেপটাইড সিরাম, হেয়ার গ্রোথ ট্রিটমেন্টে এটি ব্যবহৃত হয়। কিছু ফর্মুলেশন আছে, যেগুলো সিনথেটিক কপার পেপটাইড ইনক্লুড করে। এগুলো ল্যাব ইঞ্জিনিয়ারড ভার্সন হয়, যা স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টের স্ট্যাবিলিটি ও অ্যাবজরবেশন বাড়ায়।
কপার পেপটাইড একধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। কোলাজেন প্রমোট এবং ইলাস্টিন প্রডিউসের পাশাপাশি স্কিন থেকে ড্যামেজ কোলাজেন ও ইলাস্টিন রিমুভ করে। ফাইন লাইনসের ভিজিবিলিটি কমিয়ে আনে। স্কিনের আউটার লেয়ারে বা এপিডার্মিসের নিচে কাজ করার সক্ষমতা থাকায় পেপটাইডস স্কিন টিস্যুর ভেতর পর্যন্ত গিয়ে কোলাজেনের ইলাস্টিন ধরে রাখতে পারে।
সাবধানে সমাধান
ত্বকে অতিরিক্ত যেকোনো কিছুর ব্যবহার ক্ষতিকর। ত্বক খুব বেশি সংবেদনশীল হলে কপার পেপটাইড ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দরকার। রেটিনয়েডের চেয়ে জেন্টল; তবু অনেকের ত্বকে র‌্যাশ হয়। অতিরিক্ত ব্যবহারে এই পেপটাইডের কারণে বমিভাব, এমনকি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল ইস্যুও হতে পারে। ব্যবহারের ভুলে সিরিয়াস অর্গান সিস্টেম টক্সিসিটি হওয়াও অসম্ভব নয়।
কপার পেপটাইড নির্দিষ্ট স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টে ব্যবহৃত হয়; ফেস সেরামে যা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। রেটিনয়েড দিনে ভাগ করে ব্যবহার ভালো। নতুন প্রোডাক্ট ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করার পরামর্শ ত্বক বিশেষজ্ঞদের। ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে টোনার অ্যাপ্লাই করে ত্বক প্রস্তুত করে নেওয়া উত্তম। এটি স্কিন কেয়ার রুটিনে যোগ করলে শুরু থেকে সকালে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা মাস্ট। একই সঙ্গে দিন ও রাতে ত্বক আর্দ্র রাখতে নিয়মিত ব্যবহার করা চাই ময়শ্চারাইজার। এই উপাদান ব্যবহারের সময় রেটিনল, ভিটামিন সি, আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড; যেমন গ্লাইকলিক অ্যাসিড এবং এএইচএ যুক্ত কেমিক্যাল পিল ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা চাই।
কপার পেপটাইড এমন এক প্রাকৃতিক উপাদান, যা ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিন বাড়ায়; স্কিনকে ফার্ম, স্মুথ ও প্লাম্পি রাখে। ফাইন লাইনস, রিংকেলস, ডার্ক স্পট ও আনইভেন টোন কমায়। ত্বক-সম্পর্কিত একাধিক সমস্যা কমানোর সক্ষমতা আছে। নিরাপদ এবং বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত হওয়ায় বর্তমানে অনেকে এই উপাদানসমৃদ্ধ প্রোডাক্ট ব্যবহারে আগ্রহী।

 আরফাতুন নাবিলা
মডেল: সিনথিয়া
মেকওভার: পারসোনা
ছবি: জিয়া উদ্দীন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Back To Top